ফেডারেশন হিসেবে স্বীকৃতি চায় বাংলাদেশ উশু এসোসিয়েশন|

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক খেলাধুলার সাফল্লের মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে বহুবার প্রশংসীত হয়েছে বাংলাদেশ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ যে সকল ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে পদক পেয়েছে শুধু পদক নয়, উড়িয়েছে লাল-সবুজের পতাকা সেই সব ক্রীড়া ডিসিপ্লিন গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো উশু।

বাংলাদেশে ১৯৮৬ সাল হতে চাইনিজ মার্শাল আর্ট খেলা উশু’র যাত্রা শুরু হয়। এরপর ২০০৭ সালে উশুর কাযক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশ উশু এসোসিয়েশন হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

সেই ২০০৭ সাল হতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে উশু যা অর্জন করেছে তাতে বাংলাদেশ হয়েছে গর্বিত। অথচ, এত সব সাফল্যের পরও এসোসিয়েশন থেকে ফেডারেশনের মর্যাদা পায়নি বাংলাদেশ উশু এসোসিয়েশন।

প্রশ্ন চলেই আসে আর কত প্রতিযোগিতা বা কত মেডেল পেলে ফেডারেশনের স্বীকৃতি দেয়া হবে উশুকে? জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। অধিকার কে কেউ যদি স্বীকৃতি না দেয় তাহলে যুদ্ধ করে ছিনিয়ে নাও।

সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের দাবি আদায় করে নেয়ার শিক্ষা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তাহলে কি অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নামতে হবে উশুর সাথে জড়িত দেশের সকল খেলোয়াড়, কোচ ও সংগঠকদের?

ইতোমধ্যে ফেডারেশনের মর্যাদা পেতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উশুর সাথে সম্পৃক্ত সকল খেলোয়াড়, কোচ ও সংগঠকরা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ফেসবুক সহ মিডিয়া ও দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অজির্ত সাফল্যের পোস্ট করেছে।

এখন উশু’র কিছু সাফল্য জেনে নেয়া যাক : 

১* ১১তম এস,এ গেমস্-২০১০ এ ২(দুই)টি স্বর্ণ ও ২টি তাম্র পদক অর্জণ,

২* ভারতে অনুষ্ঠিত ১২তম এস,এ গেমস-২০১৬ এ অংশগ্রহন করে ৫টি তাম্র পদক অর্জণ |

৩* থার্ড সাউথ এশিয়ান উশু চ্যাম্পিয়নশিপ-২০০৭ এ ৩টি স্বর্ণ পদক, ৬টি রৌপ্য ও ৫টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন

৪* ৪র্থ ওয়ার্ল্ড জুনিয়র উশু চ্যাম্পিয়নশিপ-২০০৪ এ সফল অংশগ্রহন। 

৫* ৮ম বাংলাদেশ গেমস-২০১৩ সফল ভাবে আয়োজন সফল ভাবে আয়োজন ।

৬* আন্তর্জাতিক কোচ ও জাজেস ট্রেনিং কোর্স-২০১৬ এ অংশগ্রহণ করে আন্তুর্জাতিক ৩টি লাইসেন্স অর্জন ।

৭* তৃনমূল পর্যায় থেকে বাছাইকৃত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষন কর্মসূচী-২০১৫-১৬ সফল ভাবে বাস্তবায়ন

৮* মার্সেল ১ম জাতীয় মহিলা উশু প্রতিযোগিতা-২০১৬ সফল ভাবে আয়োজন ।

৯* মেয়র মোহাম্মদ হানিফকাপউশু প্রতিযোগিতা-২০১৬ সফল ভাবে আয়োজন ।

১০* জাতীয় উশু কোচ ও জাজেস প্রশিক্ষণ কর্মসূচী-২০১৬-১৭ সফল ভাবে আয়োজন ।

১১* শেখ রাসেল ১২তম জাতীয় উশু চ্যাম্পিয়নশিপ- ২০১৭ সফল ভাবে আয়োজন ।

১২* এ্যাম্বাসেডর কাপ উশু চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৭ সফল ভাবে আয়োজন ।

১৩* ওয়ালটন ২য় জাতীয় মহিলা উশু চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৮ সফল ভাবে আয়োজন ।

১৪* উশুর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরো গতিশীল করার লক্ষে ৬০টি ক্লাব নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে ।

১৫* জেলা পর্যায় উশুর সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করার জন্য ২৫টি জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে ।

উল্লেখ্য যে, আগামী মাসে সিলেটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মিনিস্টার কাপ ১৩তম জাতীয় উশু চ্যাম্পিয়শিপ-২০১৮। এ প্রতিযোগিতা সফল ভাবে আয়োজন করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা।

কিন্তু এত এত প্রতিযোগিতা ও সাফল্যের পরও দুঃখ ঘিরে আছে উশুর সাথে জড়িতদের!

আর তা হলো ফেডারেশনের স্বীকৃতি না পাওয়া। প্রশ্ন চলেই আসে এত সাফল্যের পরও কেন ফেডারেশনের মর্যাদা পাচ্ছে না উশু?

এ প্রসঙ্গে এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক মো: দুলাল হোসেন জানান, আমাদের সাফল্য ও দেশব্যাপী উশু’র কার্যক্রম নিয়ে মাননীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী,উপমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, এনএসসির সচিব সহ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সকলেই অবগত আছেন। তাই আমাদের প্রত্যাশা এনএসসি যেন অতি দ্রুত উশু এসোসিয়েশনকে ফেডারেশনের স্বীকৃতি প্রদান করে এ খেলার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় বাংলাদেশের জন্য পদক অর্জণের সুযোগ করে দেন। 

Print Friendly, PDF & Email