আবারও মাহমুদুল্লাহর জাদু

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : রাজশাহী কিংসের সঙ্গে শেষ ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ বলে উইকেট পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। কাল চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে উইকেট পেলেন চতুর্থ ও শেষ বলে। অমিল বলতে প্রথম উইকেটটা এসেছে দ্বিতীয় বলে।

প্রায় ঘুমপাড়ানি এক ম্যাচের সব উত্তেজনা যেন বিস্ফোরিত হলো শেষ দিকে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে মাহমুদউল্লাহর করা শেষ ওভারটায়। রাজশাহী-খুলনা ম্যাচের পুনরাবৃত্তি হলো খুলনা-চিটাগং ম্যাচেও।

সেদিন রাজশাহীর দরকার ছিল শেষ ওভারে ৭ রান। মাহমুদউল্লাহ নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। রাজশাহী হারে ৩ রানে। কাল শেষ ওভারে চিটাগংয়ের প্রয়োজন ছিল ৬ রান। এবারও মাহমুদউল্লাহ নিয়েছেন ৩ উইকেট। চিটাগংয়ের হার ৪ রানে।

আসলেই কি জাদু জানেন মাহমুদউল্লাহ? দুই দিনের ব্যবধানে আরও একটি নাটকীয় জয়ের মধ্যমণি খুলনা টাইটাইনস অধিনায়ক লাজুক হাসেন, ‘জানি না। হয়ে গেছে। এর বাইরে সত্যিই কিছু জানি না। খুব নার্ভাস লাগছিল। আমার এখনো হাত ঘামছে! চেষ্টা করেছি নবীকে যতটা সম্ভব কম স্ট্রাইক দিতে। চতুরাঙ্গার উইকেটটা ওই সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রথম বলটা ডট হওয়ার পর ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাই।’

অসাধারণ বোলিং করেছেন খুলনার দুই পেসার শফিউল ইসলাম-কেভিন কুপার। শফিউল ২৮ রানে ৪ উইকেট ও কুপার ১৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে চিটাগংকে ভালোই চাপে রাখেন। রাজশাহীর বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ সফল হয়েছিলেন শেষ ওভারে।

তবে সেই অভিজ্ঞতা থেকে নয়, মাহমুদউল্লাহ জানালেন, মূল বোলারদের কোটা শেষ হয়ে যাওয়ায় শেষ ওভারেই তাঁর আসা, ‘এ ছাড়া উপায় ছিল না। চিন্তা করেছিলাম দলের সেরা বোলারদের বলগুলো যদি রেখে দিই, সেটা ব্যবহার করা যাবে না পরে। তাদের আগেই ব্যবহার করতে চেয়েছি।’

ম্যাচটা প্রায় জিতিয়েই ফেলেছিলেন চিটাগংয়ের মোহাম্মদ নবী আর চতুরাঙ্গা ডি সিলভা। ৩০ বলে তাদের প্রয়োজন ৫০ রান। সপ্তম উইকেটে ২৫ বলে ৪৫ রান যোগ করে ম্যাচটা প্রায় হাতের মুঠোয়ও এনে ফেলেছিলেন নবী-ডি সিলভা। কিন্তু শেষ ওভারে মাহমুদউল্লাহর ভেলকিতে আরেকটি পরাজয়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে চিটাগংকে।

জিততে জিততে এভারে হেরে যাওয়ায় সতীর্থের ওপর উষ্মা লুকাননি চিটাগং অধিনায়ক তামিম, ‘একজন ব্যাটসম্যানকে ২০ বার বার্তা পাঠানোর পরও যদি সে ভুল করে তাহলে বুঝতে হবে ওর স্কিলে সমস্যা না থাকলেও মাথায় কোনো সমস্যা আছে! এই পর্যায়ে যদি ডাল-ভাতের মতো খাইয়ে দিতে হয়, দুঃখিত, বলতেই হচ্ছে সে এখানে খেলার যোগ্যতাই রাখে না।’
ব্যাটসম্যানের নামটা অবশ্য বলতে চাইলেন না তামিম। তবে অনুমান করাই যায় তিনি মাহমদুউল্লাহর তিন শিকারের একজন হবেন। চিটাগংয়ের হারে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরাও কিন্তু কম দায়ী নয়। প্রথম ১০ ওভারে তাই ৩৮ রান এসেছে ৪ উইকেটে। বাউন্ডারি মাত্র দুটি।

এর আগে খুলনা যেভাবে ব্যাটিং শুরু করে, সেভাবে শেষ করতে পারেনি। দুই ওপেনার ১৮ বলেই করে ফেলেন ৩৪ রান। পরের ৩৪ বলে খুলনা তুলেছে ১৮ রান, হারিয়েছে ৪ উইকেট। এর মধ্যে আছে মাহমুদউল্লাহর উইকেটটিও। মিড উইকেট থেকে উল্টো দৌড়ে খুলনা অধিনায়কের চোখধাঁধানো ক্যাচ নিয়েছেন তামিম। ষষ্ঠ উইকেটে নিকোলাস পুরান-আরিফুল হকের ৪৮ রানে খুলনা পায় লড়াইয়ের পুঁজি।

বিপিএলে এখন ১২৭ রানও চ্যালেঞ্জিং স্কোর! রানটা শেষ পর্যন্ত পেরোতেও পারেনি চিটাগং। যেভাবে লো স্কোরিং ম্যাচ হচ্ছে তাতে উইকেট নাকি দায়ী ব্যাটসম্যানরাই প্রশ্নটার উত্তর খোঁজার সময় হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email