সন্তানকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চান ফুটবলার বাবু

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক জাতীয় বয়সভিত্তিক ফুটবলে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেলে একসময় আলো ছড়িয়েছিলেন মোজাফফর হোসেন বাবু। ক্লাব ফুটবল খেলতে গিয়ে লিগামেন্ট ছিঁড়ে ফুটবল ক্যারিয়ার মাত্র ২২ বছর বয়সেই অকালে শেষ না হলে হয়তো জাতীয় সিনিয়র দলের জার্সিতেও খেলতে পারতেন।

ফুটবলে ফেরার সেই সংগ্রামে হেরে গেছেন। এখন তিনি ব্যস্ত আরেকটি সংগ্রামে। নিজের একমাত্র সন্তান ছেলে আহানাফ আলি তামজিদের প্রাণ বাঁচানোর সংগ্রাম।

ফুটফুটে শিশুটির দিকে তাকালে যে কারও মায়া লাগতে বাধ্য। বয়স মাত্র ১ বছর ৩ মাস। যে বয়সের বাচ্চাকে নিয়ে বাবা-মায়ের সুখে-আনন্দে দিনাতিপাত করার কথা, সেই বয়সে তামজিদকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছেন তার বাবা-মা!

এই বয়সেই তামজিদ কিডনি রোগে আক্রান্ত। যেটি এখন ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যালের চিকিৎসকরা।

তারা এও জানিয়েছে তামজিদকে তারা হাসপাতালে আনতে অনেক দেরি করে ফেলেছেন। অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন। বাঁচাতে হলে অবিলম্বে ভারতের চেন্নাইয়ের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।

নইলে অল্প বয়সেই নিভে যাবে তামজিদের প্রাণ-প্রদীপ।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ভালবেসে ফারহানা আক্তার সনিয়া বিয়ে করেছিলেন ২০১২ সালে জাতীয় অ-১৪ ও ১৬ দলের হয়ে যথাক্রমে জাপানে ও নেপালে গিয়ে এএফসির দুটি টুর্নামেন্টে (দুটি আসরেই তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিল বাংলাদেশ) খেলা বাবু।

২০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তাদের ঘর আলো করে আসে তামজিদ। কিন্তু বছর খানেক যেতে না যেতেই তামজিদের এই কঠিন অসুখে যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে বাবু-দম্পত্তির মাথায়। কেননা বাবু তো বটেই, তার পরিবারের কেউই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন।

৭০ বছর বয়সী বাবা মহরম আলী সাবেক মটর পার্টসের ব্যবসায়ী, এখন প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। ৬৫ বছর বয়সী মা আনোয়ারা বেগম গৃহিণী। বাবুরা ৪ ভাই, ১ বোন। বাবু সবার ছোট। বাকি তিন ভাই-ই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন। একমাত্র বোনের আগেই বিয়ে গেছে। তিনি যথাসাধ্য সহায়তা করলেও তা যথেষ্ট নয়।

বাবুর পরিবার ভাড়া বাসায় থাকে চট্টগ্রামের অক্সিজেন রোফাবাদে। পাঠাও লিমিটেডের মাঠ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করছেন সাভার বিকেএসপির সাবেক শিক্ষার্থী বাবু। কাজের ধরণ বুঝে মাসিক বেতন পান (১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা)।

বলতে গেলে বাবা-মা এবং পুরো পরিবারটাই বাবুর আয়ের ওপর নির্ভরশীল। এই অল্প বেতনে পরিবারকে কোনমতে চালিয়ে নিলেও সন্তানের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার সার্মথ্য তার নেই। ফলে এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন তিনি।

বাবু জানান, ভারতে নিয়ে তামজিদের চিকৎসা করাতে প্রায় ৬ লাখ টাকা দরকার। এই টাকা তার নেই। এজন্য সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান তিনি।

যারা সাহায্য করতে চান তারা বিকাশ করতে পারেন এই নম্বরে-মোজাফফর হোসেন বাবু : ০১৮২৫৬৪৪৫৫০, টুটুল : ০১৭৮৪৬৩২৪২১।

বাবু এর আগে খেলেছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুব দল (জুনিয়র ‘বি’ লীগ), সিলেট একাডেমি, চট্টগ্রাম কল্লোল সংঘ, পাইওনিয়ারে নরসিংদীর রায়পুরা ক্লাব, বিকেএসপি এবং তৃতীয় বিভাগে দিপালী যুব সংঘের হয়ে। এছাড়া ২০০৭ সালে খেলেছেন ডানোন নেশন্স কাপেও (অ-১২)।

২০১৬ সালে ঢাকার পল্টনের আউটার স্টেডিয়ামের মাঠে দিপালী যুব সংঘের হয়ে একটি অনুশীলন ম্যাচ খেলতে গিয়ে গর্তে পা ঢুকে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় বাবুর। এ প্রসঙ্গে তার খেদ মেশানো স্মৃতিচারণ, ‘সে সময় আমি ইনজুরি দেখে ক্লাবের কর্মকর্তা অমিত খান শুভ্র আমাকে বাড়ি চলে যেতেন বলেন এবং চিকিৎসার জন্য ক্লাব থেকে আর্থিক সাহায্য দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, পরে ক্লাব আমাকে সাহায্য করা দূরে থাক, যোগাযোগই করেনি। আমার পরিবারের সার্মথ্য না থাকলেও অনেক কষ্টে দেড় লাখ টাকা জোগাড় করে আমার চিকিৎসা করায়। তারপরও পুরোপুরি সুস্থ হতে না পারায় এবং পরিবার চালাতে বাধ্য হয়ে ফুটবল খেলাই ছেড়ে দিই।’

নিজের ফুটবলার হবার স্বপ্ন জলাঞ্জলি দেয়া বাবুর এখন একটাই স্বপ্ন- যে কোন কিছুর বিনিময়ে নিজের সন্তানকে বাঁচানো। এজন্য দরকার সবার সহযোগিতা এবং সেটা খুব দ্রুতই।

বাবুর পাশে আমাদের সবার দাঁড়ানোর মানসিকতা হবে কিনা জানি না তবে, এতটুকু আশা করা যেতে পারে কেউ কেউ যদি তাকে সহযোগিতা করে তাহলে বেঁচে যেতে পারে বাবুর ছোট্ট শিশুটি। 

Print Friendly, PDF & Email