ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড নাকি ক্রোয়েশিয়া?

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক১৯৬৬ সালে একবারই শিরোপা উঁচিয়ে ধরার সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। ৫২ বছর সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করতে অপেক্ষা আর দুটি ম্যাচের। তাতে স্বপ্নের ভেলায় ভাসছেন ইংলিশ সমর্থকরা। সবাই এক সুরে গাইছেন-ফুটবল কামিং হোম।  সোনালী ট্রফিটা ফুটবলের জন্মভূমিতে আনার চেষ্টায় বুধবার দিবাগত রাত ১২টায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় সেমিতে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, নাগরিক টিভি ও মাছরাঙা।

একের পর নাটকীয়তার জন্ম দিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। এমন দুটি দল যারা সেমিফাইনালের দুয়ারে আসার আগে হোঁচট খেয়েছে বেশ কয়েকবার। এবার আর পা হড়কায়নি দল দুটির। এক দিকে ক্রোয়েশিয়ার খেলায় সহায়তা করেছে তাদের মাঝমাঠের শক্তি। অন্য দিকে ইংলিশদের ফুটবলে ভূমিকায় ছিল গতিময় ফরোয়ার্ড। আরেকজনের কথা ভুলে গেলে চলবে না, তাদের গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড। তার দেয়াল হয়ে দাঁড়ানোতেই টাইব্রেকারসহ ম্যাচগুলোতে পেয়েছে আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়া।

তাই ১০ বছর পর নক আউট পার করতে পেরে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ইংলিশ কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের, ‘আমরা অনেকগুলো ইতিহাস রচনা করে ফেলেছি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় জয়। ১০ বছরে প্রথমবার নকআউটে। পেনাল্টিতে প্রথমবার বিশ্বকাপে জয়। আমরা সব সময়ই বাধা পার হতে চেয়েছি। পুরো সফরটাই ছিল উপভোগ্য। আমরা এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই।’

এর আগে ৫বার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে ক্রোয়েশিয়া। তাতে তিনবারই জয় ইংল্যান্ডের। বাকি দুবার ক্রোয়েশিয়ার। ড্র একটি। শেষবার ইংল্যান্ডের কাছে তারা হেরে যায় ৫-১ গোলে। তাদের ঘায়েল করতে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের স্মৃতি তাতিয়ে বেড়াচ্ছে ক্রোয়েটদের। ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাৎকো দালিচ মনে করেন, ‘ফ্রান্স বিশ্বকাপে আমাদের দারুণ স্মৃতি রয়েছে। ছেলেরা দারুণ কিছু করে দেখিয়েছে। আমরা তাদের কাছেই থাকতে চাই। যদিও তার পুনরাবৃত্তি করা কঠিন। তবে আমরা চেষ্টা করবো সর্বোচ্চ।’

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ স্কোরার হ্যারি কেইন। তাকে রুখতে ভুগতে হবে ক্রোয়েটদের। তবে দালিচ আগেই জানিয়ে দিয়েছেন তারা বেশ সতর্ক ইংলিশ অধিনায়ককে নিয়ে, ‘মেসিকে যদি রুখে দিতে পারি তাহলে কেইনকে কেন নয়?।’ 

ফ্রান্স গতকাল নিশ্চিত করেছে ফাইনাল। এবার তাদের সঙ্গী কে হচ্ছে তা জানা যাবে আজ রাতে। তবে সবার চেয়ে নিজেদের এগিয়ে রাখছেন ক্রোয়েট কোচ, ‘আমরা সবার প্রতি শ্রদ্ধা রাখি। তবে আমার মনে হয় ইংল্যান্ড, ফ্রান্স কারো স্কোয়াড আমাদের চেয়ে ভালো নয়।’ ক্রোয়েট কোচ কথার লড়াইয়ে নিজেদের এগিয়ে রাখলেও তাদের শঙ্কায় ফেলেছে প্রথম পছন্দের রাইট ব্যাক শিমে ভ্রাসাইকোর চোট। ছিটকে গেছেন ম্যাচ থেকে। গোলকিপার সুবাসিচের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। যদিও তাকে নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। পর্যবেক্ষণে থাকবেন তিনি। 

Print Friendly, PDF & Email