ফেডারেশন নিয়ে অনেক অভিযোগ, তাই চলেই যাচ্ছেন সাঁতার কোচ পার্ক

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক : দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ পার্ক তে গুনের সঙ্গে বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের চুক্তি ছিল তিন বছরের। প্রতি বছর শেষে তা নবায়ন হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে একবছর শেষ হয়েছে।

দ্বিতীয় বছরে তাকে রাখা হবে কিনা- এ নিয়ে যখন সংশয় দেখা দিয়েছে; ঠিক তখনই বেঁকে বসেছেন পার্ক তে গুন। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজ দেশে কোচিংয়ে মনোনিবেশ করতে চাইছেন কোরিয়ান এই কোচ।

গত মার্চে চুক্তির মেয়াদের প্রথম বছর শেষ হয়েছে। এরপর নিজ দেশে ছুটিতে চলে গিয়েছিলেন। ছুটি কাটিয়ে ফিরলেও বাংলাদেশে এসে জমে থাকা নানান ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। জানালেন চার মাসের বেতন বকেয়া। ফেডারেশনের অসহযোগিতাসহ নানান কারণই কোরিয়ান কোচের বাংলাদেশ ছাড়ার নেপথ্যে।

পার্ক তে গুন অভিযোগের সুরে বলেন, ‘সাঁতার উন্নয়নে ফেডারেশনের অনীহা ও অসহযোগিতার কারণে বাংলাদেশে আর কাজ করতে চাইছি না। এশিয়ান গেমসে নিজ দেশের হয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক। আমি সত্যি মর্মাহত। ফেডারেশনের কর্তারা সাঁতার উন্নয়নে আগ্রহী নয়। রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা নিয়ে তারা ব্যস্ত। আমি অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। তারা তাদের স্বার্থের বাইরে কিছু করতে রাজি নয়।’

ছুটিতে থাকাকালীন দক্ষিণ কোরিয়াতেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখেন তিনি। নিজের বকেয়া বেতনসহ আনুষ্ঠানিকতা সারতেই মূলত বাংলাদেশে ফেরা। ঢাকায় এসে বললেন, ‘বাংলাদেশের সবকিছু জানি। এটাই মনে হয় আমার সমস্যা। ছুটিতে থাকতে অনেক ভেবেছি। নিজ দেশে থাকলে পরিবারের কাছে থাকতে পারবো। সবার সহযোগিতা পাবো। এখানে তো ভালো কিছু করতে হলে বাধা আসে। এই যে আমি পাঁচ দিন ধরে ঢাকায় এসেছি। ফেডারেশনের কেউ আমার খোঁজ খবর নেয়নি। এভাবে চললে বাংলাদেশের সাঁতারে উন্নতি হবে কী করে।’

২০০৯ সালে প্রথম কোচ হিসেবে আসেন পার্ক তে গুন। তারপর বিরতি দিয়ে ২০১৬ সালে এসএ গেমসে আবারো দলের নেতৃত্ব দেন। তার কোচিংয়ে বাংলাদেশ দুটি স্বর্ণপদক জিতেছে। দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষন কর্মসূচি চলেছে তার মাধ্যমে। মিরপুরে আবাসিক ক্যাম্পে আছেন অর্ধশতাধিক সাঁতারু। এছাড়া জাতীয় দলও ছিল কোরিয়ান কোচের তত্ত্বাবধানে।

সাঁতার ফেডারেশন অবশ্য কোচের সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া বলেন,  ‘কোচের কোন বেতন বকেয়া নেই। বরং তার আবেদনের কারণে ঢাকায় ফেরার টিকিট দিয়েছে ফেডারেশন। আর বর্তমানে মিরপুর ক্রীড়া পল্লীর পরিবেশ নিয়ে আপত্তির কিছু নেই। ফেডারেশন তাকে সব রকমের সহযোগিতা করছে। এমনকি তার সঙ্গে চুক্তি বাড়ানোর বিষয়টিও চিন্তা-ভাবনার মধ্যে আছে। পার্ক তো ভালো কোচ। আমরা তাকে হারাতে চাই না।’

মাসিক ৫ হাজার ডলার বেতন পার্ক তে গুনের। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) থেকে এই বেতন দেওয়া হয়।  তবে বিওএ থেকে জানা যায় ‘পার্ক তে গুনের চুক্তি শেষ। এখন ফেডারেশন যদি বলে চুক্তি নবায়ন করবে তাহলে ভালো। তখন  চিন্তা-ভাবনা করে বিওএ দেখবে বেতন দেওয়া যায় কিনা। তবে এখন ফান্ড সংকট রয়েছে। আদৌ পার্কের বেতন দেওয়া যাবে কিনা এ নিয়ে কিছুটা সংশয়ও আছে।’

পার্কের চলে যাওয়ার ব্যাপারে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমবি সাইফ বলেন, পার্ক ছুটি নিয়ে দেশে গিয়েছিল। প্রায় আড়াই মাস পরে আসলো। দুই দিন দলকে অনুশীলনও করিয়েছে সে। তবে চলে যাওয়ার বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। আমি খোঁজ নিয়ে দেখি আসল ঘটনা কি। আর ওর চলে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ফেডারেশন একা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। বাংলাদেশ নেভি, বিওএ, ফেডারেশন ও পার্ক সবাই মিলে যা ভাল হয় সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

Print Friendly, PDF & Email