বাদল রায়ের প্রস্তাবে ৩বছরের জন্য আবারও সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকছেন সোহাগ!

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি বাদল রায় ও সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ ইস্যু নিয়ে বেশ কিছুদিন উত্তপ্ত ছিল দেশের ফুটবল অঙ্গন।

বাদল রায়কে ফোনে সোহাগ বাফুফে ভবনে না আসার হুমকি দেন। এই ঘটনায় বাদলের সহধর্মিনী মাধুরি রায় ওয়ারি থানায় এ মর্মে সাধারণ ডায়েরি করেছেন যে, তার স্বামীকে ফেডারেশনে আসতে বারণ করে হুমকি দিয়েছেন সোহাগ।

এরপর থেকে দেশের সাবেক ফুটবলাররা এ নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন সোহাগের বহিস্কারের দাবিতে। বাফুফেকে গত ৭জুন তারা দেন স্বারক লিপি। এরপর বাফুফে ভবনের সামনে সোহাগের বহিস্কারের দাবিতে করেন অবস্থান মানববন্ধন।

সব শেষ গত ২৮জুলাই ২০১৮ জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সকল সাবেক ফুটবলাররা আবারও প্রেস মিট করেন সোহাগের বহিস্কারের দাবিতে।

বাদলের জন্য সেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু, সহ-অধিনায়ক প্রতাপ শংকর হাজরা, জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রাপ্ত ফুটবলার গোলাম সরোয়ার টিপু, হাসানুজ্জামান খান বাবলু, শেখ মোহাম্মদ আসলাম, আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু, ওয়াহিদুজ্জামান খান পিন্টু, কায়সার হামিদ, ইমতিয়াজ সুলতান জনি ও এসএম সালাউদ্দিন সহ অনেকেই।

অথচ আজ বৃহস্পতিবার বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় পাল্টে গেল দৃশ্যপট! সাবেক ফুটবলাররা যখন সোহাগের বহিস্কার দাবি করে আসছিলেন, তখন তার চাকরির মেয়াদও শেষ; কিন্তু সেই বাদল রায়ের প্রস্তাবেই বৃহস্পতিবার নতুন করে ৩ বছর চাকরির মেয়াদ বেড়েছে সোহাগের!

বাফুফের নির্বাহি কমিটি সভা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আরো ৩ বছর দায়িত্ব দিয়েছে আবু নাঈম সোহাগকে। সভা শেষে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী একজনকে প্রস্তাব করতে হয়। সহ-সভাপতি বাদল রায়ই আমার চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।’

তবে বাদল রায়ের দাবি, তিনি নিজের মুখে সোহাগের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেননি। আরেকজন প্রস্তাবক হিসেবে তার নাম লিখতে বলেছেন। তিনি তখন চুপ করে ছিলেন। যদিও এ সভার কার্যবিবরণীতে সোহাগের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবক হিসেবে বাদল রায়ের নামই থাকবে।

সবার মনে বার বার একটি প্রশ্ন উকি দিচ্ছে আর তা হলো যদি বাদল রায় সোহাগের চাকরি বাড়ানোর প্রস্তাব না করে থাকেন তাহলে সভা শেষে যখন মিডিয়া কর্মিদের বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী সোহাগের চাকরি বৃদ্ধির প্রস্তাবক হিসেবে বাদল রায়ের নাম উল্লেখ করে ব্রিফিং করলেন তখন কেন বাদল রায় চুপ করে থাকলেন?

যদি তিনি নিজে প্রস্তাব না করে থাকেন তাহলে কেন তিনি মিডিয়া কর্মিদের সামনে প্রতিবাদ বা সভা থেকে বেরিয়ে আসলেন না এই প্রশ্ন এখন আন্দোলনের সাথে জড়িত থাকা অনেকের। 

Print Friendly, PDF & Email