ম্যানইউকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে সেভিয়া

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : পারলেন না মরিনহো। ডেভিড ময়েসের পরবর্তী যুগে প্রথম ম্যানেজার হিসেবে ইউনাইটেডকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে ব্যর্থ হলেন এই পর্তুগিজ কোচ। স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ার কাছে ঘরের মাঠে ১-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল ইংল্যান্ডের সব থেকে সফল দলটি। প্রথম লেগ গোলশূন্য ড্র হওয়ার সুবাদে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে ১৯৫৮ সালের পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টারে উঠলো সেভিয়া।

ঘরের মাঠে পল পগবা, হুয়ান মাতাকে বেঞ্চে রেখেই একাদশ সাজান মরিনহো। এলেক্সিস সানচেজকে দলে ভেড়ালেও নামের প্রতি তেমন সুবিচার করতে পারছিলেন না এই চিলিয়ান ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধে বড় দলের তকমা লাগানো ইউনাইটেড ছিল কেবল নিজেদের ছায়া হয়েই। সেভিয়ার দুর্দান্ত কতগুলো চেষ্টা গোলবারের বাইরে সমাপ্তি ঘটে। গোলমুখে ৯ বারের চেষ্টায় মাত্র একবারই ডে গিয়াকে পরীক্ষায় ফেলতে পেরেছিল সেভিয়ার ফুটবলাররা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই দু’দল খোলস ছেড়ে বের হতে থাকে। স্প্যানিশ দলগুলোর বিপক্ষে শেষ ১৫ বারের দেখায় কোনোবারই ১ গোলের বেশি করতে পারেনি ইউনাইটেড। ৬২ মিনিটে বাজে খেলা ফেলাইনিকে তুলে পল পগবাকে নামান কোচ। তাতেই খেলার মোড় ঘুরে যেতে থাকে। ৭২ মিনিটে মুরিয়েলের পরিবর্তে মাঠে নামেন সেভিয়ার বেন ইয়াদের। মাত্র ৬ মিনিটের ব্যবধানে ইউনাইটেডের কোয়ার্টার ফাইনাল স্বপ্ন ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলেন এই স্ট্রাইকার।

৭৪ মিনিটে সারাবিয়ার ক্রসে বেন ইয়াদেরের গোলে লিড পায় স্প্যানিশ দলটি। গোল দিয়ে যেন আরও মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে সেভিয়া। এর ফলও পায় দ্রুত। ৭৮ মিনিটে কর্নার থেকে জোয়েল কোরেয়ার ক্রস থেকে বেন ইয়াদারের মাথা ছুঁয়ে বল জালে জড়ালে সেভিয়ার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা তখনই নিশ্চিত হয়ে যায়। কেননা পরের রাউন্ডে যেতে হলে ইউনাইটেডকে তখন করতে হতো কমপক্ষে ৩ গোল।

৮৪ মিনিটে রাশফোর্ডের কর্নার থেকে গোল করে কেবল ব্যবধানই কমান রোমেলু লুকাকু। ৯১ মিনিটে ডে গিয়াকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন বেন ইয়াদের। ফলে হ্যাটট্রিক বঞ্চিত থাকতে হয় তাকে। পরবর্তীতে আরও অনেকগুলো সুযোগ পেলেও সেভিয়া আর গোলের দেখা পায়নি। এর ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বর্তমান মৌসুমে প্রথমবারের মতো বিপক্ষ দলের মাটিতে জিতে শেষ আটে পৌছে গেল সেভিয়া।

Print Friendly, PDF & Email