ধারাভাষ্যকার কুমার কল্যাণকে প্রাণনাশের হুমকি দিলেন যশোর ডিএফএ সভাপতি মিঠু! শুনুন অডিও

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক যশোর ডিস্ট্রিক্ট ফুটবল এ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফএ) সভাপতি আসাদুজ্জামান মিঠুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। টিভি ও বেতারের জনপ্রিয় ক্রীড়াভাষ্যকার কুমার কল্যাণকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ।

এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে মিঠুর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেছে কমেন্টেটর্স এ্যাসিয়েশন অব রংপুর ডিভিশন এবং বাংলাদেশ ফুটবল সাপোর্টার্স ফোরাম। ঘটনার সূত্রপাত কল্যাণের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে। গত ৪ মে ঢাকা আবাহনীর ক্লাব প্রাঙ্গণে একটি স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে আবাহনী সমর্থকগোষ্ঠী।

এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মিঠু। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আবাহনীর সাবেক ও প্রয়াত বিভিন্ন খেলোয়াড়-সংগঠককে স্মরণ করা হয়। আমন্ত্রণপত্র কদিন আগে থেকেই ফেসবুকে চলে আসে। সেখানে প্রয়াত খেলোয়াড়দের নাম ও ছবির যে তালিকা ছাপা হয়, তাতে ছিল না ২০০৫ সালে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করা কালজয়ী ফুটবলার মোনেম মুন্নার নামটি!

                   সাদা পাঞ্জাবী পরিহিত তিনিই সেই মিঠু…..অপর জন কুমার কল্যান

আর এ বিষয়টি নিয়েই গত ৩ মে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি নাতিদীর্ঘ পোস্ট করেন কল্যাণ। যাতে মুন্নার নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এছাড়া যশোরের ফুটবলের দূরাবস্থা নিয়ে ধারাভাষ্যে কথাও বলেন। উল্লেখ্য, কল্যাণও যশোরের অধিবাসী।

এর প্রেক্ষিতে ৪ মে বার মিঠু কল্যাণকে ফোন করেন তাকে অশ্লীল গালিগালাজ করার পাশাপাশি যশোর ঢুকলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেন। মিঠু-কল্যাণের ফোনালাপের সেই অডিও রেকর্ড এখন ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যাওয়াতে ক্রীড়ামোদীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।  

এদিকে এক সাক্ষাতকারে মিঠু তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, ‘কল্যাণের সঙ্গে ৪ মে আমার ফোনে কথা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু তাকে আমি হুমকি দিইনি এবং গালিগালাজও করিনি। এসব মিথ্যা অভিযোগ। কল্যাণ বিশেষ কোন হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন।’

উল্লেখ্য, এর আগেও এই মিঠু অনেক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। গত জানুয়ারির শেষদিকে যশোরে নিয়ে গিয়ে সংবর্ধবনা দেয়া হয় সাফ অ-১৫ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে। সংর্বধনা দেয় যশোর ডিএফএ।

কিন্তু সংবর্ধনায় তারা মেয়েদের শুধু ফুলের তোড়া আর সাধারণ ক্রেস্ট দিয়েই দায়িত্ব সারে! কোন আর্থিক প্রণোদনা বা উপহার সামগ্রীর ধার ধারেনি তারা। আর সবকিছুর দায়িত্বে ছিলেন মিঠু।

বাফুফে ভবনের আবাসিক ক্যাম্প থেকে যশোরে সংবর্ধনায় যোগ দিতে মহিলা ফুটবল দলকে ট্রেনযোগে নেয়া হয়। সারা রাত যাত্রা করে ভোরে তারা যশোর পৌঁছে। দুপুরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। আসলে সেটি ছিল ‘জয় বাংলা প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠান’। যশোর ডিএফএ কৃর্তপক্ষ লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানের আড়ালে মেয়েদের সংবর্ধনা দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এছাড়া গত মার্চে যশোর ডিএফএ সভাপতি মিঠুর বিরুদ্ধে নিজের করা নিয়মনীতি নিজেই মানেন না বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগটি মূলত জয় বাংলা প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে তার স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়মনীতি লংঘনের মাধ্যমে নিজের দল আবাহনী ক্রীড়াচক্রকে চ্যাম্পিয়ন করার অপচেষ্টা সংক্রান্ত।

ওই লিগে অন্যায়ভাবে রাহুল স্মৃতি সংসদের পয়েন্ট কেটে নেয়ায় ক্লাবটির প্রতিনিধি মাসুদুর রহমান টনি বাদী হয়ে মিঠুসহ তিনজনকে বিবাদী করে যশোর জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলা এখনও চলছে।

এছাড়া ২০১৪ সালে যশোরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচের জাল টিকেট ছাপিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জনেরও অভিযোগ উঠেছিল মিঠুর বিরুদ্ধে।

যশোর DFA সভাপতি এবং ধারাভাষ্যকার কুমার কল্যাণের মধ্যকার আলোচিত ফোনালাপটি শুনুন আর বিচার করুন……

Posted by Shahadat Hossain Jubaer on Thursday, May 10, 2018

Print Friendly, PDF & Email