ইতিহাস গড়ে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন ম্যানসিটি

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিওনকে উড়িয়ে দিয়ে প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন হলো ম্যানচেস্টার সিটি। তারা ৪-১ গোলে জিতে টানা দ্বিতীয়বার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে নিজেদের ক্লাব ফুটবলে ইতিহাস গড়েছে তারা। আর ২০০৯ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর লিগে প্রথম ক্লাব হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হলো পেপ গার্দিওলার দল। তাদের জয়ে সব চেষ্টাই মাটি হয়েছে লিভারপুলের। ২-০ গোলে উলভসকে হারালেও মাত্র এক পয়েন্টে পিছিয়ে থেকে রানার্স-আপ হলো তারা।

৩৮ ম্যাচ শেষে ৯৮ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ডের রাজত্ব ধরে রাখলো ম্যানসিটি। ২০১২, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের পর চতুর্থবার প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি জিতেছে তারা। দারুণ লড়াইয়ে শুরু থেকে শিরোপার দৌড়ে থাকা লিভারপুল মৌসুম শেষ করেছে ৯৭ পয়েন্ট নিয়ে।  

মাঠে নামার আগে দুই দলের শিরোপার মাঝেও দূরত্ব ছিল মাত্র ১ পয়েন্টের। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের আভাস দিয়ে ইংল্যান্ডের দুই প্রান্তে নেমেছিল ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল। নিজ শহর থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিওনের মাঠে নামতে হয়েছে সিটিজেনদের, আর ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে উলভসকে স্বাগত জানায় লিভারপুল।

শুরুতে দুইবার বড় ধাক্কা খায় ম্যানসিটি। ১৭ মিনিটে সাদিও মানে লিভারপুলকে এগিয়ে দিলে প্রথম দুঃসংবাদ শোনে তারা। এর ১০ মিনিট পর তাদের জালে বল জড়িয়ে উল্লাসে মাতে ব্রাইটন। ২৭ মিনিটে প্যাসকেল গ্রসের অ্যাসিস্টে কাছের পোস্ট থেকে গ্লেন মারের দুর্দান্ত হেডে এগিয়ে যায় তারা। কিন্তু পরের মিনিটে ঘুরে দাঁড়ায় ম্যানসিটি। ২৮ মিনিটে দাভিদ সিলভার কর্নার থেকে বাঁ দিকে বল পায়ে পান সের্হিও আগুয়েরো। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ম্যাথু রায়ানের পায়ের ফাঁক দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। পরের মিনিটে বের্নার্দো সিলভার ডাইভিং হেড রুখে দিয়ে ম্যানসিটির ব্যবধান দ্বিগুণ হতে দেননি ব্রাইটন গোলরক্ষক।

সমতা ফিরিয়ে ক্ষান্ত হয়নি ম্যানসিটি। ৩৭ মিনিটে রিয়াদ মাহরেজের শট রায়ান মাঠের বাইরে পাঠালে কর্নার পায় ম্যানসিটি। মাহরেজই নেন কর্নার, উঁচুতে উড়ে আসা বলটি সামনের দিকে এগিয়ে লক্ষ্যভেদী হেড করেন আইমেরিক লাপোর্তে। ফরাসি ডিফেন্ডারের ৩৮ মিনিটের গোলে ২-১ এ এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সিটিজেনরা।ম্যাচের সময় এক ঘণ্টা পেরোতে আরও এগিয়ে যায় ম্যানসিটি। ৬৩ মিনিটে দাভিদ সিলভার বাড়িয়ে দেওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের শটে তৃতীয় গোল করেন মাহরেজ। ২৫ গজ দূর থেকে বাঁকানো ফ্রি কিকে চমৎকার গোল করেন ইকে গুন্ডোগান। ৭২ মিনিটের এই গোলের পর নিশ্চিন্তে বাকি সময় কাটিয়েছে ম্যানসিটি।

অ্যানফিল্ডে নিজেদের কাজ ঠিকভাবে করেছে লিভারপুল। প্রথম গোলদাতা মানে ৮১ মিনিটে আরও একবার লক্ষ্যভেদ করেন। জিতলেও ম্যানসিটির কাছে পিছিয়ে থেকে শিরোপার স্বাদবঞ্চিত হলো তারা। এদিকে শেষ ম্যাচে লিস্টার সিটির মাঠে গোলশূন্য ড্র করেছে চেলসি। অবশ্য এভারটনের কাছে টটেনহাম হটস্পার ২-২ গোলে ড্র করায় তিনেই থাকলো ব্লুরা। ৭২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়েছে চেলসি। এক পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে চারে স্পাররা (৭১)।

পিয়েরে এমেরিক অবেমেয়াংয়ের জোড়া লক্ষ্যভেদে আর্সেনাল ৩-১ গোলে বার্নলির মাঠে জিতলেও পরের মৌসুমে সরাসরি চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ৭০ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে তারা। এখনও তাদের সামনে সুযোগ আসে পরের চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিট পাওয়ার, এজন্য ইউরোপা লিগে চ্যাম্পিয়ন হতে হবে গানারদের। টানা চার ম্যাচ জয়ের মুখ দেখতে পায়নি ম্যানইউ, এই দুঃখ ভুলতে শেষ ম্যাচে জিততে চেয়েছিল তারা। কিন্তু হারের তেতো স্বাদ নিয়ে মৌসুম শেষ করলো উলা গুনার সুলশারের দল। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তাদের ২-০ গোলে হারিয়েছে কার্ডিফ সিটি।

এবারের গোল্ডেন বুট ভাগাভাগি করেছেন তিন জন- ২২ গোল করে যৌথভাবে এই মৌসুমের শীর্ষ গোলদাতা লিভারপুলের সালাহ ও মানে এবং আর্সেনালের অবেমেয়াং। 

Print Friendly, PDF & Email