সাফ ফুটবল থেকে বাংলাদেশের বিদায়, সেমিতে নেপাল

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কতিনি কি জাতীয় দলের গোলরক্ষক? জয়-পরাজয় ছাপিয়ে ম্যাচ শেষে এই প্রশ্নটাই উঠল বড় করে। কিন্তু গোলরক্ষক সোহেলের নামের পাশে প্রশ্নটা নতুন করে নয়। তবু বাংলাদেশ জাতীয় দলের একাদশে খেলতে কষ্ট হয় না আবাহনী লিমিটেডের এ গোলরক্ষকের।

শনিবার (৮সেপ্টেম্বর) ২০১৮ তাঁর হাস্যকর এক ভুলের বড় মাশুল দিয়েছে বাংলাদেশ দল। নেপালের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিল ঘরের মাঠের সাফ ফুটবল থেকে!

অথচ শেষ চারে খেলার জন্য কত সহজ সমীকরণ ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য। ড্র করতে পারলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত ছিল। সে ড্র-ই করতে পারলেন না জামাল ভুইঁয়ারা।

৩২ মিনিটে গোল হজম করার পর আর ম্যাচে ফিরে আসার মতো খেলতে পারেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ফ্রি কিক থেকে নেওয়া বিমল গাত্রি মাগারের একটি সাধারণ শট সোহেলের হাত ফসকে জালে জড়ায়। এই গোলটিই হয়ে যায় ম্যাচের নিষ্পত্তি।

অথচ গোলটি হজম করার আগ পর্যন্ত ভালোই খেলছিল বাংলাদেশ। সমতায় ফিরবে কী, ৯০ মিনিটে বাংলাদেশ খেয়ে বসে আরও একটি গোল। নবযুগ শ্রেষ্ঠার গোলে স্কোরলাইন ২-০ করে নেপাল।

কিন্তু শুধু সোহেলের কি একারই দোষ? ৩২মিনিটে গোল ভাল বা খারাপ যে কোন ভাবেই হতে পারে। তাই বলে ঘরের মাঠে প্রায়  বাকি ৬২মিনিটেও কি একটি গোল পরিশোধ করার সামর্থ নেই বাংলাদেশ দলের? তবে কি নেপাল নয়, বাংলাদেশ খেলছিলো ফ্রান্স বা ব্রাজিলের মত দলের সাথে? খেলোয়াড়দের পার্ফরমেন্স যা তাতে এদেশের ফুটবল নিয়ে কোন কিছু আশা করা শতভাগ ভুল। আর নেপালের কাছে ৩২ মিনিটে যারা গোল হজম করে খেলায় ফিরতে পারে না তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখে কিভাবে?

 প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়। আর দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশই। অথচ শেষ পর্যন্ত বিদায় নিল স্বাগতিকেরা। গ্রুপ ‘এ’ থেকে সেমিফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান ও নেপাল।

ম্যাচ শেষে ‘ল্যাপ অব অনার’ দিল নেপাল। স্বাগতিক দর্শকদের কাছে এর চেয়ে যন্ত্রণার দৃশ্য আর কী হতে পারে!

Print Friendly, PDF & Email