অতীত ভুলে সামনে তাকিয়ে সাকিব

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে সর্বশেষ সফর ভালো কাটেনি বাংলাদেশের। একটি বাদে সব ম্যাচ হার মানতে হয়েছিল। যে ম্যাচে হারের তেতো স্বাদ পায়নি, সেটা ভেসে যায় বৃষ্টিতে।

চার বছর পর আবার ক্যারিবিয়ানের মাটিতে বাংলাদেশ। এবার দুটি টেস্ট এবং তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির চ্যালেঞ্জ। চার বছর আগের ব্যর্থতা কি উঁকি দিচ্ছে বাংলাদেশ দলে? টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানালেন, অতীত নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না তারা।

বুধবার অ্যান্টিগায় শুরু হবে প্রথম টেস্ট। লড়াই শুরুর আগের দিন সংবাদ মাধ্যমকে সাকিব বললেন, ‘অতীত নিয়ে ভেবে লাভ নেই। আগের চেয়ে আমাদের  দলটা অনেক ভালো। তাই কী হবে না ভেবে নিজেদের কাজ ঠিকভাবে করার দিকে মনোযোগ দিতে চাই।’

গত ডিসেম্বরে টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি টেস্ট দলের নেতৃত্বও ফিরে পেয়েছেন সাকিব। কিন্তু ইনজুরির কারণে জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে পারেননি। টেস্ট অধিনায়কত্বের দ্বিতীয় ইনিংস তাই শুরু করতে যাচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজে। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হলেও বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ভীত নন, ‘আমি  অধিনায়কত্ব নিয়ে খুব একটা ভাবছি না। আমি মনে করি, আগের বারের চেয়ে এখন নেতৃত্ব দেওয়া সহজ হবে। কারণ, দলটা আগের চেয়ে অনেক ভালো।’

চার বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ব্যর্থ হলেও ২০১৫ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ঘুরে দাঁড়ানো শুরু বাংলাদেশের। অনেকটা পথ পেরিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন অনেক পরিণত। সাকিব তাই ভালো খেলতে আত্মবিশ্বাসী, ‘আমরা খারাপ সময় পেরিয়ে এসেছি, গত চার বছরে আমরা অনেক কিছু শিখেছি, অনেক সাফল্য পেয়েছি। হয়তো সব সময় ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারিনি। কিন্তু একজন ক্রিকেটার পাঁচ বছর বাধা-বিপত্তির মধ্যে দিয়ে গেলে তার কাছে কোনও চ্যালেঞ্জই কঠিন মনে হয় না।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চিন্তা পেসারদের নিয়ে। নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পেস সহায়ক কন্ডিশনে পেসারদের ব্যর্থতার কারণে শঙ্কা হতেই পারে। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেসারদের ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব মাত্র ৭ বার। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছিলেন শাহাদাত হোসেন রাজীব। এরপর আরও তিনবার ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া রবিউল ইসলাম দুবার এবং রুবেল হোসেন একবার এমন কীর্তি গড়েছেন।

দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও পেসারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন সাকিব, ‘আমাদের ফাস্ট বোলারদের দেশে এবং দেশের বাইরে ব্যর্থই বলতে হবে। আমার মনে পড়ে না সর্বশেষ কবে আমাদের একজন পেসার টেস্টে এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। আমাদের স্পিনাররা কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে দলকে সাফল্য এনে দিতে সক্ষম। আমাদের পেসারদেরও একই কাজ করতে হবে। হয়তো  বিসিবির ফাস্ট বোলিং ক্যাম্প আমাদের সাহায্য করবে এবার।’

Print Friendly, PDF & Email