ভলিবল খেলায় হাঁটুর ইনজুরি ও প্রতিকার (পর্ব-২)

শামীম-আল্-মামুন : ভলিবল খেলায় খেলোয়াড়দের ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের সময় বা খেলা চলাকালীন সময়ে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা মোটেও অনাকাঙ্খিত নয়। অন্যসব খেলার মত ভলিবল খেলাতে আঘাত জনিত সমস্যা যদি বিশ্লেষণ করা যায়, তবে সেক্ষেত্রে ৫টি কমন ইনজুরি বা সাধারণ আঘাত বিশেষ ভাবে লক্ষ্যনীয়।

১. এ্যাংকল বা পায়ের গোড়ালীর জোড়া’র আঘাত
২. নী ইনজুরি বা হাঁটুর আঘাত
৩. সোলডার ইনজুরি বা কাঁধের আঘাত
৪. ফিংগার ইনজুরি বা আঙ্গুলের আঘাত
৫. লোয়ার ব্যাক ইনজুরি বা কোমরের আঘাত

উপরিল্লিখিত আঘাত গুলি কখন কিভাবে হয়ে থাকতে পারে সে সম্পর্কে খেলোয়াড়, কোচ ও খেলার সাথে সংশ্লিষ্টদের জানা খুবই প্রয়োজন। আসুন দেখা যাক ভলিবল খেলোয়াড়দের এই আঘাত গুলি কোন কোন বিশেষ কারণ বা সময়ে হয়ে থাকে। আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় নী বা হাঁটুর ইনজুরি ও  এর প্রতিকার।

নী ইনজুরি বা হাঁটুর আঘাত :

ভলিবল খেলায় সাধারণত প্রতিযোগিতা যখন হয, তখন প্রত্যেক দল তাদের সর্বোতকৃষ্ঠ টেকনিক বা কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে জয়লাভের প্রচেষ্টা চালায়। ভলিবল খেলার জয়লাভ করার নিয়ামক হলো পয়েন্ট অর্জন। যে দল দ্রুত ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারবে (অন্ততঃ ২ পয়েন্ট ব্যবধানে) সেইদল সেট জয়লাভ করতে সমর্থ  হয়ে থাকে।

এই জয়লাভের জন্য আধুনিক ভলিবলের ক্ষেত্রে শুধু নয় বরং প্রাচীন কাল থেকে ভলিবল খেলার শুরু থেকে যে টেকনিক গুলি সবচেয়ে লাগসই বা গুরুত্বপূর্ণ তাদের মধ্যে স্পাইকিং এবং ব্লকিং। একজন স্পাইকার বিপক্ষ দলের কোর্টে বল ফেলার জন্য স্পাইকিং করে থাকে এবং একজন ব্লকার স্পাইকিং বলকে রুখে দেয়ার জন্য ব্লক করে থাকে যাতে করে ব্লকের মাধ্যমে বিপক্ষ দলের কোর্টে বল ফেলা যায়।

এই দুই টেকনিক বা কৌশলের জন্য প্রয়োজন জাম্প। আর এই জাম্প দ্রুততার সাথে সঠিক জায়গায় ও সঠিক উচ্চতায় বলের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য করতে হয়। জাম্প করার সময় এবং জাম্প শেষে মাটিতে বা ফ্লোরে ল্যান্ডিং এর সময় শরীরের সম্পূর্ণ ওজন ক্ষেত্র বিশেষে হাঁটুর উপর বিশেষভাবে চাপ পড়ে।

অনেক সময় শক্ত মাটিতে বা ফ্লোরে অনবরত জাম্প বা লাফানোর সময় দৈবক্রমে বা দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে অনেক ভলিবল খেলোয়াড় হাঁটুর উপর ষ্ট্রেচ বা চাপ পড়ে। এই চাপের ফলে হাঁটুর উপরে গোলাকৃতি ক্যাপ থাকে যাকে প্যাটেলা বলা হয় তার চারপাশে ছোট ছোট টিস্যু ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে টেনডন এ যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়। এভাবেই একজন ভলিবল খেলোয়াড় নী বা হাঁটুর ইনজুরির স্বীকার হয়ে থাকে।

প্রতিকার :

জাম্প করার হার প্রকারন্তরে কমানের মাধ্যমে এর প্রতিরোধ সম্ভব। ব্যায়ামের মাধ্যমে হাঁটুর মাংস পেশীর ওয়ার্ম আপ করলে সেগুলি উপযুক্ত ও শক্তিশালী হলে প্রতিরোধ করা যায়। যদি একবার এ ধরনের ইনজুরি হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো। তবে বিশ্রামের মাধ্যমে এবং কিছু নিদ্দিষ্ট ওয়াটার থেরাপি বা ব্যায়ামের মাধ্যমে এর প্রতিকার করা সম্ভব। সবচেয়ে যে বিষয়টি মনে রাখা দরকার তা হলো, খেলায় অংশগ্রহনের পূর্বে ভালোভাবে জয়েন্ট ও মাংস পেশীর স্ট্রেচিং এবং ওয়ার্ম আপ করে নিলে ভালো।

পরিশেষে : যে কোন ব্যথা বা আঘাত ক্রীড়া নৈপুন্য ব্যাহত করে। এজন্য প্রয়োজন সতর্কতা। যার মাধ্যমে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রীড়া অনুশীলন বা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহনের পূর্বে পরিমিত ওয়ার্মিং আপ কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। কোন ক্রীড়াবিদকে এই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। বরং খেলায় অংশ নেয়া এবং ক্রীড়ানুশীলন করার পূর্ব প্রস্তুতি সঠিক থাকা প্রয়োজন । এতে করে ইনজুরি বা ব্যাথা পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। ( চলবে )

sameem vi pic

Print Friendly, PDF & Email