মঙ্গোলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কঅসংখ্য শট নিয়েও মঙ্গোলিয়াকে গোলবন্যায় ভাসাতে না পারলেও উড়ন্ত জয়ই পেয়েছে বাংলাদেশ। ৩-০ গোলে সেমিফাইনাল জিতে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ গোল্ডকাপের ফাইনালে উঠেছে স্বাগতিকরা। আগামী শুক্রবার শিরোপার লড়াইয়ে লাওসের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।

দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় স্বপ্না ও কৃষ্ণাকে ছাড়া মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তাদের অভাব খুব বেশি টের পাওয়া যায়নি। মুহুর্মুহু আক্রমণে মঙ্গোলিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন মার্জিয়া ও তহুরারা। তবে এই ম্যাচেও আগের মতো গোল মিসের আক্ষেপ থাকতে পারে তাদের।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু থেকে বাংলাদেশ আক্রমণে যায়। তবে স্বাগতিকদের গোল পেতে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে প্রথমার্ধে ইনজুরি সময় পর্যন্ত। এর আগে একের পর এক গোল মিস করে গেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের ৩ মিনিটে সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি স্ট্রাইকার সাজেদা খাতুন। একটু পর এই স্ট্রাইকারের আরও একটি প্রচেষ্টা ফিরিয়ে দেন গোলকিপার।

১৬ মিনিটে গোলরক্ষক ভুল শটে বল তুলে দেন সানজিদা আক্তারের পায়ে, এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ফরোয়ার্ড সানজিদার শট সাইড পোস্টে লাগলে আবারও আক্ষেপে পোড়ে বাংলাদেশ। চার মিনিট পর বক্সের ভেতর থেকে আঁখি খাতুনের শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বেরিয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ এগিয়ে থেকে বিরতিতে যেতে পারে। মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা বক্সের একটু বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন।

বিরতির পরও আক্রমণ চালিয়ে যায় বাংলাদেশ। তবে আক্ষেপ ছিল গোলের সুযোগ নষ্ট করার। ৪৮ মিনিটে মিডফিল্ডার মৌসুমীর জোরালো শট ক্রস বারের উপর দিয়ে যায়। সাজেদার বদলি নামা তহুরা খাতুন ৫২ মিনিটে বক্সে ঢুকে শট নিতে পারেননি, পাশে থাকা মার্জিয়া শট নিলেও সাইড বারের পাশ দিয়ে যায়।

৫৮ মিনিটে মারিয়া মান্ডার জোরালো শট কোনোমতে ফিরিয়ে দেন গোলকিপার। তবে পরের মিনিটে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের উল্লাসে মাতার সুযোগ করে দেন মার্জিয়া। মনিকার পাস ধরে এই ফরোয়ার্ড ডান দিক দিয়ে জালে বল ঢোকান তিনি।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে বাংলাদেশ তৃতীয় গোলের দেখা পায়। তহুরা বক্সের বাইরে থেকে শট নেন, প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায় বল। শেষ দিকে তার শট বারের উপর দিয়ে গেলে জোড়া গোলের দেখা পাননি তিনি। তবে অগণিত সুযোগ নষ্ট করার আক্ষেপ শেষ পর্যন্ত জয়ের রঙে রঙিন হয়েছে।

দলের পারফরম্যান্সে খুশি বাংলাদেশের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, ‘আমাদের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। দল আগের চেয়ে ভালো খেলেছে। শুরুটা হয়েছিল আক্রমণ দিয়ে, তবে গোল পেতে সময় লেগেছে। দ্বিতীয়ার্ধে দল ভালো খেলেছে। স্বপ্না-কৃষ্ণার অভাব ম্যাচে তেমন টের পাওয়া যায়নি। তাদের জায়গায় মার্জিয়া-তহুরা ভালো খেলেছে।’

ফাইনালে লাওসের বিপক্ষে সেরাটা খেলার প্রতিশ্রুতি দিলেন কোচ, ‘ফাইনালের প্রতিপক্ষ লাওস ভালো দল। তবে আমরাও ভালো দল। ট্রফি জয়ের জন্যই আমরা মাঠে নামবো।’ ম্যাচসেরা মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা সতীর্থদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন, ‘সতীর্থদের সবার সহযোগিতার কারণে গোল পেয়েছি। অন্য ১০ জন ভালো না খেললে আমি গোল পেতাম না। এজন্য পুরস্কারের অর্থ সবাইকে নিয়ে ভাগাভাগি করে খাবো। আর শুরুতে ভুলের কারণে আমরা গোল পাইনি। পরে ভুল শুধরে গোল হয়েছে। ফাইনালেও ভালো খেলে শিরোপা জিততে চাই।’

Print Friendly, PDF & Email