আফগানদের গুঁড়িয়ে দেওয়ার মিশন টাইগারদের

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক প্রায় দশ মাস পর টাইগাররা ওয়ানডে খেলতে মাঠে নামছে মিরপুরের ২২ গজে। প্রতিপক্ষ পুচকে আফগানিস্তান! ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর আড়াইটায়। সরাসরি দেখা যাবে গাজী টিভির পর্দায়।

ম্যাচটি নিয়ে টাইগার কোচ ও অধিনায়ক দুইজনই সতর্ক, পচা শামুকে পা না কাটতে। এদিকে আফগান অধিনায়ক সরাসরিই যুদ্ধ ঘোষণা করলেন! বাংলাদেশকে হারাতে চায় তারা। সেই আত্মবিশ্বাসের রসদ অবশ্য প্রস্তুতি ম্যাচে ৬৬ রানের বড় জয়ে ইতিমধ্যেই নিয়ে নিয়েছেন আইসিসির সহযোগী এই সদস্যটি।

টাইগাররা গত বছর পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই ধারা অব্যহত রাখতে চাইবে মাশরাফি এন্ড কোং।

তাইতো সতীর্থদের উদ্দেশ্যে সরাসরিই বললেন যাও এবং গুঁড়িয়ে দাও। সংবাদ সম্মেলন থেকে ফিরে যাওয়ার পথে মাশরাফিকে করা হলো প্রশ্নটা। সতীর্থদের জন্য আপনার মেসেজ কি থাকবে? মাশরাফির উত্তর, ‘গো এন্ড জাস্ট কিল ইট’। যা বাংলায়, ‘যাও এবং গুঁড়িয়ে দাও’।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশের জন্যে এমনিতেই তিন ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সিরিজেই নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরতে চায় বাংলাদেশ। স্বাচ্ছন্দ্যের এই ফরম্যাটে শেষ ম্যাচটা খেলেছে বাংলাদেশ ১০ মাস আগে।

মাশরাফিরা তাই মুখিয়ে থাকবেন বিরতির ঘাটতি কাটিয়ে পুরনো ছন্দে ফিরতে। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানকে সমীহ করলেও অলক্ষ্যে টাইগাররা পাখির চোখ করছে ওয়ানডেতে নিজেদের আগ্রাসী রূপ দেখাতে।
টাইগারদের টিম মিটিং

পরিসংখ্যান বিচারে দুই দলই সমান! এখন পর্যন্ত দুইবার মুখোমুখি হয়েছে একে অন্যের। একবার করে জিতেছে প্রত্যেকে দল। ২০১৫ বিশ্বকাপে আফগানিস্তাকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছিলো লাল-সবুজরা। তাদের কাছেই ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে হেরেছিল বাংলাদেশ।

রবিবার নিজেদের ৩১৩ তম ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে তাই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। আর তাইতো  মাশরাফি তার বাহিনীর প্রত্যেকের কানে মন্ত্র যপে দিচ্ছেন-‘যাও এবং গুঁড়িয়ে দাও’।

শনিবার ম্যাচের আগের দিন অনুশীলনটা ঠিক ভাবে হয়নি টাইগাদের বৃষ্টির বাধাতে। বৃষ্টি বাগড়া দিতে পারে ম্যাচের দিনও। এটা নিয়ে মাশরাফি নিজেও চিন্তিত। কারণ ম্যাচের দৈর্ঘ্য ছোট হওয়াটা আফগানদের জন্যই সুবিধার।

মাশরাফি বরাবরই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চান। বৃষ্টি নিয়ে মাশরাফির কপালে চিন্তার ভাজ, ‘বৃষ্টি সব সময় একটি বড় ব্যাপার। বৃষ্টি হলে কিছু হিসাব-নিকাশ থাকে। আশা করি কালকের ম্যাচটি ভালোমত হবে।’

গত বছর নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে যেভাবে শেষ করেছিলেন ওয়ানডে সিরিজ, এবার সেভাবেই শুরু করতে চান। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চাই। আমরা যেভাবে শেষ করেছি সেভাবেই খেলা শুরু করতে চাই।’

আফগানরাও দুই বছর আগে বাংলাদেশকে হারানোর সুখ স্মৃতি নিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে চায়। অধিনায়ক আজগর স্ট্যানিকজাই বলেছেন, ‘দুই বছর আগে আমরা বাংলাদেশকে হারিয়েছি সেটা মনে আছে।

আমাদের দল টেস্ট খেলুড়ে দলের বিরুদ্ধে অনেক খেলেছে। তখন আমরা অনেক কম অভিজ্ঞ ছিলাম। কিন্তু এখন আমরা বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ খেলেছি। আমি আশা করছি, এবার দলটা আগের চেয়ে ভালো খেলবে। সবমিলিয়ে আমরা বাংলাদেশকে ভয় পাচ্ছি না।’অনুশীলনে ব্যস্ত আফগানরাম্যাচের দিন সকালে উইকেট দেখেই মূলত সেরা কম্বিনেশন দাঁড় করানোর চেষ্টা করে কোচ-অধিনায়ক। জানা গেছে রবিবার অভিষেক হচ্ছে না তরুণ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। তিন নাম্বারে খেলতে পারেন অভিজ্ঞ ইমরুল কায়েস। সেই সঙ্গে সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে একটিমাত্র ম্যাচ খেলা তাইজুল ইসলাম ফিরতে পারেন সেরা একাদশে।

এদিন তিন পেসারই নিয়ে মাঠে নামার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।  মাশরাফির সঙ্গে তাসকিন ও শফিউল। প্রথম ম্যাচে রুবেলকে হয়তো সাইডবেঞ্চে বসতে হবে।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম ও তাসকিন তাসকিন।

Print Friendly, PDF & Email