মাশরাফি–সাকিব–তামিমের কারণেই কি রবি’র চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত?

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : এশিয়া কাপ সামনে রেখে আজ সোমবার (২৭আগস্ট) থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। আলাদা ভাবে নজর কেড়েছে খেলোয়াড়দের জার্সি। নজর কেড়েছে এই কারণে, জার্সিতে ‘রবি’ লেখাটা উধাও, যেটি তিন বছর ধরে দেখে অভ্যস্ত ছিল সবাই।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চুক্তি বাতিলের খবর জানা গেছে কাল। সোমবার বিসিবির তরফ থেকেও জানানো হয়েছে, দুই প্রতিষ্ঠানের পথ বেঁকে গেছে দুই দিকে।

গত বছর জাতীয় দলের স্পনসরশিপ স্বত্ব পাওয়ার জন্য ৬০ কোটি টাকা ভিত্তিমূল্য ধরে দিয়েছিল বিসিবি। প্রায় ৬১ কোটি টাকা খরচে স্পনসর স্বত্বটা পেয়ে যায় রবি। রবির সঙ্গে বিসিবির চুক্তি ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত, যেটির শুরু গত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর থেকেই। চুক্তির অর্ধেক মেয়াদ না পেরোতেই কেন শেষ হয়ে গেল?

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী আজ সংবাদমাধ্যমকে যে ব্যাখ্যা দিলেন, তাতে মনে হলো দলের রবির আপত্তি, তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ দলের তিন সিনিয়র খেলোয়াড়ের চুক্তি, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের সঙ্গে আমাদের কিছু খেলোয়াড়ের চুক্তি নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল। সেটা পুরোপুরি সমাধান না হওয়ায় তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে আমাদের মনে হয়েছে কৌশলগত কারণে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমরা এই বিষয়ে (তাদের ব্যাখ্যা) পুরোপুরি গ্রহণ করতে রাজি নই। রবির সঙ্গে আলোচনার পর বেশ কিছু পদক্ষেপ আমরা নিয়েছিলাম।

আপনারা জানেন যে, সাকিব আল হাসানের সঙ্গে একটা মোবাইল কোম্পানির চুক্তি ছিল, সেটা বাতিল করেছিল সে। গ্রামীণফোনের সঙ্গে তামিম ইকবালের যে চুক্তি ছিল সেটি সে বাতিল করেছে। অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজার সঙ্গে গ্রামীণফোনের চুক্তি বাতিলও প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। আমরা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই যাচ্ছিলাম। আমাদের কাছে রবির সিদ্ধান্ত তাই অবাক করার মতো।’

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের চুক্তি নিয়ে রবির আপত্তিটা চুক্তির শর্তেই ছিল, না নতুন করে তারা আরোপ করেছে, সেটিও প্রশ্ন। বিসিবির প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘বিষয়টা অনেক আগে থেকেই আলোচনা হচ্ছিল।

আগে থেকেই আমাদের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি ছিল। তাদের কাছ থেকে (প্লেয়ারদের) বের হয়ে আসাটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। রবির সঙ্গে আলোচনার পর একটা সমাধান হচ্ছিল। হুট করে এই সিদ্ধান্ত দুঃখজনক। তবু রবিকে ধন্যবাদ জানাই, বিগত দিনে যেভাবে তারা আমাদের সমর্থন করেছে।’

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের চুক্তি নিয়ে যেহেতু রবির আপত্তি, তবে বিসিবি কেন খেলোয়াড়দের বাধা দেয়নি? খেলোয়াড়েরা নিশ্চয়ই বোর্ডের অনুমতি নিয়েই চুক্তি করে থাকেন। নিজাম উদ্দিনের যুক্তি, ‘খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত চুক্তিগুলো হয়েছে একেক সময়ে। মাশরাফির চুক্তিটা যখন হয়েছে তখন রবির সঙ্গে এই ধারাটা ছিল না। রবির সঙ্গে আগের দুই বছরের যে চুক্তি ছিল, তখন এটা ছিল না। পরে এটা হয়েছে।

সাকিবের বিষয়টা যখন এসেছে, তামিমের বিষয়টা যখন এসেছে, আমরা কিন্তু সেভাবে বিষয়টা সমাধানের চেষ্টা করেছি। রবির সঙ্গে যে নিষ্পত্তি চুক্তি হয়েছিল তাতেও বলেছি যে আমরা এ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছি। এসব চুক্তি যখন হয় তখন ওই প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালায়। এগুলো হুট করে বন্ধ করা যায় না, সময় লাগে। আমরা আশা করেছিলাম, সে সময় রবি আমাদের দেবে।’

রবির চুক্তি শেষে বসে নেই বিসিবি। নতুন স্পনসর পেতে দু-এক দিনের মধ্যে বিজ্ঞাপন দেবে তারা। বিসিবি চাইছে এশিয়া কাপের আগেই নতুন স্পনসর জোগাড় করতে।

Print Friendly, PDF & Email