চেনা মাঠে হারে শুরু হাথুরুর শ্রীলঙ্কা মিশন

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : মিরপুরের এই মাঠে কতই না তার জয় উৎসবের স্মৃতি। পেশাদারি ক্যারিয়ারের নতুন মিশনটাও হয়তো সেই রঙিন আলোতে উপভোগের অপেক্ষায় ছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। কিন্তু সব উপলক্ষই যে মাটি করে দিলো জিম্বাবুয়ে! বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে সিরিজ শুরু করা আফ্রিকান দেশটি হারিয়ে দিয়েছে হাথুরুসিংহের শ্রীলঙ্কাকে।

নিজের দেশের কোচিং মিশন তাই হারে শুরু হলো হাথুরুসিংহের। থিসারা পেরেরার (৩৭ বলে ৬৪) দুর্দান্ত ইনিংসটাও বাঁচাতে পারেনি শ্রীলঙ্কার ১২ রানের হার। মিরপুরের শততম ওয়ানডে ম্যাচে জিম্বাবুয়ের নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে করা ২৯০ রানের জবাবে লঙ্কানরা ৪৮.১ ওভারে অলআউট হয়ে যায় ২৭৮ রানে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে বাজেভাবে হেরে শুরু হয়েছিল জিম্বাবুয়ের ত্রিদেশীয় সিরিজ। ৮ উইকেটের হারের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার মিশনে সামনে পায় ‘প্রিয়’ প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কাকে। গত বছর এই লঙ্কানদের তাদেরই মাঠে ওয়ানডে সিরিজ হারিয়ে এসেছিল জিম্বাবুয়ে। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এটাই ছিল আফ্রিকার দেশটির সেরা সুযোগ। সেটা কাজে লাগাতে ভুল করেনি, ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা সিকান্দার রাজার হার না মানা ৮১ রানের ইনিংসের পর বল হাতে জ্বলে ওঠেন টেন্ডাই চাতারা; এই পেসারের শিকার ৪ উইকেট। তার সঙ্গে কাইল জারভিস (২/৫৬) ও গ্রায়েম ক্রেমারের (২/৬২) বোলিংয়ে ২৭৮ রানে শেষ হয় শ্রীলঙ্কার ইনিংস।

ভারত সফরে ভীষণ খারাপ সময় কাটিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ থেকে হাথুরুসিংহেকে ‘ছিনিয়ে’ নিয়ে নতুন শুরুর স্বপ্ন ছিল তাদের। যদিও জিম্বাবুয়ের ধাক্কায় হতাশা আরও বাড়লো দ্বীপ দেশটির। যে মাঠে দীর্ঘদিন কোচিং করিয়ে গেছেন বাংলাদেশকে, যে পিচের আচরণ তার নখদর্পণে, সেই মিরপুরে হতাশায় শুরু হলো হাথুরুর লঙ্কা মিশন।

বাংলাদেশের সাবেক কোচকে সবচেয়ে হতাশ করেছেন তার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। কুশল পেরেরা দারুণ ইনিংস খেললেও হতাশ করেছেন উপুল থারাঙ্গা ও ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে দলে সুযোগ পাওয়া কুশল মেন্ডিস। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ইনিংস শুরুর পর জারভিসের আঘাতে থারাঙ্গা ফেরেন ১১ রান করে। কুশল মেন্ডিস তো রানের খাতাই খুলতে পারেননি, চাতারার প্রথম শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন শূন্য হাতে।

শুরুর ওই ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছিল শ্রীলঙ্কা কুশল পেরেরা ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের ব্যাটে। তাদের ৮৫ রানে জুটিতে জয়ের পথও তৈরি হয় লঙ্কানদের। যদিও হাফসেঞ্চুরিয়ান কুশল পেরেরা আউট হওয়ার পর হিসাব পাল্টে যায়। এই ওপেনার ৮৩ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় খেলে যান ৮০ রানের কার্যকরী ইনিংস। তার আউটের পর অধিনায়ক ম্যাথুজের দায়িত্ব বেড়ে যায় আরও। কিন্তু প্রত্যাশার চাপটা নিতে পারলেন না, ৪২ রানে আউট হয়ে সমীকরণ আরও কঠিন করে দিয়ে যান এই অলরাউন্ডার।

তবু লঙ্কানদের আশা টিকিয়ে রেখেছিলেন দিনেশ চান্ডিমাল। হাথুরুসিংহের অধীনে নতুন শুরুর কথাও শোনা যাচ্ছিল তার। ব্যাটিংয়ে শুরুতে সেই আভাসও গিয়েছিল পাওয়া। যদিও তার ৩৪ রানের ইনিংস থামার পর হতাশায় ছেয়ে যায় শ্রীলঙ্কার আকাশ। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে হতাশার সেই কালো ছায়া সরিয়ে শ্রীলঙ্কা শিবিরে উল্টো জয়ের সুবাতাস ছড়িয়ে দেন থিসারা পেরেরা। জিম্বাবুয়ের মনে ভয় ছড়িয়ে তুলে নেন ঝড়ো হাফসেঞ্চুরি। চার-ছক্কার ফুলঝুড়িতে চমৎকার এক ইনিংস খেললেও জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। ৩৭ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় সাজানো তার ৬৪ রানের ইনিংসটা ‘অর্থহীন’ করে দিলো জিম্বাবুয়ে ১২ রানের অসাধারণ এক জয় তুলে নিয়ে।

Print Friendly, PDF & Email