হাইভোল্টেজ ফাইনালে নামবে ব্রাজিল-জার্মানি

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : অলিম্পিকের ফাইনালে জিতলেই অধরা স্বর্ণ ছুঁতে পারবে ব্রাজিল। সোনার লড়াইয়ে এবার নেইমারদের মুখোমুখি জার্মানি। আর নেইমারকে ঘিরেই অধরা সোনা জয়ের স্বপ্ন দেখছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বার্সেলোনার এই তারকার সঙ্গে সঠিক সময়ে জ্বলে উঠছেন মারকুইনহোস, লুয়ান, গাবিগোল আর গ্যাব্রিয়েল জিসাস। অধরা স্বর্ণ জয়ের লক্ষ্য থাকছে জার্মানদেরও।

রিও ডি জেনেইরোর বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামে শনিবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত আড়াইটায় অলিম্পিক ফুটবলের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও জার্মানি।

দলের কোচ রজারিও মিকেলও নেইমারের পারফর্মে উচ্ছ্বসিত। হন্ডুরাসের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নেইমার গোল করেছেন দুটি। যার প্রথমটি মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মাথায়। অলিম্পিক ফুটবলের ইতিহাসে যা দ্রুততম গোলের রেকর্ড। ম্যাচ শেষের আগ মুহূর্তে পেনাল্টি শটে বাকি গোলটি করেন নেইমার।

তবে, ঘরের মাঠের মেগা এই ইভেন্টের শুরুতে নেইমাররা ছিলেন একেবারেই বিবর্ণ! প্রথম দুই ম্যাচেই পুঁচকে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরাকের সঙ্গে ড্রয়ের হতাশায় ডোবে পেলের উত্তরসূরিরা। আসর থেকেই স্বাগতিকদের বাদ পড়ার শঙ্কা জেগেছিল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডেনমার্ককে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েই স্বরূপে ফিরে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেন নেইমাররা।

কলম্বিয়াকে ২-০ গোলে হারানোর পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেমিতে হন্ডুরাসকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেয় নেইমারের ব্রাজিল। এর আগে ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকের ফাইনালে মেক্সিকোর কাছে হেরে তাদের অধরা গোল্ড মেডেল অধরাই থেকে যায়। এবার স্বাগতিক হিসেবে ব্রাজিলের সামনে আক্ষেপ ঘোঁচানোর সবচেয়ে বড় সুযোগই দেখছেন ফুটবলবোদ্ধারা। যা পারেননি পেলে-রোনালদো-রোনালদিনহো-রবার্তো কার্লোস-কাকারা।

কিন্তু, শিরোপার লড়াইয়ে এই ব্রাজিলকে মোটেই ভয় পাচ্ছে না জার্মানি। শুরু থেকেই দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে আসছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির জুনিয়ররা। প্রতিপক্ষের জালে এ পর্যন্ত ২১টি গোল করেছে তারা। তিন তিনবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা জার্মানি ১৯৬৪ সালের টোকিও অলিম্পিক এবং ১৯৮৮ সালের সিউল অলিম্পিকের ব্রোঞ্জ জিতেছিল।

১৯৮৮ সালের পর থেকে আর কখনোই অলিম্পিকের আসরে খেলেনি জার্মানরা। এবার তাই আক্ষেপ ঘোঁচানোর সুযোগ থাকছে তাদের সামনেও। এই ব্রাজিলের মাঠেই বিশ্বকাপ জিতেছে দেশটি। এবারের অলিম্পিকের নারী ফুটবলের ফাইনালে সুইডেনকে ২-১ গোলে হারিয়ে মাত্রই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জার্মানিরা।

প্রথম সেমিফাইনালে হন্ডুরাসকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠে রজারিও মিকেলের ব্রাজিল। আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নাইজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে হোরস্ট রুবেশের জার্মানি।

ব্রাজিলের শোকেসে সব ট্রফিই আছে, নেই শুধু মরীচিকা হয়ে থাকা অলিম্পিকের ট্রফি। তবে প্রতিপক্ষ জার্মানি বলেই ব্রাজিলিয়ানদের মনে নিশ্চিত জ্বলে উঠবে প্রতিশোধের আগুন। বেলো হরিজেন্তের এস্তাদিও মিনেইরোয় জার্মানির বিপক্ষে ২০১৪ এর বিশ্বমঞ্চে ঘরের মাঠে সেমিফাইনালে ৭-১ গোলের বুক ভেঙে দেওয়া সেই পরাজয় এই প্রতিশোধের ব্যাপারটা টেনে আনছে।

বিশ্বকাপে জার্মানদের কাছে ৭-১ গোলে হারের দুঃসহ স্মৃতিটা নিশ্চয়ই ভোলেনি নেইমার-পেলে-রোনালদো-রোনালদিনহোদের দেশটি। তাইতো দগদগে ক্ষতে প্রলেপ দিতে আর ব্রাজিলের ফুটবলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অলিম্পিকের সোনা জিতে ইতিহাস গড়ার সুযোগ নেইমারদের সামনে।

সেই ম্যাচের পর আজই দুই দলের প্রথম দেখা। জাতীয় দল না হলেও ঘুরেফিরে ওই ম্যাচের কথাই বারবার সামনে চলে আসছে। নেইমারের কাছেও এর গুরুত্ব অন্যরকম। মিনেইরোর লজ্জা মাঠে থেকে পেতে হয়নি তাকে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে বাজে ট্যাকলে চোট পাওয়ায় বার্সা তারকাকে সেমিতে দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছিল। কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে গেছে নেইমারের। এবার বাকি জার্মানির বিপক্ষে প্রতিশোধ।

অলিম্পিকে খেলবেন বলে কোপা আমেরিকার শতবর্ষী আসরে খেলেননি ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমার। অলিম্পিকে অধরা সোনা এনে দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ব্রাজিলের এই সেনসেশন। ব্রাজিলের দিকে যেমন তাকিয়ে কোটি কোটি সমর্থক তেমনি তাকিয়ে নেইমারের দিকেও।

Print Friendly, PDF & Email