যে কারণে পেলে নন, অলিম্পিকের মশাল জ্বালালেন দে লিমা

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : প্রথমে শোনা গিয়েছিল, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অলিম্পিকের মূল মশালটা প্রজ্বলিত করবেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পেলে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আয়োজকদের সরে আসতে হয় সেই পরিকল্পনা থেকে। পেলে নিজেই জানিয়ে দেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে মারাকানাতেই যেতে পারবেন না তিনি। তাহলে কে পাবেন মশাল জ্বালানোর সেই সম্মান?

জবাবটা মিলল আজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। শেষ পর্যন্ত মূল মশালটা প্রজ্বলিত করেছেন ব্রাজিলের সাবেক ম্যারাথন দৌড়বিদ ভানদেরলেই দে লিমা। পেলের মতো বিশ্বজোড়া খ্যাতিমান নন তিনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে, কে এই ডি লিমা?ভাগ্য সহায় থাকলে দে লিমাই হতে পারতেন অলিম্পিক ম্যারাথনে ব্রাজিলের হয়ে প্রথম সোনাজয়ী দৌড়বিদ। ২০০৪ এথেন্স অলিম্পিকে তিনিই সবচেয়ে ফেবারিট ছিলেন। দৌড়টা শুরুও করেছিলেন দারুণভাবে। কিন্তু কপাল মন্দ ছিল তাঁর। ৩৫ কিলোমিটার মার্কে যখন নিকটতম প্রতিপক্ষের চেয়ে প্রায় ২৫-৩০ সেকেন্ডে এগিয়ে তখনই হঠাৎ দর্শকদের মধ্যে থেকে এক উদ্‌ভ্রান্ত যাজক দে লিমার পথ আটকে তাঁকে জাপটে ধরেন। পরে অন্য এক দর্শক এসে তাঁকে ছাড়িয়ে দেন। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে অনেক। এই ঘটনায় প্রায় ২০-২৫ সেকেন্ড দেরি হয়ে যায় তাঁর। তাই সোনা আর জিততে পারলেন না দে লিমা। পেলেন ব্রোঞ্জ।এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) দে লিমাকে খেলোয়াড়সুলভ চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য ‘পিয়েরে দে কুবার্তিন পদক’ দিয়ে সম্মানিত করেছিল। পরে এথেন্সে বিচ ভলিবলে সোনাজয়ী ব্রাজিলের এমানুয়েল রেগো এক অনুষ্ঠানে তাঁর পদকটা দে লিমাকে দিয়ে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু সেটি প্রত্যাখ্যান করে দে লিমা জানিয়ে দেন, তাঁর কাছে নিজের জেতা ব্রোঞ্জটাই সোনার চেয়ে দামি।

তবে অলিম্পিকে সোনা জিততে না পারলেও ১৯৯৯ ও ২০০৩ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে কিন্তু দুইবার ঠিকই সোনা জিতেছেন দে লিমা।

এমন যে অ্যাথলেট, তাকে আজ মশাল জ্বালানোর সম্মান দিয়ে অলিম্পিক যেন নিজেও সম্মানিত হলো।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার