অলিম্পিকে সেরা টাইমিংয়ের লক্ষ্য শিরিনের

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক : অলিম্পিকে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েই ছিল সংশয়। শেষমুহূর্তে ওয়াইল্ড কার্ড পাওয়ায় আর হতাশ হতে হয়নি বাংলাদেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারকে। পূরণ হয়েছে অলিম্পিকে দেশের পতাকা ওড়ানোর স্বপ্ন। এবার ক্রীড়াবিশ্বের সবচেয়ে বড় আসরে নিজেকে উজাড় করে দিতে চান শিরিন। গড়তে চান নিজের সেরা টাইমিংয়ের রেকর্ড।

এবছর ভারতের গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে ১১.৯৯ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করেছিলেন শিরিন। বাংলাদেশের পক্ষে এটাই সেরা টাইমিংয়ের বর্তমান রেকর্ড। অলিম্পিকে নিজের এই রেকর্ডটাই ভাঙতে চান শিরিন। এনটিভি অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘২০০৭ সালে আমি যখন বিকেএসপির ট্র্যাকে প্রথম দৌড়াই, তখন থেকেই ইচ্ছা ছিল শীর্ষে যাওয়ার। অর্থাৎ অলিম্পিকে খেলার।

২০০৭-এ যে লক্ষ্য ঠিক করেছিলাম, সেটা ২০১৬ সালে এসে পূরণ হয়েছে। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমার সেরা টাইমিং ১১.৯৯ সেকেন্ড। যেটা করেছিলাম এসএ গেমসে। অলিম্পিকে চেষ্টা করব এই রেকর্ডটা ভাঙার। অলিম্পিকে সাফল্য পাওয়াটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। তবে আমার পূর্ণ চেষ্টা থাকবে। আর প্রথমত আমার লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।’

এখন অলিম্পিকে খেলার স্বপ্ন পূরণ হলেও অ্যাথলেটিকস ক্যারিয়ার শুরুর সময়ে অবশ্য বেশ প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছিল শিরিনকে। ২০০৭ সালে বিকেএসপিতে সুযোগ পেলেও তাতে সম্মতি ছিল না পরিবারের। কিন্তু তাঁর কান্নাকাটি আর দৃঢ়প্রত্যয়ের মুখে বিকেএসপিতে ভর্তি করাতে অনেকটা বাধ্যই হয়েছিলেন শিরিনের বাবা। শুরুর দিকের সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে শিরিন বলেছেন, ‘প্রথমে আব্বু আমাকে বলেছিলেন, তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি ঠিক আছে, কিন্তু তোমাকে আমি ওখানে ভর্তি করতে নিয়ে যাচ্ছি না। আমি তোমাকে নিয়ে গিয়ে পরিবেশটা দেখিয়ে বাসায় নিয়ে আসব। কিন্তু বিকেএসপির যে মনোরম পরিবেশ, সেটা দেখে বাবা মুগ্ধ হলেন। টিচার-কোচদের কথা, সেখানকার শৃঙ্খলা, থাকার ব্যবস্থা- সবকিছু দেখে বাবা মুগ্ধ হন। তারপরই বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়া।’

সেদিনের সেই সিদ্ধান্তের জন্য আফসোসও করতে হয়নি শিরিনের বাবাকে। এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস, থাইল্যান্ডের পোকে বেস গেম, সাফ জুনিয়র গেম, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন শিরিন। পেয়েছেন দেশের দ্রুততম মানবীর খেতাব। এখন প্রায়ই তাঁর খোঁজে সাংবাদিকরা ভিড় করে বাড়িতে। আর এগুলো তাঁর বাবা বেশ উপভোগ করেন বলে জানিয়েছেন শিরিন, ‘যখন বাবা আমার জন্য পরিচিত হন তখন তিনি খুব গর্ববোধ করেন। আগে আমি ছিলাম বাবার মেয়ে। এখন বাবা আমার জন্য পরিচিত, এখন মানুষ বলে শিরিনের বাবা। এই বিষয়গুলো বাবাকে মুগ্ধ করে।’

অলিম্পিকে অংশ নিতে পারার সুযোগটা এই আনন্দ নিশ্চিতভাবেই আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া রিও অলিম্পিকে শিরিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১০০ মিটার দৌড়ে। এ জন্য নিয়মিত অনুশীলনও করে চলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শিরিন।

Print Friendly, PDF & Email