আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের কাছে হেরে গেল টাইগাররা

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কযদিও ম্যাচটা প্রস্তুতিমূলক, তবু বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ৯ জনই ছিলেন একাদশে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের মূল দল তখন ত্রিদেশীয় সিরিজের আরেক দল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অন্য মাঠে লড়ছে। তবুও আয়ারল্যান্ড উলভসের বিপক্ষে ব্যাট কিংবা বল কোনোভাবেই পাত্তা পেলেন না টাইগাররা। সফরটা তাই শুরু হলো ৮৮ রানের বড় হার দিয়ে।

রোববার (৫ মে) ডাবলিনে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনার জেমস ম্যাককালামের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে ভর করে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩০৭ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। জবাবে মাত্র ২১৯ রানেই গুটিয়ে গেছেন তামিম-লিটনরা।

নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফিকে বিশ্রামে রেখে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সাকিব আল হাসানের কাঁধে। দলে সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্বকাপ  স্কোয়াডের বাইরে থাকা দুই পেসার ফরহাদ রেজা ও তাসকিন আহমেদ। কিন্তু দুজনের পাশাপাশি বাকি পেসারদের ব্যর্থতা আর পরে ব্যাটিং ব্যর্থতায় দলও ডুবেছে।

বিশাল লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালোই হয়েছিল টাইগারদের। ওপেনিং জুটিতে ৫৬ তুলে ফেলেছিলেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। কিন্তু ওখান থেকেই পথ হারানোর শুরু। দলের রান ৫৬ রেখেই বিদায় নেন দুই ওপেনার। আউট হওয়ার আগে তামিমের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান আর লিটন করেন ২৬ রান। দুজনের স্ট্রাইক রেটই ৭০-এর নিচে।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর হাল ধরেন অধিনায়ক সাকিব। ৪৩ বলে ৫৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলার পথে বাউন্ডারি হাঁকান ৭টি আর ছক্কা ১টি। কিন্তু অপরপ্রান্তে উইকেট পতনের মিছিলে তার এমন ইনিংসও কাজে লাগেনি। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান আসে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাট থেকে। 

সাকিবের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি গড়েন রিয়াদ। কিন্তু বাকিদের ব্যাট ব্যর্থতা ছিল চোখে লাগার মতো। যেমন- মুশফিক ২৯ বলে ১১ রান, সাব্বির ২ বলে ০। শেষদিকে ফরহাদের ব্যাট থেকে ১৫ ও তাসকিনের ব্যাট থেকে আসে ১৪ রান। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে গেছে।

আইরিশ বোলার হ্যারি টেক্টর একাই নিয়েছেন ৪ উইকেট। আর ২ উইকেট নিয়েছেন টাইরোনে কেন।

এর আগে ম্যাককালামের সেঞ্চুরি ও সিমি সিংয়ের ৯১ রানের ইনিংসে ভর করে রানের পাহাড় গড়ে স্বাগতিকরা। ১০২ রানের ইনিংস খেলার পথে ১৫টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকান ম্যাককালাম। আর সিমির ৯১ রানের ইনিংসটি ৬টি চার ও ২ ছক্কায় সাজানো। ৭৯ রানে ২ উইকেট হারানো দলটি তৃতীয় উইকেট হারায় ২০৩ রানে গিয়ে। শেষদিকে কেনের ১৩ বলে ২৭ রান ও ইয়ংয়ের ৩ বলে ১২ রানের ইনিংসে ভর করে ৩০০ ছাড়ায় উলভসরা।

বল হাতে বাংলাদেশের সাকিব ছিলেন দুর্দান্ত। এমন রান বন্যার ইনিংসেও ১০ ওভারে ৩০ রান খরচে ১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে রান একটু বেশি খরচ করলেও ৩ উইকেট নিয়েছে তাসকিন। এই ৩ উইকেট তুলে নিতে তিনি ১০ ওভারে ৬৬ রান খরচ করেছেন। ২ উইকেট নেওয়া রুবেল হোসেন ৯ ওভারে দিয়েছেন ৬৩ রান।

৭ মে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে টাইগাররা।

Print Friendly, PDF & Email