রিও গেমসে নারী ক্রীড়াবিদরা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে সফল

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : আফ্রিকান-আমেরিকান জিমন্যাস্ট সিমোনে বিলেস থেকে শুরু করে ভারতীয় রেসলার সাক্ষ্মী মালিক কিংবা ব্রাজিলিয়ান স্বর্ণালি জুডোকা রাফায়েলা সিলভাসহ এবারের রিও গেমসে অনেক নারী ক্রীড়াবিদই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে সফল হয়েছে। পরিসংখ্যান অন্তত তাই বলে। যে আসরে উসাইন বোল্ট ও মাইকেল ফেলপসের মতো মহাতারকারা উপস্থিত থাকেন সেখানে অন্যদের দিকে দৃষ্টি দেওয়াটা একটা কঠিন। কিন্তু তারপরও এবারের আসরের নতুন মুখ বিলেস চারটি স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে নিজেকে আগামীর তারকা হিসেবে জানান দিয়ে গেছেন।

২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে অল-অ্যারাউন্ড টাইটেল পাওয়া গ্যাবি ডগলাসের পরে দ্বিতীয় আফ্রিকান-আমেরিকান হিসেবে ১৯ বছর বয়সী বিলেস অলিম্পিকে স্বর্ণ জয় করলেন। এমনকি সমাপনী অনুষ্ঠানে এই তরুণীর হাতে জাতীয় পতাকাটি তুলে দিতেও কার্পণ্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। নিজের কৃতিত্বের পরে বিলেস যেমন সাহসী মন্তব্য করেছিলেন, “আমি পরবর্তী উসাইন বোল্ট কিংবা মাইকেল ফেলপস নই, আমি প্রথম সিমোনে বিলেস”, তেমনই সাহসিকতা ছিল তার প্রতিটি ইভেন্টের লড়াইয়ে।

বিলেসের উজ্জ্বল সাফল্য সত্ত্বেও রিওতে বরাবরের মতোই লিঙ্গ বৈষম্য ছিল। ১৬৯টি পুরুষ ইভেন্টের বিপরীতে নারীদের জন্য ছিল ১৩৭টি। বিলেসের পাশাপাশি আসরে অন্য নারী অ্যাথলেটওরাও নিজ দেশকে গর্বিত করেছে। নিজের প্রথম গেমসে খেলতে নেমেই জুডোকা মাজলিনডা কেলমেনডির হাত ধরে কসোভা অলিম্পিকের ইতিহাসে প্রথম স্বর্ণ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে। টেনিসে মনিকা পুইগের কাছ থেকে পুয়ের্তো রিকো পেয়েছে প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণ। ব্রাজিলের প্রত্যন্ত অঞ্চল ফাভেলায় নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণকারী ২৪ বছর বয়সী সিলভার স্বর্ণ প্রাপ্তি অনেককেই বিস্মিত করেছে।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রধান থমাস বাখ সমাপনী অনুষ্ঠানের ভাষণে সিলভার কঠিন অধ্যবসায়কে সারা বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সিলভার মতোই ভারতীয় সাক্ষ্মী মালিকও বেড়ে উঠেছেন অত্যন্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এবারের আসরে ভারতের দুটি পদকের মধ্যে প্রথমটি এসেছে তারই হাত ধরে। ফ্রিস্টাইল রেসলিংয়ে তিনি ভারতকে ব্রোঞ্জ পদক উপহার দেন। ভারতের অপর পদকটিও এসেছে আরেক তারকা নারী ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পি ভি সিন্ধুর কাছ থেকে। ২৩ বছর বয়সী সাক্ষ্মী জানিয়েছেন তিনি যখন রেসলিং খেলা শুরু করেন তখন তার বাবা-মা বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তখন সকলের কাছে সাক্ষ্মী বলেছিলেন মেয়েরাও অনেক কিছু করে দেখাতে পারে যদি তাদেরকে আত্মবিশ্বাস দেয়া হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে এই সাক্ষ্মীর হাতেই ভারতের পতাকা তুলে দেয়া হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আগের সব আসরের তুলনায় বেশী নারী অ্যাথলেট এবার রিওতে অংশ নিয়েছে। মিসরের প্রথম অ্যাথলেট হিসেবে হিজাব পরিহিত ভারোত্তোলোক সারা আহমেদ ২২৫ কেজি ওজনশ্রেণিতে তৃতীয় হয়ে পোডিয়ামে দাঁড়িয়েছেন। ফেন্সিংয়ে আরবকে প্রথম পদক উপহার দিয়েছেন ইনেস বোবাকরি। ফেন্সিংয়ে এই ব্রোঞ্জ পদকটি আরবীয় মহিলা হিসেবে প্রথম প্রাপ্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেন্সার ইবতিহাজ মুহাম্মদ সারা বিশ্বের কাছে প্রমান করেছেন মুসলিম-আমেরিকান মহিলা হয়েও সর্বোচ্চ ক্রীড়া আসরে কিভাবে প্রতিযোগিতা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে ৩০ বছর বয়সী নিউ জার্সির এই অ্যাথলেট হিজাব পরে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে মধ্যপ্রাচ্যকে প্রতিনিধিত্ব করা একমাত্র অ্যাথলেট ছিলেন সৌদী আরবের কারিমান আবুলজায়েদাল। রিওতে অংশগ্রহণকারী ১১,৪৪৪ জন অ্যাথলেটের মধ্যে ৫১৭৫ জন ছিলেন নারী অ্যাথলেট যা মোট প্রতিযোগীর ৪৫ শতাংশ।

লন্ডন অলিম্পিকের তুলনায় যার পরিমান কিছুটা বেশি। এখন গেমসের বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতিটি জাতীয় অলিম্পিক কমিটি নারী অ্যাথলেটদের পাঠিয়ে থাকে বলে নিশ্চিত করেছে আইওসি। নারীদের জন্য নতুন ইভেন্ট হিসেবে ২০০০ সালে ভারোত্তোলন, ২০০৪ সালে রেসলিং ও ২০১২ সালে বক্সিং অলিম্পিকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে নারীদের ইভেন্টের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে বলে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কে টোকিও গর্ভনর ইউরিকো কোইকে বলেছেন, বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নারীরা দুর্দান্ত পারফরমেন্স করছে। এমনকি রাজনীতিতেও তারা অধিক সংখ্যায় এগিয়ে এসেছে। দুর্ভাগ্যবশত: জাপানি পার্লামেন্টে নারীদের সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়। অথচ জাপানে অন্যান্য ক্ষেত্রে পুরুষদের পাশাপাশি সমান তালে নারীরা কাজ করছে।

Print Friendly, PDF & Email