হারার পরও কোচ হাস্যউজ্জল! জেমি ডে সুস্থ তো? সোহেলদের পক্ষেই কথা বললেন

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কজেমি ডে-কে দেখে বোঝার উপায় নেই সাফ ফুটবল থেকে বাংলাদেশ নেপালের কাছে হেরে বিদায় নিযেছে! অন্তত তাঁর হাসিমুখ ও গলায় শিষ্যদের প্রশংসা শুনে বোঝার উপায় নেই নেপালের বিপক্ষে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশে। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর দিকে ধেয়ে যাওয়া প্রশ্নগুলো ‘ক্লিয়ার’ করলেন পাক্কা ডিফেন্ডারের মতো।

কোনো খেলোয়াড় নিয়েই তাঁর কোন অভিযোগ নেই। বরং সব জায়গাতেই দেখছেন উন্নতির লক্ষণ। আফসোস বলতে দুই ম্যাচ জিতেও সেমিফাইনাল না খেলতে পারা, ‘বিষয়টা খুবই হতাশার। প্রথম দুটি ম্যাচ জিতেও সেমিফাইনাল খেলা হচ্ছে না। তবে টানা দুটি ম্যাচ জয়ও কম নয়। শেষ ১০ বছর আগে হয়তো টানা দু ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ (আসলে ২০১৫ এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের বাছাইপর্বে)।’

সেমিফাইনাল খেলতে ন্যূনতম ড্র প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। ম্যাচের ৩০ মিনিট পর্যন্ত বল দখলের লড়াইয়ে ভালো এগিয়েও ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ৩২ মিনিটে গোলরক্ষক সহুদুল আলম সোহেলের হাস্যকর ভুলে গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েন জেমি ডের শিষ্যরা। পরে আর সমতায় ফেরার মতো পারেননি খেলতে। প্রশ্নটা অবধারিতই ছিল বাংলাদেশ কোচের কাছে। সোহেলের এমন একটি ভুলের পরও শিষ্যর মাথায় ছাতি ধরলেন ব্রিটিশ কোচ, ‘হ্যাঁ, সোহেলের বাজে গোলটি ম্যাচে প্রভাব ফেলেছে। এটা হতেই পারে।’

কিন্তু এমন ভুল আজ প্রথম করলেন সোহেল, তা নয়। কয়েক দিন আগে নীলফামারীতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও বাজে গোল হজম করেই ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবুও বারবার সোহেলকে কেন একাদশে সুযোগ দেওয়া, যেখানে এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত খেলার পরও বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছে আশরাফুল রানাকে? উত্তরটা যেন তৈরিই ছিল জেমির, ‘এশিয়ান গেমসে রানাও অনেক ভুল করেছে। আজ রানা এখানে থাকলে সেও ভুল করতে পারত। তাহলে একই আলোচনাই হতো।’

ঘরের মাঠে দর্শক হয়ে গেল বাংলাদেশ। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও ছেলেদের প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন, ‘শেষ ১৬ ম্যাচে আমরা অনেক উন্নতি করেছি। আমাদের উন্নতি করার আরও জায়গা আছে। আমরা এখন জিততে শিখেছি। এই ইতিবাচক দিকগুলো নিয়েই আমাদের সবাইকে বেশি ভাবতে হবে। আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত।’ 

Print Friendly, PDF & Email