‘হিজাব’ পরে মার্কিন মুসলিম নারীর অলিম্পিক জয়!

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : অলিম্পিকে হয় নতুন নতুন সব ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে ইবতিহাজ মুহাম্মদের নাম। ‘হিজাব’ পরে প্রথম আমেরিকান নারী হিসেবে অলিম্পিকের মতো সর্বোচ্চ ক্রীড়া আসরে লড়লেন ইবতিহাজ। পদক জিততে পারেননি। কিন্তু ধর্ম ও নৈতিকতায় অবিচল থেকে সারা বিশ্বের মিডিয়ার চোখ কেড়েছেন। শিরোনাম হয়েছেন এই ব্যতিক্রমী কাজে। কুড়িয়েছেন প্রশংসা।

অলিম্পিক জয় করেছেন ইবতিহাজ। মাথা উঁচুই থেকেছে তাঁর। রিও অলিম্পিকের তৃতীয় দিনে ফেন্সিংয়ের ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতায় লড়েছেন ৩০ বছরের ইবতিহাজ। ৩২ জনের রাউন্ডে জিতে উল্লাস করেছেন। উঠেছেন শেষ ষোলোতে। কিন্তু সেখানে হারায় পদক জেতা হয়নি নিউ জার্সির এই ফেন্সারের। কিন্তু দেশপ্রেমী হিসেবে নখে মার্কিন পতাকা এঁকে এবং মুসলিম নারী হিসেবে সারা শরীর ঢেকে লড়াই করে মন জিতেছেন অনেকের।

ফেন্সিংয়ের দলগত ইভেন্ট বাকি তাঁর। এটাই তাঁর প্রথম অলিম্পিক। এবং সেখানে হিজাব পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে দারুণ খুশি ইবতিহাজ, “খুব সুন্দর অবিজ্ঞতা হলো আমার। এটা আমার জন্যই লেখা ছিল। হারলেও ইউএসএ টিমের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্বিত আমি।” ছোটবেলায় ফুটবল, ভলিবল ও অন্যান্য খেলা খেলেছেন। কিন্তু তাতে শরীর পুরোটা ঢাকা থাকে না।

ইবতিহাজ বলেছিলেন, ১০ পেরুনোর পর ফেন্সিংই তাকে খুঁজে নেয়। এরপর থেকে স্বচ্ছন্দে লড়ে যাচ্ছেন হিজাব পরে। এবার লড়লেন দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে। একে মুসলিম। আবার অশেতাঙ্গ। আমেরিকার মতো দেশেও বৈষম্যের শিকার হয়ে বেড়ে উঠেছেন ইবতিহাজ। নিজেই বলেছেন তা। আর সেই দেশে মুসলিম বিদ্বেষ এখন খুব। তবু তার এই হিজাব পরে অলিম্পিকে অংশ নেওয়। কেমন লেগেছে? “এটা বলে বোঝানো কঠিন।

অনেক আবেগ সামলে খেলায় মন দিয়েছি।” ইবতিহাজের আশা, তার থেকে মুসলিম নারীরা খেলাধুলার প্রেরণা নেবে, “মুসলিম মেয়েরা খেলায় অংশ নিতে পারে না। অমুসলিম ও মুসলিম সমাজে এমন ভুল ধারণা আছে। আমি সেই ধারণা ভেঙে মেয়েদের বোঝাতে চাই, সক্রিয় থাকা ও খেলাধুলায় জড়িত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

Print Friendly, PDF & Email