বুধবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে পাক-ভারত যুদ্ধ

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : আমরা ফেভারিট নই- ভারতের সহকারী কোচ ভেংকটেস কথাটি উচ্চারণ করতেই পাশ থেকে একজনের রসিকতা, ‘তাহলে উত্তেজনা থাকলো কই?’ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে কোনো দলের কোচের এমন মন্তব্য তো উত্তেজনার আগুনে পানি ঢালার মতোই। ক্রিকেট বা হকির মতো ফুটবলে হয়তো এই দুই দলের লড়াই ততটা রোমাঞ্চ ছড়ায় না। কিন্তু নাম দুটি যখন ভারত আর পাকিস্তান, সবাই তো অন্যরকম কিছুর আশায় বুঁদ হয়ে থাকবেনই।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ভারতের সহকারী কোচের নিজেদের ফেভারিট না ভাবার কারণ, তারা এবার নিয়ে এসেছেন অনূর্ধ্ব-২৩ দল। যে দলটি তৈরি করা হয়েছিল এশিয়ান গেমসের জন্য। কিন্তু গেমসে খেলা হয়নি দেশটির অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও ফুটবল ফেডারেশনের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে। ঠিক এ কারণেই সাফের ৭ বারের চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের ফেভারিট না বলেই মাঠে নামছে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে।

 

বুধবার বিকেল ৪ টায় প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে নেপাল-মালদ্বীপ। ভারত-পাকিস্তান ফুটবল যুদ্ধ শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায়। মুখে যাই বলুক, যুব দল নিয়েই সাফ বাজিমাত করতে চায় ভারত। ২০০৯ সালের মতো ঢাকা থেকে ট্রফি উড়িয়ে নিতে চায় বাইচুংদের উত্তরসূরিরা। তাই তো অনুশীলনে মনোযোগ দিতে কোচ-অধিনায়ক এড়িয়ে গেছেন অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলন।

নিজেদের ফেভারিট ভাবছেন না। তাহলে এই টুর্নামেন্টে কোন দল ফেভারিট ভারতের সহকারী কোচের চোখে? একবাক্যে বলে দিলেন-নেপাল। কেন? তার ব্যাখ্যাও দিলেন, ‘টেকনিক্যালি নেপাল অনেক ভালো দল।’

১১ আসরের ১০টিতেই ফাইনাল খেলেছে ভারত। একবার খেলতে পারেনি সেটা এই ঢাকাতেই ২০০৩ সালে। একাদশবারের মতো ফাইনাল খেলতে যারা তাদের বাধা, সেই পাকিস্তান কেমন দল? ‘ভালো দল। তাদের বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ফুটবলার আছে। ফিজিক্যালি পাকিস্তানী খেলোয়াড়রা অনেক স্ট্রং’-জবাব ভারতের সহকারী কোচ ভেংকটেসের।

পাকিস্তান আগে কখনো ফাইনাল খেলেনি। বুধবার ভারতকে হারাতে পারলে নতুন ইতিহাস তৈরি হবে তিন বছর ফুটবলের বাইরে থাকা দেশটির। দলটির ব্রাজিলিয়ান কোচ জোসে আন্তনিও নোগেইরা আত্মবিশ্বাসী কন্ঠে বলেন, ‘আমরা ফাইনাল খেলতে চাই।’

কোচ ফুটবলের মানুষ হলেও পাকিস্তানের দায়িত্ব নিয়ে জেনে গেছেন এই দুই দেশের যে কোনো খেলার লড়াই উত্তেজনাকর হয়। এ ম্যাচটিও তেমন হবে উল্লেখ করে ব্রাজিলিয়ান কোচ বলেন, ‘উত্তেজনাকর ম্যাচ হবে। উপভোগ্য ম্যাচও হবে।’ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে প্রথম ডাগআউটে দাঁড়াবেন আন্তনিও। কোন চাপ অনুভব করছেন? পাকিস্তানের কোচের জবাব, ‘কোনো চাপ নেই। আমরা স্বাচ্ছন্দেই এ ম্যাচ খেলবো। ভারত আমাদের চেয়ে র্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে। আমরা চাপমুক্তই থাকব।’

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচে ভরা গ্যালারির বিপরীতে খেলে হেরে গেছেন শেষ দিকে গোল খেয়ে। এখন তো বাংলাদেশ নেই টুর্নামেন্টে। দর্শকদের নিয়ে কিছু বলবেন? পাকিস্তান কোচ বলেন,‘স্থানীয় দর্শকরা যদি এ ম্যাচে আমাদের সমর্থন করে তাহলে আমি খুশি হবো। আশা করি সমর্থন পাব।’

পাকিস্তানের অধিনায়ক সাদ্দাম হোসেন আগেও খেলেছেন ভারতের বিরুদ্ধে। তিনি জানেন, এই দলের ম্যাচে কেমন উত্তেজনা থাকে। পাকিস্তানি অধিনায়ক বলছিলেন সেটাই, ‘এ দুই দলের ম্যাচে ভিন্ন ধরনের স্পিরিট থাকে। খেলাধুলায় পাকিস্তান-ভারত চির প্রতিদ্বন্দ্বি। অনেকদিন সেমিফাইনালে খেলি না।

২০০৫ সালে ঘরের মাঠে শেষবারের মতো খেলেছি। তাই এ ম্যাচটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছুদিন আগেও আমাদের ফুটবল ভালো অবস্থানে ছিল না। এই কোচ দায়িত্ব নেয়ার পর গুছিয়ে তুলেছেন। আমরা আত্মবিশ্বাসী। তবে অতি আত্মবিশ্বাসী নই।’

Print Friendly, PDF & Email