অলিম্পিক মিশনে ব্রাজিলের হোঁচট

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : অলিম্পিক ফুটবলের শিরোপা জেতার মিশনে নেমে স্বাগতিক ব্রাজিল নিজেদের গ্রপপর্বের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে। নেইমার বাহিনীকে রুখে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সেলেকাওরা।

নিজেদের ফুটবলের ইতিহাসে যা কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পারেননি, সেটিই করে দেখানোর চাপ ছিল ব্রাজিল অধিনায়ক নেইমারের উপর। তবে, সেই চাপকে পাশ কাটিয়ে গোলের দেখা পাননি বার্সেলোনার তারকা এই ফরোয়ার্ড।

এমন কোনো ট্রফি নেই যা ব্রাজিল জেতেনি, শুধু অলিম্পিকের শিরোপা ছাড়া। তবে, পেলে, জিকো, কার্লোস দুঙ্গা, রোমারিও, রোনালদো, রোনালদিনহো, রবার্তো কার্লোসদের দেশটিকে এই অলিম্পিকের আসরে উদ্বোধনী দিনের ম্যাচে প্রোটিয়ারা আটকে দিয়েছে।

ম্যাচের ৬০ মিনিটের মাথায় দ. আফ্রিকার মোথবি মালা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে দশজনের দলে পরিণত হয় প্রোটিয়ারা। আর এই দশজনের বিপক্ষেও ম্যাচের বাকি সময় কোনো গোলের দেখা পায়নি সেলেকাওরা।

কোপা আমেরিকায় গ্রুপ পর্ব থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর কোচ কার্লোস দুঙ্গাকে বরখাস্ত করা হয়। ফলে, অলিম্পিক দলের দায়িত্ব বর্তায় অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ রোজারিও মিকেলের ওপর। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্ব কোপা আমেরিকার শিরোপাও আটবার ঘরে তুলেছে। কনফেডারেশনস কাপ তো আছেই। শুধু তাদের শোকেসে নেই অলিম্পিকের শিরোপা। মিকেলের হাত ধরে আর নেইমারদের পারফর্মে এবার অধরা এই শিরোপা জিততে মরিয়া ব্রাজিল।

এর আগে ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের খুব কাছে গিয়েও, ফাইনালে মেক্সিকোর কাছে হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ হয় নেইমারদের। এবার ব্রাজিলের হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো অলিম্পিকে অংশ নিয়েছেন নেইমার।

এর আগে পর্যন্ত অলিম্পিকে ১২ বার অংশ নিয়ে তিনবার রৌপ্য (১৯৮৪, ১৯৮৮ ও ২০১২ সালে) ও দু’বার ব্রোঞ্জ জিতেছে ব্রাজিল। স্বাগতিক ব্রাজিল এবার কি পারবে অলিম্পিকের আসরে অধরা স্বর্ণ জিতে শিরোপা নিজেদের ঘরেই রেখে দিতে? গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ডেনমার্ক ও ইরাক। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে পরের দুই ম্যাচে জয় সঙ্গী করতে হবে নেইমার বাহিনীর।

Print Friendly, PDF & Email