শেষ বলে বাংলাদেশের কথা মনে পড়ছিল স্টোকসের

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কসদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপ ফাইনালের ব্যাপারে যাই বলা হবে, তা যেনো কম হবে। শুধু ক্রিকেট নয়, খেলাধুলার ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ফাইনালের একটি ছিল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটি। যেখানে টাই হয়েছিল মূল ম্যাচ, পরে সুপার ওভারেও সমানে সমান ছিল তারা। শেষতক বাউন্ডারি সংখ্যার ভিত্তিতে শিরোপা ওঠে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের ট্রফিকেসে।

ফাইনাল ম্যাচটিতে প্রথমে ৯৮ বলে ৮৪ রান করে ইংল্যান্ডকে টাই করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন স্টোকস। পরে সুপার ওভারেও ৩ বল থেকে ৮ রান করেন ফাইনাল সেরা এ খেলোয়াড়। মূল ম্যাচে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৫ রানের দরকার ছিলো ইংল্যান্ডের, সামনে বল হাতে ছিলেন কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট।

প্রথম ২ বলেই ডট করে সমীকরণ ৪ বলে ১৫ রানে পরিণত করেন তিনি। তবে তৃতীয় বলেই বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে বসেন স্টোকস। শেষের ৩ বলে ৯ রানে নেমে আসে সমীকরণ।

চতুর্থ বলে ভাগ্যের এক বিশাল সহযোগিতা পান স্টোকস। লেগসাইডে ঠেলে দিয়েই ২ রানের জন্য ছোটেন তিনি, দারুণ ফিল্ডিংয়ে স্ট্রাইকিং এন্ডে থ্রো করেন গাপটিল। ডাইভ দিয়ে নিজের উইকেট বাঁচানোর চেষ্টা করেন স্টোকস। ঠিক তখনই গাপটিলের করা থ্রো তার গায়ে লেগে চলে যায় বাউন্ডারিতে।

ফলে দৌড়ে ২ ও ওভারথ্রো থেকে আরও ৪সহ মোট রান পায় ইংল্যান্ড। যে কারণে শেষ ২ বলে মাত্র ৩ রান বাকি থাকে স্বাগতিকদের। এসময় চাইলেই বড় শট খেলতে পারতেন স্টোকস। কিন্তু তা না করে দৌড়েই ম্যাচ শেষ করার ফন্দি আঁটেন তিনি। যাতে সফল হয়েও গেছিলেন। দুই বলেই ডাবল নিতে গিয়ে পান ১টি করে রান। যে কারণে টাই হয়ে যায় ম্যাচ।

বিশেষ করে শেষ বলে ফুলটস পেয়েও ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টা না করে স্রেফ লেগসাইডে ঠেলে দিয়ে দুই রানের চেষ্টা করেন স্টোকস। যা বেশ কৌতূহল জাগিয়েছে সবার মনে। তাই তো ম্যাচের পর শেষের দিকে তার মনের মধ্যে কী চলছিল, সে বিষয়ে জানতে আগ্রহী হয় সবাই।

জনপ্রিয় ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোতে সে ব্যাপারে জানিয়েছেনও স্টোকস। যেখানে তিনি সরাসরি উল্লেখ করেছেন ২০১৬ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দলের এক ম্যাচের কথা। ভারতের বিপক্ষে সে ম্যাচে জয়ের জন্য ৩ বলে ২ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। উইকেটে ছিলেন মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু দুজনই পরপর দুই বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়ে যান এবং শেষপর্যন্ত ৩ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১ রানের জন্য পরাজিত হয় বাংলাদেশ।

সে ম্যাচের কথা মাথায় রেখেই শেষদিকে মাথা ঠান্ডা করে খেলছিলেন স্টোকস। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ জিততে পারি, এ ভাবনাটা আমার মধ্যে এসেছিল শেষ কিংবা তার আগের বলে। আমি তখন ভাবছিলাম ২০১৬ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ম্যাচের কথা। যেখানে তারা প্রায় একই পরিস্থিতি থেকে আকাশে উড়িয়ে মারছিল এবং আউট হয়েছিল। তাই আমি ভাবছিলাম আর যাই হোক, ক্যাচ যাতে না হয়। অন্তত ১ রান নিয়ে সুপার ওভারে ম্যাচটা নেয়ার কথাই ভাবছিলাম।’

Print Friendly, PDF & Email