আরামবাগ ক্লাবে চলছে আনন্দের বন্যা

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : ক্লাবে ঢোকার মুখেই ঝোলানো জোনাকী বাতিগুলো জ্বলছে-নিভছে। তবে দিনের আলো থাকায় সেগুলো অনেকটাই অনুজ্জ্বল। বাতিগুলো যেন সূর্য ডোবার অপেক্ষায়। রাতের আঁধার নামলেই যে তাদের আলো বেশি চোখে পড়বে মানুষের। সিঁড়ি ভেঙ্গে দোতলায় উঠতে হলো গলদঘর্ম হয়ে। সরু সিঁড়ি, এক দল মানুষ উঠছে, আরেক দল নামছে।

যারা উঠছেন তাদের কারো হাতে ফুলের তোড়া, কারো হাতে মিষ্টির প্যাকেট। যারা নামছেন, তাদের মুখে ‘দাওয়াত খাওয়ার’ তৃপ্তি। দোতলার বেলকনিতে দাঁড়ানোর জায়গাও যেন নেই। ভিড় ঠেলে অফিস কক্ষে গিয়ে দেখা গেলো একজন মানুষকে ঘিরেই যেন সব উচ্ছ্বাস। সে মানুষটি আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সভাপতি এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ।

সারিবদ্ধ হয়ে বসা এক ঝাঁক তরুণ ফুটবলার। সামনে বসা ক্লাব সভাপতি খেলোয়াড়দের মুখে মিষ্টি তুলে দেবেন বলেই অপেক্ষা তার। কিন্তু সেই ফুসরত কই তার? একের পর এক মানুষ আসছেন, ক্লাব সভাপতির হাতে ফুল তুলে দিচ্ছেন। তার ফাঁকে ফাঁকে আবার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মিডিয়ার চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। ফটো সাংবাদিকদের ক্যামেরার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তুলছিলেন অনেকে। কখনো কখনো তিনি সেলফির আবদারও মেটাচ্ছিলেন ক্লাব সমর্থকদের।

ফুল, মিষ্টি,সেলফির চাপ কমিয়ে এক সময় খেলোয়াড়দের মুখে মিষ্টি তুলে দিলেন ক্লাব সভাপতি। সুফিল, মোহাম্মদ জুয়েল, আরিফরাও মিষ্টি মুখ করিয়েছেন তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অগ্রণী ভূমিকা পালনকারি অভিভাবককে।

এমন উৎসবমুখর বিকেলে কোথায় যেন একটা অপূর্ণতা ছিল আরামবাগ ক্লাবে। থাকবে না কেন? ইতিহাস তৈরি করা ডাগআউটের রাজা যে ছিলেন না। টানা ৯ মাস দলের সঙ্গে কাজ করে বাড়িতেও যাওয়া হয়নি কোচ মারুফুল হকের। দলকে চ্যাম্পিয়ন করে সকালেই ময়মনসিংহের গাড়ি চেপেছেন দেশের এ অভিজ্ঞ কোচ।

‘অনেক দিন বাড়ি যাননি কোচ। জরুরি একটা কাজ থাকায় তাই গেছেন। চলে আসবেন তাড়াতাড়ি। তিনি তো আগামী মৌসুমেও থাকবেন আমাদের সঙ্গে। সবকিছু পাক্কা। আমাদের অনেক খেলোয়াড়কে প্রলোভন দেখানো হচ্ছে অনেক ক্লাব থেকে। আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করবো পুরোনোদের যত রাখা যায়।’-ফাঁকে ফাঁকে ক্লাবের পরবর্তী লক্ষ্য সম্পর্কেও বললেন আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সভাপতি।

ক্লাবের সভাপতি মমিনুল হক সাঈদ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্থানীয় কাউন্সিলর। রাজনৈতিকভাবে অনেক অর্জন তার। তবে কাল নিজেই বললেন,আরামবাগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ তিনি, ‘এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তরুণ সংগঠক হিসেবে সে অর্জন হলো সেটা আগামীতে কাজ করার উৎসাহ বাড়াবে আমার।’

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ওই সন্ধ্যায় খেলোয়াড়দের কাঁধ থেকে নেমে ঘোষণা দিয়েছিলেন তাদেরকে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ার। কিন্তু ক্লাবে আসার পর পরিমাণ বেড়েছে আরো ২ লাখ। ‘১০ লাখের ঘোষণা দিলেও দিতে হয়েছে ১২ লাখ। খেলোয়াড়রা ক্লাবে এসে দাবি করেছেন আরো দিতে হবে। দুই লাখ বাড়িয়ে দিলাম।’-বলেই হেসে খুন ক্লাবের বস।

Print Friendly, PDF & Email