রিও অলিম্পিকেও দ্রুততম মানব হলেন গতিদানব বোল্ট

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : ১০০ মিটার স্প্রিন্টে অলিম্পিক-হ্যাটট্রিক হয়ে গেছে উসাইন বোল্টের। সর্বকালের সেরা অ্যাথলেটদের তালিকায় নিজের নামের অন্তর্ভুক্তি পাকাপাকি করে ফেলেছেন এর মধ্য দিয়েই।

জ্যামাইকান এই অ্যাথলেটের এবারের লক্ষ্য ‘অমরত্ব’, ‘অলিম্পিক-অমরত্ব!’ তিনি কি পাবেন এই ‘অমরত্ব?’ বোল্ট দারুণ আত্মবিশ্বাসী। ১০০ মিটারের পর বাকি দুটো ইভেন্ট ২০০ ও ১০০ মিটার রিলেতে টানা তৃতীয়বারের মতো সোনা জিতলেই যে অমরত্বের পথে এগিয়ে যাওয়া হয় তাঁর।

রিওর অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ১০০ মিটার দৌড় জিতেই মুখোমুখি হলেন সাংবাদিকদের। প্রথম কথাই ছিল, ‘কী, আমি বলেছিলাম না? আমিই জিতব।’ নতুন কোনো রেকর্ড হয়নি, কিন্তু দৌড়টা জিতেই খুশি তিনি, ‘দৌড়টা দারুণ হয়েছে। আমি খুব জোরে দৌড়াইনি, তবে জিতেছি, এতেই আমি খুশি।’

চোটে পড়ে অলিম্পিকে অংশগ্রহণই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল বোল্টের। চোট কাটিয়ে ফিরেছেন। নিজের বিশ্ব রেকর্ডের (৯.৫৮ সেকেন্ড) ধারে-কাছে যেতে পারেননি দেখে মনে একটা খচখচানি কিন্তু আছেই। সংবাদ সম্মেলনে তাই এর কৈফিয়তটাও দিতে চাইলেন, ‘সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মাঝখানে সময়টা খুব অল্প। এত অল্প সময়ে আসলে আমরা অভ্যস্ত নই। আমি বিশ্রামটাও যথেষ্ট সময় ধরে নিতে পারিনি।’

একটা দারুণ লক্ষ্যের কথা জানিয়ে রাখলেন বোল্ট ২০০ মিটার স্প্রিন্টে নিজের টাইমিংটা ১৯ সেকেন্ডের নিচে নামিয়ে নিয়ে আসা। মানে নিজের ১৯.১৯ সেকেন্ড টাইমিংয়ের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করা। এ ব্যাপারে তাঁর আত্মবিশ্বাসটাও যথেষ্ট, ‘২০০ মিটার দৌড়টা হতে যাচ্ছে দারুণ কিছু।’

স্টেডিয়ামে দৌড় শুরু হওয়ার আগে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিন গ্যাটলিনের সম্ভাষণটা একেবারেই ভালো লাগেনি বোল্টের। গ্যাটলিনকে দর্শকদের দুয়ো দেওয়ার বিষয়টিতে হতাশাই ঝরেছে তাঁর কণ্ঠে, ‘আমি সত্যিই হতবাক হয়েছি ব্যাপারটাতে। এটা সত্যিই হতাশার। তবে দর্শকেরা যা-ই করুক, আমি আমার লক্ষ্যে ছিলাম অবিচল।’

Print Friendly, PDF & Email