ক্লাসেন-ডুমিনি ঝড়ে ভারতকে হারিয়ে সমতায় দ. আফ্রিকা

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : ঘরের মাঠে অবশেষে স্বমহিমায় ফিরলেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। সিরিজ বাঁচাতে উপায়ও ছিলো না। নইলে যে ওয়ানডের মতো টি২০ সিরিজও খোয়াতে হতো স্বাগতিকদের। আর তাতে কেবল দীর্ঘশ্বাসই বাড়তো। তবে শেষ পর্যন্ত তা হতে দেননি ক্লাসেন-ডুমিনিরা।

সফরকারী ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি২০-তে ৬ উইকেটে জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতে তিন ম্যাচ সিরিজের সমতায় ফিরলো স্বাগতিকরা।

সেঞ্চুরিয়ানে টস জিতে সফরকারীদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান প্রোটিয়া অধিনায়ক জে পি ডুমিনি। শুরুতের রোহিত শর্মার উইকেট খোয়ায় সফরকারীরা। ওয়ানডাউনে নামা সুরেশ রায়নার সঙ্গে জুটি না গড়তেই ব্যক্তিগত ২৪ রানে বিদায় নেন আরেক ওপেনার শেখর ধাওয়ান।

ক্রিজে আসেন ‘রান মেশিন’ বিরাট কোহলি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এই প্রথম দুই অঙ্কের ঘরে না পৌঁছাতেই মাত্র ১ রানে বিদায় নেন টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ফরম্যাটের র‌্যাকিংয়ে শীর্ষে থাকা এ ব্যাটিং জিনিয়াস। তাতে ৪৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। 

এ অবস্থায় ক্রিজে নামা মনিষ পান্ডে সুরেশ রায়নার সঙ্গে জুটি বেঁধে দলীয় স্কোর নিয়ে যান ৯০ রানে। বহুদিন পর দলে স্থান পাওয়া রায়নার ব্যাট এদিন হাসলেও (২৪ বলে ৩১) তা বড় স্কোরের দিকে টেনে নিতে পারেন নি। দলীয় ৯০ রানে রায়নাকে হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়া ভারতকে টানতে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন ‘মি. কুল’ ধোনি। মূলত এরপরই পাল্টে যায় ভারতের ইনিংসের ব্যাটিং চিত্র।

একপ্রান্তে ধোনি অপর প্রান্তে মনিষ পান্ডে সপাটে ব্যাট চালাতে থাকলে সফরকারীদের সংগ্রহ তরতর করে বাড়তে থাকে। তাকে ৪ উইকেট হারিয়ে স্কোর দাঁড়ায় ১৮৮ রানে। 
শেষ পর্যন্ত ৩ ছক্কা ও ৪ চারে ২৮ বলে ধোনির ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৫২ রান। টি২০-তে এটি তার দ্বিতীয় অর্ধশতক। আর ৩ ছক্কা ও ৬ রানের ৪৮ বল খেলা পান্ডের ব্যাট থেকে আসে ৭৯ রান। মাত্র ১৭ ম্যাচ খেলা পান্ডেরও এটি দ্বিতীয় অর্ধশতক।তাদের দুই জনের অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে ৯.২ ওভারে আসে ৮৮ রান।

দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বোচ্চ দু’টি উইকেট নিয়েছে ডালা। একটি করে উইকেট নিয়েছেন ডুমিনি ও ফেলুকওয়ায়ো।

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩৮ রানেই দুই ওপনারকে খোয়ায় স্বাগতিকরা। কে ভেবেছিলো চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা হেনরিক ক্লাসেন সফরকারীদের স্বপ্নভঙ্গের কারণ হবেন। 

ক্রিজে এসেই তাণ্ডব চালাতে শুরু করেন ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় টি২০ খেলতে নামা ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। মাত্র ৩০ বলে ৭ ছক্কা ও ৩ চারে ৭৯ রানে তিনি যখন সাজঘরে ফেরেন তখন প্রোটিয়াদের জয়ের পথটা অনেকটা সুগম হয়ে যায়। কারণ অপরপ্রান্তে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট চালাচ্ছিলেন অধিনায়ক ডুমিনি।

ক্লাসেনের ফেরার পর মিলার দ্রুত সাজঘরে ফিরলে দক্ষিণ আফ্রিকার আকাশে ফের মেঘ জমতে থাকে। তবে বেহারডিনকে নিয়ে বাকি কাজটা সারেন ডুমিনি। ৩ ছক্কা ও ৪ চারে ৪০ বলে অপরাজিত ৬৪ রানে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যখন ড্রেসিংরুমে ফেরেন তখনও ইনিংসের ৮ বল বাকি। তাতে ৬ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।

ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ দু’টি উইকেট পেয়েছেন উনাদকাট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন হারদিক পান্ডে ও অভিষিক্ত এসএন ঠাকুর।

ভারতীয় বোলারদের উপর তাণ্ডব চালিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন হেনরিক ক্লাসেন। আগামী রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কেপ টাউনের নিউল্যান্ডসে হবে তৃতীয় ও শেষ টি২০।

Print Friendly, PDF & Email