পদক ছাড়াই ফিরলো বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দল!

হুমায়ুন সম্রাট :  গত ১৯ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মালয়েশিয়ার পেনাং শহরে অনুষ্ঠিত হলো ইয়ুথ এন্ড জুনিয়র ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশীপ-২০১৬ ও একই সঙ্গে একই সময়ে একত্রে অনুষ্ঠিত হয় ইয়ুথ এন্ড জুনিয়র কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়ন-২০১৬। এছাড়া, ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় জুনিয়র ও সিনিয়র কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়ন-২০১৬।

বর্তমানে মিডিয়া ও ক্রীড়াঙ্গণে সমালোচিত বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের অ্যাডহোক কমিটির অক্ষতার কারণে উক্ত চ্যাম্পিয়নশীপে শেষ মুহূর্ত্বে তড়িঘড়ি করে অংশ নেয় ৪জন খেলোয়াড় ও ৩জন কর্মকর্তাসহ মোট ৭সদস্যের বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দল।

অনুশীলনের ঘাটতি ও পরিকল্পনাহীন ভাবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বাংলাদেশ দল। বলে রাখা ভাল কোন কোচ ছাড়াই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বাংলাদেশ দল! ফলে পদক ছাড়াই দেশে ফিরতে হয় বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দলকে।

এবার জেনে নেয়া যাক গত ২০১৫ সালের নভেম্বরে ভারতের পুনেতে অনুষ্ঠিত ইয়ুথ, জুনিয়র ও সিনিয়র কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশীপে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দলের অর্জনটা কি ছিল। সেবার মাবিয়া আক্তার সিমান্ত, জহুরা আক্তার রেশমা ও মুস্তাইন বিল্লাহ এই ৩জন খেলোয়াড় অংশ নেয় প্রতিযোগিতায়। কোচ হিসেবে ছিলেন বিদ্যুৎ কুমার রায়।

চ্যাম্পিয়নশীপে ইয়ুথ গ্রুপে অংশ নিয়ে সিমান্ত অর্জন করে স্বর্ণ পদক। আর জুনিয়র ও সিনিয়র গ্রুপে খেলে সিমান্ত পায় আরো ২টি সিলভার পদক। সবমিলে সিমান্ত একাই অর্জন করে ৩টি পদক! আর রেশমা পেয়েছিল ইয়ুথ, জুনিয়র ও সিনিয়র গ্রুপে খেলে মোট ৩টি সিলভার পদক। এবং মুস্তাইন বিল্লাহ পেয়েছিল ১টি ব্রোঞ্জপদক। সবমিলে গতবছর তিন ভারোত্তোলক বাংলাদেশের হয়ে অর্জন করে স্বর্ণসহ মোট ৭টি পদক।

কিন্তু এবার কোন পদকই পেল না বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দল! এবার এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ৭সদস্যের বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে ৪জন খেলোয়াড় এবং ৩জন কর্মকর্তা। বাংলাদেশ দলের সদস্যরা হলেন হামিদুল ইসলাম, শিমুল কান্তি সিংহা, ফাহিমা আক্তার ময়না ও জহুরা আক্তার নিশা। কর্মকর্তারা হলেন সেনাবাহিনীর কর্নেল আকবর, কাজল দত্ত ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এপিএস শিশির সরকার।

প্রতিযোগিতায় হামিদুল ইসলাম ৭৭কেজি ওজন শ্রেনীতে ১৬জনের মধ্যে হন ১১তম।  নিশা ৭৫কেজিতে ৭জনের মধ্যে হন ৭তম। ময়না ৫৮ কেজিতে ৮জনের মধ্যে হন ৬ষ্ঠ, আর শিমুল ৬৯কেজিতে ১১জনের মধ্যে হন ৯ম। উল্লেখ্য ভালমত অনুশীলন করে না যাওয়ার ফলে ময়না তার আগের পারফরমেন্সের চেয়ে ৩০কেজি কম তুলেছে। সে আগে জাতীয় প্রতিযোগিতায় তুলছে ৭৫ ও ৯৫ মোট ১৭০কেজি। আর মালয়েশিয়াতে গিয়ে এ প্রতিযোগিতায় ময়না উত্তোলন করেছে ৬০ ও ৮০ মোট ১৪০কেজি।

এতো গেল ঠিকমত অনুশীলন করে প্রতিযোগিতায় খেলতে না গেলে যা হয় তার ফলাফল। এদের চেয়েও এবছর ভারতের গোয়াতে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে ভাল রেজাল্ট করা খেলোয়াড়দেরকে দলে নেয়া হয়নি। এ নিয়ে মালয়েশিয়াতে যাওয়ার আগে বাদ দেয়া পদক জয়ী সম্ভাবনাময়ী খেলোয়াড়দের তোপের মুখে পড়ে ফেডারেশনের কর্তারা।

শুধু তাই নয়, বর্তমান অ্যাডহক কমিটির অদক্ষতার কারণে সময়মত বিমান টিকিট ও ভিসা ব্যবস্থা করতে না পারায় চ্যাম্পিয়নশীপে নাম এন্ট্রি থাকা সত্বেও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেনি মোল্লা সাবিরা। আর্মি দলের দুই পুরুষ খেলোয়াড় মালয়েশিয়াতে যেদিন যাই তার একদিন পর মোল্লা সাবিরাকে ছাড়াই মালয়েশিয়ার বিমানে চড়ে দলের বাকি সদস্যরা। জানা গেছে চ্যাম্পিয়নশীপে সিমান্ত ও রেশমার নাম এন্ট্রি ছিল। কিন্তু তাদের কে প্রতিযোগিতায় খেলার ব্যবস্থা করে দিতে ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান বিতর্কীত ভারোত্তোলন অ্যাডহক কমিটি।

বাংলাদেশ দলের কোন পদক না পাওয়া এবং সময়মত খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন নিশ্চিত করতে না পারায় ক্রীড়াঙ্গনে আরো সমালোচনার মুখে পড়েছে বর্তমান ভারোত্তোলন অ্যাডহক কমিটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্তমান ভারোত্তোলন অ্যাডহক কমিটির কয়েকজন সদস্য বলেন, বর্তমানে এসব অদক্ষ লোকজনের মাধ্যমে তৈরী অ্যাডহক কমিটি দিয়ে যদি স্বনামধন্য বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশন পরিচালনা করা হয়, তাহলে এসএ গেমস ও কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশীপে স্বর্ণ পাওয়া এই ফেডারেশন তার অস্তিত্ব ও সুনাম হারাবে।

তাই এসব অযোগ্য ও অদক্ষ লোকজন কে সরিয়ে দক্ষ ও ভাল সংগঠকদের দিয়ে ফেডারেশন পরিচালনা করা উচিত। তারা আরো বলেন, এভাবে চললে পদক তো দুরের কথা খেলোয়াড়রা হতাশ হয়ে ভারোত্তোলনই ছেড়ে দিবে। তাই ভারোত্তোলনের সুনাম ধরে রাখার জন্য এনএসসির উচিত সঠিক কার্যকরী ও গ্রহন যোগ্য পদক্ষেপটা তাড়াতাড়ি নেয়া উচিত। তা না হলে হয়তো সামনে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের জন্য আরো খারাপ খবর অপেক্ষা করছে।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার