প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগে আবাহনীর শোচনীয় হার

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগে সর্বাধিক পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে শোচনীয়ভাবে হারাল  ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাব।

বর্তমান শিরোপাধারী ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাব মঙ্গলবাল (২৯মে) মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের দ্বিতীয় খেলায় তারা ৫-১ গোলে হারিয়েছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেডকে। এছাড়া দিনের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাব ৯-১ গোলে হারায় পুলিশ ক্লাবকে।

আবাহনী-মেরিনার ম্যাচ দিয়ে লিগের প্রথম পর্বের ম্যাচ শেষ হলো। বাইলজ অনুযায়ী এই লিগ অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুটি পর্বে। একটি সিঙ্গেল লিগ, অপরটি সুপার ফাইভ লিগ। প্রথম পর্ব শেষে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া পাঁচ দল খেলবে সুপার ফাইভ পর্বে।

প্রথম পর্বে অর্জিত পয়েন্ট যোগ করে সুপার ফাইভ লিগের স্থান নির্ধারিত হবে। প্রথম পর্বের গোলসংখ্যা সুপার ফাইভে যোগ হবে না। শুধুমাত্র সুপার ফাইভে পক্ষে এবং বিপক্ষে গোল পার্থক্য স্থান নির্ধারণের জন্য ধরা হবে (চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ দল ব্যতীত)।

খেলা শুরুর আগে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানেই ছিল ‘দ্য স্কাই ব্লু ব্রিগেড’ খ্যাত আবাহনী। আবাহনী এবং মেরিনারের সমান খেলায় সমান পয়েন্ট হলেও গোল পার্থক্যে মেরিনারের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিল আবাহনী। ফলে পয়েন্ট টেবিলে তারা ছিল দুইয়ে, আর তিনে মেরিনার।

আবাহনীর ডিফেন্স ছিল বেশ মজবুত, এ ম্যাচের আগ পর্যন্ত তারা যে ৪টি গোল হজম করেছিল, তা ছিল সবার চেয়ে কম। অথচ এদিনই কিনা তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ে তাদের রক্ষণদুর্গ! প্রথমার্ধে মোটামুটি ঠিকঠাক খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে অসহায়ের মতো হেজম করতে থাকে একের পর এক গোল।

এই জয়ে ১১ ম্যাচে (দশম জয়) ৩০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে প্রথম পর্ব শেষ করলো মেরিনার। আর কাগজে কলমে আশা থাকলেও শিরোপা রেস থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়লো আবাহনী (১১ ম্যাচে দ্বিতীয় হার, ২৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে তৃতীয় স্থানে)।

৩০ মিনিটে পিসি থেকে গোল করে এগিয়ে মেরিনার। নিলয়ের পুশ স্টপ করেন বাবু, দারুণ হিটে লক্ষ্যভেদ করেন জুলহাইরি (১-০)। ২৮ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আচমকা হিটে চমৎকার গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মাইনুল ইসলাম কৌশিক (২-০)।

পরের মিনিটে ব্যবধান কমায় আবাহনী। রোমান সরকার একাই চারজনকে কাটিয়ে সার্কেলে ঢুকে মাইনাস করেন সতীর্থকে। বালজিৎ সিং বল পোস্টে পাঠাতে ভুল করেননি (১-২)। প্রথমার্ধে এই স্কোরলাইন নিয়েই বিরতিতে যায় উভয় দল।

৪১ মিনিটে বা প্রান্ত দিয়ে শুটিং সার্কেলে ঢুকে পড়েন পুস্কর খিসা মিমো। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের ভুল বুঝাবুঝির সুযোগ কাজে লাগিয়ে মেরিনারকে আরও এগিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড (৩-১)।

এরপর ৫৪ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে কৌশিকের হিটে লক্ষ্যভেদে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-১ এ। ম্যাচ শেষ হবার ৫ মিনিট আগে পিসি থেকে আবাহনীর কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন নাইম উদ্দিন। শিটুলের পুশ বলে চমৎকার হিটে গোল করেন নাইম (৫-১)।

Print Friendly, PDF & Email