মেসির সমালোচনা কষ্ট দেয় তার মাকেও

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কসন্তানের সমালোচনা কষ্ট দেয় সব মাকেই। লিওনেল মেসির মা সেলিয়া কুচিত্তিনিও তাদের একজন। আর্জেন্টিনায় পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা তার ছেলেকে কতটা মর্মাহত করে সেটা বুঝতে পারেন তিনি। এজন্য কষ্টটা অনেক বেশি হয় সেলিয়ার।

ক্লাবের জার্সিতে যতটা ঝলমলে, জাতীয় দলে তেমনটা নয়। এ কারণে প্রায় সময় কড়া সমালোচনার মুখোমুখি হন মেসি। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর কোপা আমেরিকায় টানা দুইবার রানার্সআপ হয় তার দল। তারপর থেকে তীব্র বাক্যবাণে বিদ্ধ করা হয়েছে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীকে।

দেশের প্রতি মেসির ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কিন্তু সেলিয়া জানেন, একটি শিরোপা দেশের হয়ে জিততে কতটা ব্যাকুল তার ছেলে। এল ত্রেসের একটি টেলিভিশন শোতে মেসির মা বলেছেন, ‘দেশে কাপ আনার লক্ষ্য তার, বিশ্বকাপ জেতার। এটা তার অন্যতম বড় আকাঙ্ক্ষা। বিভিন্ন সময় আমরা তাকে কষ্ট পেয়ে কাঁদতে দেখেছি। সবার প্রথমে যদি কেউ বিশ্বকাপ জিততে চায়, তবে সে-ই। বিশ্বকাপ জিততে অন্য যে কারও চেয়ে বেশি কিছু করতে চায় সে।’

আর্জেন্টাইন মিডিয়ার সঙ্গে মেসি ও তার সতীর্থদের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। সেলিয়ার মতে, বাড়াবাড়ি সমালোচনার শিকার হন তারা। আর এই চাপ থেকে ২০১৬ সালের কোপা ফাইনাল হেরে অবসরে যান মেসি। তবে আবার দেশের জন্য শিরোপা জিততেই ফিরেছে তার ছেলে।

তবে এসব সমালোচনায় শুধু মেসি নয়, পুরো পরিবারকে ভুগতে হয় বললেন সেলিয়া, ‘লিওকে নিয়ে যে সমালোচনা হয় তাতে আমরাও ভুগি। যখন লোকেরা বলে দেশের জন্য সে খেলে না কিংবা দেশের প্রতি ভালোবাসা নেই, তখন একজন মা ও একটা পরিবার হিসেবে সেটা আমাকেও কষ্ট দেয়। ভাগ্য ভালো যে লোকেরা তাকে অনেক ভালোবাসেও। আর সেটা তার মনেও সুখ জাগায় এবং তার কাছে এটার মানে অনেক কিছু।’

অবশ্য এবার মেসিকে বেশ নির্ভার দেখতে পাচ্ছেন সেলিয়া। ছেলেকে শুভ কামনা জানালেন তিনি, ‘আমি তাকে অনেক বেশি নির্ভার, শান্ত ও আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী দেখতে পাচ্ছি। আমি তাকে অনেক শুভ কামনা জানাই। আমি তাকে সময়টা উপভোগ করতে বলেছি। তাকে বলেছি যেন সুখে থাকে। সে যা জানে সেটা করতে বলেছি। আমি বলেছি, গ্রান্দোলিতে (শৈশবের মেসির বাড়ির পাশের ক্লাব) যেভাবে সে শুরু করেছিল সেভাবে যেন খেলে। এখানে তার পরিবারের সবাই তাকে সমর্থন দিচ্ছে।’

মেসির বিশ্বকাপের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে রাজি সেলিয়া, ‘আমি আমার চার সন্তানকে ভালোবাসি। কিন্তু তার বিশ্বকাপের জন্য আমি যেকোনও ত্যাগ করতে পারি।’

Print Friendly, PDF & Email