মিরপুরের উইকেট সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা খুবই কঠিন : মাশরাফি

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : প্রশ্নটা ছিল, রোববার (২১অক্টোবর) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে কেমন উইকেট প্রত্যাশা করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক?

খেলা যেহেতু মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে একটু যেন ধন্দে পড়ে গেলেন মাশরাফি, ‘মিরপুরের উইকেট সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা খুবই কঠিন। মিরপুরের উইকেট বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ শুরু করে। আগে থেকে বলা খুবই কঠিন হবে।

তবে প্রত্যাশা তো অবশ্যই করছি, সাধারণত ২৫০-২৬০ রান হলে ম্যাচ ভালো হয়, আগে ব্যাট করা দলের জেতার সুযোগ বেশি থাকে। শুরুতেই যে স্লো বা টার্ন হবে, এমন আশা অবশ্যই করছি না। ভালো উইকেটে খেলতে চেয়েছি, এখন ভালো উইকেট হলেই হয়। কিন্তু মিরপুরের উইকেট তো, আগে থেকে অনুমান করা একটু কঠিন।’

মাশরাফির কথা শুনে কে বলবে তিনি স্বাগতিক দলের অধিনায়ক! নিজেদের উঠানে খেলা, অথচ বাংলাদেশ অধিনায়ক বলতে পারছেন না, উইকেটের চরিত্র কেমন হবে! আসলে মাশরাফিরই বা কী করার আছে?

মিরপুরের উইকেট তো আর কম রহস্য উপহার দেয়নি অতীতে। গত বিপিএলে লো স্কোরিং ম্যাচ নিয়ে যখন তীব্র হইচই, দেখা গেল একই দিনের প্রথম ম্যাচে ১০০ করা নিয়ে টানা টানি। পরে রাতের ম্যাচে অনায়াসে হয়ে গেল ২০০।

তামিম ইকবাল অবশ্য মিরপুরের উইকেটের কথা শুনেই মুখ লুকাতে চান। উইকেট নিয়ে সত্য বলতে গিয়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে দেশসেরা ওপেনারকে।

মাশরাফি অবশ্য উইকেট নিয়ে কোনো বিতর্কে জড়াতে চান না। তবে অধিনায়ক যেটি বললেন, সেটি ওই গানের মতো শোনায়। অধিনায়কের কাছে মিরপুরের উইকেট কখনো মনে হয় খুব চেনা, পরক্ষণেই সেটি অচেনা, ‘মিরপুরের উইকেট অননুমেয়।

কেন? হঠাৎ করেই আচরণ বদলে ফেলে। আপনারাও দেখেছেন হঠাৎ করে টার্ন বা বল নিচু হয়ে আসে। তখন কিন্তু যারা ব্যাটিং করছে তাদেরও ভাবনা পরিবর্তন করতে হচ্ছে। বাইরে যারা থাকে তাদেরও ভাবনায় পরিবর্তন আনতে হয়। অননুমেয় হলেও আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি।

বেশির ভাগ সিনিয়র খেলোয়াড় গত ১০ বছর এই উইকেটে খেলছে। আমরা অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও যারা খেলছে, অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আপনি যদি দেখেন এক দিক দিয়ে সুবিধাও থাকে।

আচরণ যখন বদলাতে থাকে তখন প্রতিপক্ষের জন্য একটু কঠিন হয়। আমরা যখন ২০১৫ থেকে নিয়মিত জেতা শুরু করেছি তখন থেকে এই মাঠে আমাদের রেকর্ড ভালো। আমার মনে হয় এই উইকেটে আমাদের মানিয়ে নিতে অসুবিধা হবে না।’ 

Print Friendly, PDF & Email