গর্ডনের সঙ্গে মাশরাফিদের স্মরণীয় দিন

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কমাশরাফি যখন গর্ডন গ্রিনিজের হাতে জার্সি তুলে দিচ্ছিলেন, পেছন থেকে মুশফিক উচ্চস্বরে বললেন, ‘কী ভাই, অভিষেক জার্সি তুলে দিচ্ছেন নাকি?’ চারপাশে ক্রিকেটারদের মধ্যে হাসির রোল উঠলো। গ্রিনিজ কিছু বুঝলেন কিনা কে জানে! তবে তিনিও হেসে সবার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলেন। ঠিক এমন হাসি- আনন্দেই মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাবেক কোচকে স্বাগত জানালেন ক্রিকেটাররা।

ক্যারিবীয় গ্রেট গ্রিনিজের হাত ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্যের পথে যাত্রা। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয় এবং দুই বছর পর বিশ্বকাপে পাকিস্তান-বধ তার কোচিংয়েই। তবে তিনি যখন ছিলেন, তখন বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামো তেমন ভালো ছিল না। তখনও ‘হোম অব ক্রিকেট’ খ্যাত মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের অধিকার পায়নি বিসিবি।

মাঠের পারফরম্যান্সের মতো ক্রিকেট অবকাঠামোরও অনেক উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। কতটা উন্নতি, তা স্বচক্ষে দেখলেন গ্রিনিজ। বুধবার মিরপুরে এসে প্রশাসনিক ভবন, ড্রেসিংরুম, গ্যালারি, মাঠ, একাডেমি ভবন, একাডেমি মাঠ, জিমনেসিয়াম ঘুরে দেখেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ওপেনার।

স্টেডিয়ামের গেটে গ্রিনিজকে স্বাগত জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী এবং পরিচালক এনায়েত হোসেন সিরাজ। তাদের সঙ্গে ছিলেন দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমন। প্রথমে প্রধান নির্বাহীর কক্ষে কিছুক্ষণ সময় কাটান গ্রিনিজ। এসময় তার হাতে একটি স্মারক তুলে দেন নিজামউদ্দিন চৌধুরী।

অনুশীলন শেষ হওয়ার পর একাডেমি মাঠে গ্রিনিজের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মাশরাফি-মুশফিক-তামিমরা। প্রথমেই টাইগারদের পক্ষ থেকে  ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরপর জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সই করা ক্যাপ ও জার্সি উপহার দেওয়া হয় ১৯৯৯ বিশ্বকাপের কোচকে। ক্যাপ হাতে তুলে দিয়েছেন মুশফিক, আর জার্সি মাশরাফি।

ক্রিকেটারদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কাটিয়েছেন গ্রিনিজ, উৎসাহ দিয়েছেন তাদের। প্রশ্ন করেছেন, ‘তোমাদের পরবর্তী খেলা কোথায়?’ মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে ভারতে আফগানিস্তান সিরিজ  এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের কথা শুনে শুভকামনার পাশাপাশি পরামর্শও দিয়েছেন গ্রিনিজ, ‘ভারত আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেখানেই খেলো, তোমাদের জন্য আমার শুভ কামনা রইলো। ভালো ক্রিকেটার হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ক্রিকেটের প্রতি মনোযোগ। ব্যাটসম্যানরা দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করার চেষ্টা করবে, বোলার লাইন-লেন্থ নিয়ন্ত্রণ করে বল করবে। আসল কথা হলো ক্রিকেটের প্রতি ফোকাস। এটা খুবই জরুরি। কঠোর পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই।’

গ্রিনিজের মতো ক্রিকেট-মহীরুহকে কাছে পেয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ রোমাঞ্চিত। জাতীয় দলের তরুণ অলরাউন্ডারের কথা, ‘উনি যখন বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন, তখন আমি অনেক ছোট। উনার অনেক গল্প শুনেছি। আজকে তিনি আমাদের অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার কথা বার বার বলেছেন। উনার মতো একজন ক্রিকেটারের পরামর্শ পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

মিরপুরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাটিয়ে গ্রিনিজও অভিভূত। স্টেডিয়াম থেকে যাওয়ার আগে তিনি বললেন, ‘আবার আসবো বাংলাদেশে। এখানেও (হোম অব ক্রিকেট) আসবো। বাংলাদেশ তো আমার নিজের দেশই।’

ভুল বলেননি গর্ডন গ্রিনিজ। তিনি তো বাংলাদেশের ‘নাগরিক’। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি এনে দেওয়ার পর তাকে বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট দিয়ে সম্মান জানিয়েছিল তৎকালীন সরকার। এবার বাংলাদেশ ছাড়ার আগে সেই পাসপোর্ট নবায়ন করে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email