দুটি ডাবল সেঞ্চুরিতে মুশফিকের ইতিহাস

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কসেই ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিটি হাঁকিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। এরপর গত বছর ওয়েলিংটনে করেন ১৫৯ রান। এর মাঝে তার হয়ে সেভাবে ব্যাট আর কথা বলেনি। অবশেষে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেলেন মুশফিক। সিকান্দার রাজার ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে ডাবল সেঞ্চুরি পূরণ করেছেন সাবেক অধিনায়ক।

উইকেটকিপার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটেও ইতিহাস গড়ে ফেললেন এর মধ্য দিয়ে। প্রথম উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন মুশফিক। একই সঙ্গে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবেও দুটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক মুশফিকুর রহিম। 

প্রথম সেশনে ধীর-স্থির থাকলেও দ্বিতীয় সেশনে দ্রুত রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের এই সেশনে প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড়ে চড়েছে বাংলাদেশ। ৭ উইকেটের বিনিময়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫০১ রান। তার সঙ্গে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মিরাজ।

দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন নির্বিঘ্নে শুরু করেছিলো মুশফিকরা। প্রথম সেশনে প্রতিরোধ দিয়ে খেলেন মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মধ্যাহ্ন ভোজনে যাওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ছিলো ৫ উইকেটে ৩৬৫ রান।

প্রথম সেশনে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ দিয়ে খেললেও দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে মনোযোগ হারিয়ে বিদায় নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আবারও খোঁচা মারতে গিয়ে বলি হলেন অধিনায়ক রিয়াদ। বিদায় নেন ৩৬ রান করে। এরপর দায়িত্ব জ্ঞানহীন শট খেলে বিদায় নেন আরিফুল হকও।

মুশফিকুর রহিম নির্ভরতার প্রতীক হয়েই ব্যাট করেছন। দ্বিতীয় দিন অস্বাভাবিক আচরণ করা শুরু করেছে পিচ। এমন বৈপরীত্যের মাঝেও প্রথম সেশনে দুই ব্যাটসম্যানের ধৈর্য ছিলো। ৩০ ওভারে এই সেশনে রান এসেছে ৬২। জুটি থেকে আসে ৭৩ রান।

অথচ বিরতির পর পেসার কাইল জার্ভিসের বাইরের লেন্থের বল অযথা খোঁচা মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে দেন উইকেটকিপারকে। ১১০ বল খেলা মাহমুদউল্লাহর ইনিংসের ইতি ঘটে ৩৬ রানে। তারপর নতুন নামা আরিফুল অযথা শট খেলে জার্ভিসের বলে পয়েন্টে ধরা পড়েছেন ব্রায়ান চারির হাতে। ১৮ বল খেলা আরিফুল হকের সংগ্রহ ছিলো ৪ রান।

মেহেদী হাসান মিরাজ নামলে দ্রুত গতিতে স্কোর বোর্ডে রান জমা করতে থাকেন মুশফিকুর রহিম। ব্যাট করছেন ২০৯ রানে রানে। মিরাজও দ্রুত গতিতে রান তুলছেন। ক্রিজে আছেন ৬০ রানে।

এদিন অবশ্য শততম ওভারে জিম্বাবুয়ের জন্যে আচমকা ধাক্কা হয়ে আসে চাতারার ইনজুরি। রান আপ শুরু করে মাঝ পথেই দৌড় থামিয়ে দেন পায়ে টান পড়ে যাওয়ায়। অবস্থা শোচনীয় হওয়ায় তাকে দ্রুত স্ট্রেচারে করে মাঠ থেকে বের করে আনা হয়। তার বদলে ওভার শেষ করেন তিরিপানো। পরে জানা যায় গ্রেড ২ মাত্রার চোট নিয়ে ছিটকে গেছেন পুরো ম্যাচ থেকেই!

Print Friendly, PDF & Email