ধর্ষণের প্রতিবাদ মানববন্ধনে সবাই এলেন, আসেনি কোন ভারোত্তোলক!

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : একজন নারী ভারোত্তোলককে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠকরা; কিন্তু মানববন্ধনে ছিলেন না ভারোত্তোলনের কেউ। না ফেডারেশনের কোনো কর্মকর্তা, না কোনো কোচ, না কোনো খেলোয়াড়-ভারোত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকেই দেখা যায়নি সকাল ১১ টায় হওয়া ওই মানববন্ধনে!

একজন সতীর্থকে যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে নারী ভারোত্তোলকরাই বেশি উপস্থিত হবেন- এমনটিই মনে করা হয়েছিল। ভারোত্তোলনের কেউ না থাকার বিষয়টিই ছিল মানববন্ধনের সবচেয়ে আলেচিত বিষয়।

কেন আসেননি কোনো ভারোত্তোলক? এমন প্রশ্নের জবাবে মানববন্ধনের প্রধান উদ্যোক্তা, সাবেক ব্যাডমিন্টন তারকা ও মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদিকা কামরুন নাহার ডানা বলেন, ‘আমি সবাইকে বলেছি। কেন আসেননি সেটা তারাই বলতে পারবেন।’

মানববন্ধনে দেখা যায়নি বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কাউকেও। একজন নারী ক্রীড়াবিদ যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার পর মেয়েদের নিয়ে কাজ করা এ সংস্থা অফিসিয়ালি কোনো প্রতিবাদও জানায়নি। এ নিয়ে উপস্থিত অনেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মানববন্ধনে নারী ক্রীড়াবিদ ও নারী সংগঠকদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সে হিসেবে পুরুষদের উপস্থিতিই ছিলো বেশি।

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক দুই অধিনায়ক এএসএম রকিবুল হাসান, গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়া, ক্রিকেট কোচ ও লেখক জালাল আহমেদ চৌধুরী, সাবেক দুই ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলু, আবদুল গাফফার, বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান বাবুল, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আসিফুল হাসান, নারী কুস্তিগীর শিরিন সুলতানা, সাবেক নারী ফুটবলার রেহানা পারভীন, হ্যান্ডবল কোচ কামরুল ইসলাম কিরণ, সাবেক বক্সার আবদুল হালিম যোগ দিয়েছিলেন এ মানববন্ধনে।

সবাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন। সে সঙ্গে প্রত্যেকটি ক্রীড়া ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটিতে ৩০ ভাগ নারী প্রতিনিধির নিশ্চয়তারও দাবী করেছেন তারা। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির এমন একটা নির্দেশনা থাকা সত্যেও বাংলাদেশে তা মানা হয় না। অনেক ফেডারেশনই আছে যাদের নির্বাহী কমিটিতে একজনও নারী নেই।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮ বছরের একজন নারী ভারোত্তোলক ফেডারেশনের অফিস সহকারী সোহাগ আলী দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে বলে ওই নারী ভারোত্তোলকের মামা নাজমুল হক লিখিত অভিযোগ করেন। আর ধর্ষণে সহায়তা করেছেন উন্নতি বিশ্বাস নামের আরেক নারী ভারোত্তোলক ও আ. মালেক নামের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এক অফিস সহায়ক।

এ নিয়ে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশন ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভিন্ন ভিন্ন দুটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছেন। যৌন নিপীড়নের শিকার মেয়ের মা সালমা আক্তার বাদী হয়ে কয়েকদিন আগে পল্টন থানায় সোহাগের নামে ধর্ষণ মামলা করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email