সালাহ গোল করলেন কিন্তু রাশিয়াকে আটকাতে পারল না মিসর

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : সবার একটাই প্রশ্ন ছিল সালাহ মাঠে নামবেন তো?  উত্তর মিলেছে ম্যাচের এক ঘণ্টা আগেই, মোহাম্মদ সালাহ আছেন একাদশে। কিন্তু সালাহ কি বিশ্বকাপে থাকবেন? এর উত্তর মিলল ম্যাচের মাঝপথে, ১৫ মিনিটের ছোট এক ঝড়ে। বিশ্বকাপ রাঙানোর স্বপ্ন দেখা সালাহ একপ্রকার বিদায় বলেই দিয়েছেন।

রাশিয়ার কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে গেছে মিসর। কাল উরুগুয়ের বিপক্ষে সৌদি আরব জয় না পেলে ফিরতি টিকিট কেটে রাখতে হবে সালাহদের। দুই দলের ফর্ম চিন্তা করলে সালাহদের এবারের বিশ্বকাপ গ্রুপপর্বেই শেষ হচ্ছে।

এবার বিশ্বকাপে দুটি ব্যাপার পাশাপাশি চলছে একদিকে পেনাল্টির উৎসব, অন্যদিকে আত্মঘাতী গোল। এ ম্যাচে ছিল দুটোই। ১৯৯৮ সালের পাঁচ আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড ১৭তম ম্যাচে এসেই ছুঁয়ে ফেলল রাশিয়া বিশ্বকাপ। আত্মঘাতী গোলেই কপাল পুড়েছে মিসরের, আবার পেনাল্টি পেয়ে কিছুটা আশাও পেয়েছে আফ্রিকার দেশটি।

এর মাঝেই দুই গোল করেছেন চেরিশেভ ও জিউবা। যাঁরা কিনা আগের ম্যাচেই বদলি নেমে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েছিলেন।

এ তো শেষের গল্প, ম্যাচের শুরুটা কিন্তু সালাহর জন্য ছিল উৎসবমুখর। অবশেষে বিশ্বকাপে অভিষেক হলো তাঁর। এমন সময়ে পাদপ্রদীপের আলো সালাহর ওপরই ছিল। কিন্তু ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট সেটা টের পাওয়া গেলে তো!

শ্বাসরুদ্ধকর দুর্দান্ত গতির আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল তখন রাশিয়া। একদিকে গ্যালারির গর্জন, সে তালে চেরিশেভ, গোলোভিনদের একের পর এক ডিফেন্স চেরা দৌড়, দারুণ সব পাস। কিন্তু গোল এল না।

প্রথম ১০ মিনিটের ঝড় সামলে নিয়ে মিসরও ম্যাচে ফিরেছিল। তাতেই জমে উঠেছিল প্রথমার্ধ। মাঠের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটেছে দুই দল। এক মুহূর্তের জন্য বিশ্রাম মেলেনি চোখের। প্রতিমুহূর্তেই যদি কোনো না কোনো দল আক্রমণ করে, তাহলে নজর সরানোর উপায় কোথায়? তবে আক্রমণের দিক থেকে এগিয়ে ছিল রাশিয়াই। অনুঘটক হিসেবে স্বাগতিক দর্শকের গর্জন তো ছিলই।

সে তুলনায় মিসরের আক্রমণের ধার একটু কমই ছিল। এর পেছনে সালাহর নিষ্প্রভ থাকার ভূমিকা ছিল। প্রথমার্ধে মাত্র ১৮ বার বল ছুঁতে পেরেছেন এই ফরোয়ার্ড, শট মাত্র একটি। যাঁর কাঁধে ভর করে মিসর, তাঁর এমন পারফরম্যান্স হতাশাজনকই।

প্রথমার্ধের এই জড়তা চোট কাটিয়ে ফেরা সালাহ কাটিয়ে উঠেছেন দ্বিতীয়ার্ধে। তাঁকে আটকাতে গিয়ে একটি পেনাল্টিও দিয়েছে রাশিয়া। সেখান থেকে গোল করে বিশ্বকাপে দুই গোলের মধ্যে ব্যবধান ২৮ বছরেই আটকে দিয়েছেন সালাহ। কিন্তু ওতে কোনো লাভ হয়নি। কারণ, ম্যাচটা শেষ হয়ে গেছে আরও মিনিট দশেক আগে।

৪৭ মিনিটে শুরু হয়েছে মিসরের সর্বনাশ। রোমান জবনিনের একটি শট ঠেকাতে গিয়ে আহমেদ ফাতহির হাঁটু বিদ্রোহ করে বসল। ফল, মোহামেদ এল-শেনাউবির গ্লাভসের সামনে দিয়ে বল জালে। ৫৯ মিনিটে দেনিস চেরিশেভের গোলেও শেনাউবির করার কিছু ছিল না। অনুশীলনের ড্রিল মেনে মাপা একটি আক্রমণের সফল পরিণতি এল চেরিশেভের পা থেকে।

২ মিনিট পর আরতিয়ম জিউবার গোলের দায় অবশ্য মিসর রক্ষণের। মাঝ মাঠ থেকে উড়ে আসা এক বল দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। মিসরের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েও বল ক্লিয়ার করতে দেরি করলেন। সেই সুযোগে জিউবার শট পোস্ট ঘেঁষে জালে।

এ জয়ে স্বাগতিক দলের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা প্রায় নিশ্চিত। আগামীকাল সৌদি আরবকে ন্যূনতম ব্যবধানে হারালেই উরুগুয়ে রাশিয়াকে সঙ্গী করে শেষ ষোলোতে পৌঁছে যাবে। এমনকি সে ম্যাচ ড্র হলেও চলবে রাশিয়ার। সৌদি আরবের সঙ্গে ২৫ জুনের ম্যাচটিই তখন বিশ্বকাপে সালাহর শেষ ম্যাচ হয়ে দাঁড়াবে।

Print Friendly, PDF & Email