আফগানিস্তান সিরিজকে চ্যালেঞ্জের চোখে দেখছেন মাহমুদউল্লাহ

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কআফগানিস্তানের চেয়ে বেশ আগেই বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। এখন তো পরাশক্তিদের কাছ থেকে সমীহ আদায় করে তারা। আর এই দলটিই আফগানদের বিপক্ষে প্রথমবার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে যাচ্ছে। তিন ম্যাচের এই টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয়ের পাল্লা স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের দিকে ভারী। কিন্তু এ সিরিজকে কোনোভাবে হালকা চোখে দেখছে না তারা। একে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলার প্রত্যয় সহঅধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কণ্ঠে।

আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা কেবল এক ম্যাচের। ২০১৪ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে দেশের মাটিতে ওই ম্যাচে হেসে-খেলে জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার তারা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে নিরপেক্ষ ভেন্যু ভারতে। নতুন এই সিরিজকে চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন মাহমুদউল্লাহ।

রবিবার সংবাদ সম্মেলনে এসে আফগান সিরিজ নিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা জানালেন মাহমুদউল্লাহ, ‘এই সিরিজ অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। খুব একটা সহজ হবে না। আমাদের খুব ভালো খেলেই সিরিজটা জিততে হবে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য সিরিজ জেতা।’

আফগানিস্তান বেশ সমীহ পাচ্ছে বাংলাদেশের কাছে। নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে এই সিরিজ জয়ের বিকল্প নেই মাহমুদউল্লাহর মতে, ‘নতুন দলগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান খুব ভালো ক্রিকেট খেলে। আমাদের সুনাম ধরে রাখতে জয়ের বিকল্প নেই।’

প্রতিপক্ষ সমীহ পাওয়ার আরও একটি কারণ আছে। র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে আফগানরা, ১২ পয়েন্টে। বাংলাদেশ ৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বরে, আর ৮৭ পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরে আফগানিস্তান। এই সিরিজে আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করলে ৯ নম্বরে উঠে যাবে বাংলাদেশ, আর দুই ধাপ নেমে দশম হবে আফগানিস্তান।

অবশ্য র‌্যাংকিংয়ে উন্নতির চিন্তায় মগ্ন নয় ভাংলাদেশ। জেতাটাই মুখ্য বিষয় মাহমুদউল্লাহর চোখে, ‘র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা ৮ নম্বর, আমরা দশে। তাদের সঙ্গে খেলা অবশ্যই কঠিন। কিছুদিন আগেও আমাদের নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। কিন্তু এখন আমরা অনেক উন্নতি করছি। এই সিরিজ আমাদের জন্য দারুণ একটা সুযোগ। এই সিরিজ জিতলে পরের সব সিরিজের জন্য দারুণ সুযোগ তৈরি হবে। আর ম্যাচ জিতলে এমনিতেই এগিয়ে যাব।’

চন্ডিকা হাথুরুসিংহে প্রধান কোচের দায়িত্বের পাশাপাশি তামিম ইকবালদের ব্যাটিং শেখাতেও ভূমিকা রাখতেন। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ায় ব্যাটিং কোচের জায়গাটিও শূন্য হয়ে গেছে। গত তিন সিরিজ ব্যাটিং কোচ ছাড়াই খেলেছে বাংলাদেশ। এই শূন্যতা কাটিয়ে ওঠা কতটা চ্যালেঞ্জের ছিল জানালেন মাহমুদউল্লাহ, ‘অনুশীলনের ফাঁকে ফাঁকে আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলি। আমরা যারা ব্যাটসম্যান আছি তারা নিজেদের দায়িত্ব কতটা নিজেরা নিতে পারি সেটা দেখানোর বড় সুযোগ এটা। যদিও ওয়ালশ (কোর্টনি) আছেন, সুজন (খালেদ মাহমুদ) ভাই আছেন। তারা সহায়তা করছেন।’

পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে আরিফুল হক ও সৌম্য সরকারের ওপরই আস্থা রাখতে চান মাহমুদউল্লাহ। আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খানকে নিয়ে অনেক বেশি আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু সেদিকে কান দিতে চান না সহঅধিনায়ক, ‘রশিদ ভালো বোলার। বিশেষ করে গত ৬ মাস ভালো ক্রিকেট খেলছে সে। আমাদেরও ওভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সবকিছু সহজ স্বাভাবিক রাখা দরকার। আমরা নিজেরা কী করতে পারি, সেটার দিকে মনোনিবেশ করতে পারলে আমাদের জন্যই ভালো হবে।’

রশিদের সঙ্গে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের খেলছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দুজন একই ক্লাবে থাকায় আফগান স্পিনারের ব্যাপারে খুঁটিনাটি জানতে সুবিধা হবে মনে করেন মাহমুদউল্লাহ, ‘সাকিব নেটে রশিদকে খেলছে, খুব কাছ থেকে রশিদকে বলও করতে দেখছে। তার কাছ থেকে হয়তো আমরা ধারণা পাব। রশিদের ব্যাপারে সাকিবের কাছ থেকে অবশ্যই ছোটখাটো বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করব। আমার মনে হয় ওগুলো আমাদের অনেক সাহায্য করবে।’

Print Friendly, PDF & Email