তুষার ইমরানের নতুন রেকর্ড

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কহ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন বৃহস্পতিবার বিকেলে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে। চোট বাধা হয়নি তুষার ইমরানের সামনে। সিলেটে পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে তৃতীয় দিনে অপরাজিত ছিলেন ৪৬ রানে।

পায়ে ব্যথা নিয়েই ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন। চতুর্থ দিনে মধ্যাহ্ন বিরতির খানিক আগে আহত হয়ে ফিরে এসেছেন ড্রেসিংরুমে। তবে এর আগে করে এসেছেন ১০৩ রান। এই ইনিংসেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৩তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি পেয়েছেন। তৃতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা তিন ইনিংসে সেঞ্চুরির রেকর্ডটাও হলো সেই সঙ্গে।

চোট নিয়ে কীভাবে সম্ভব হলো তিন অঙ্ক ছোঁয়া, সিলেট থেকে সেটিই মুঠোফোনে বলছিলেন তুষার, ‘শত কষ্ট হলেও যদি দুই ঘণ্টা ব্যাটিং করতে পারি, তাহলে সেঞ্চুরি করতে পারব, সেভাবেই খেলেছি। চোটের কারণে তিন রানের জায়গায় দুই নিয়েছি, দুইয়ের জায়গায় এক। সেঞ্চুরি করলে ভালো লাগে। তবে জানতাম না, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক করেছি।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএলে) চার ম্যাচে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৬ ইনিংস। এই ৬ ইনিংসের চারটিতেই পেয়েছেন সেঞ্চুরি। ১১১.৬০ গড়ে রান ৫৫৮। বয়স হয়ে গেছে ৩৪। ক্যারিয়ার সায়াহ্নে ধারাবাহিক দ্যুতি ছড়ানোর রহস্য কী, প্রশ্নটা প্রায়ই শুনতে হচ্ছে তুষারকে।

‘উপমহাদেশে অনেক ব্যাটসম্যান আছেন যেমন: মাহেলা জয়াবর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারা, মিসবাহ-উল-হক, ইউনিস খান তাঁদের দেখে অনেক কিছু শিখেছি। প্রায় প্রত্যেকেই ৪০ পেরোনোর পরও খেলেছেন।

আমি এখনো অন্তত তিন বছর চালিয়ে যেতে চাই। ৪০ পেরোনোর পর সিদ্ধান্ত নেব কী করব। ফিটনেস হচ্ছে ২২ গজের ভেতরের ব্যাপার। আপনি যদি রান করেন, ফিটনেসের বিষয়টা এমনিই চলে আসে। আর যদি রান না করেন, পেছন থেকে কথা হবে, নিজের কাছেও খারাপ লাগবে।

রান করলে বয়স কোনো ব্যাপার না। রান যেকোনো বয়সে করা যায়। ৩০-এর পরে ব্যাটসম্যানদের অভিজ্ঞতা বাড়ে’ তুষারের ধারাবাহিক ভালো খেলার রহস্য এতটুকুই।

তুষার জাতীয় দলে সবশেষ খেলেছেন ২০০৭ সালে। দরজাটা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও আশা হারাচ্ছেন না তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভালো খেললে নির্বাচকেরা একটা সুযোগ করে দেবেনই, এ আশা নিয়েই এগোচ্ছেন তুষার, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে গত দুই বছর যেভাবে রান করছি, একটা সুযোগ নির্বাচকেরা দিতে পারেন। আমি চেষ্টা করছি। রান করলে কারও সহানুভূতি লাগবে না। রান করতে থাকলে একটা সুযোগ দিতে পারেন নির্বাচকেরা।’

Print Friendly, PDF & Email