আবারও রোনালদোর ঝলক, কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ চার বছরে তিনবার শিরোপা জেতা রিয়াল মাদ্রিদকে থামাতে পারলো না প্যারিস সেন্ত জার্মেই। তাদেরকে বিদায় করে টানা অষ্টমবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলো জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা।

রিয়ালের মাঠে প্রথম লেগ হারলেও ঘুরে দাঁড়াতে মানসিকভাবে সব ধরনের বন্দোবস্ত করে রেখেছিল উনাই এমেরির দল। প্রাণভোমরা নেইমারের শূন্যতা যেন চাপ না ফেলে, সেই প্রস্তুতিও ছিল তাদের। দর্শক সমর্থকদের উত্তাপের আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল ম্যাচের  একদিন আগে থেকেই। কিন্তু কোনও কিছুতেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ৩-১ গোলে হারের ক্ষত সারাতে পারলো না পিএসজি। আবারও তারা দেখলো রোনালদোর ঝলক। মঙ্গলবার পার্ক দে প্রিন্সেসে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগ রিয়াল জিতলো ২-১ গোলে। দুই লেগে ৫-২ গোলের অগ্রগামিতায় চ্যাম্পিয়নস লিগে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো গত দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা।

প্যারিসে প্রথম ৪৫ মিনিট তেমন ভালো কাটেনি স্বাগতিকদের। রিয়ালের বিপক্ষে মাত্র তিনটি শট নিতে পেরেছে তারা, যেটা ঘরের মাঠে ২০১৫ সালের অক্টোবরের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে কম।

এগিয়ে না থাকায় আফসোস নিয়ে বিরতিতে যেতে হয় কাইলিয়ান এমবাপেকে। ৪৩ মিনিটে ডিবক্সে ঢুকে মাঝে থাকা এদিনসন কাভানিকে পাস না দিয়ে নিজেই শট নেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। তাকে লক্ষ্যভেদ করতে দেননি কেইলর নাভাস। কয়েক মুহূর্ত আগে আনহেল দি মারিয়ার প্রচেষ্টা বিফল করে দেন রিয়াল গোলরক্ষক।

পিএসজির মতো সুযোগ নষ্টের মাশুল দিয়েছিল রিয়ালও। ১৮ মিনিটে কর্নার থেকে মার্কো আসেনসিও বল পাঠান স্বাগতিকদের গোলপোস্টের বেশ কাছে। তীব্র গতির শট নেন সের্হিয়ো রামোস, কিন্তু রিয়াল অধিনায়কের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন আরেওলা। পিএসজির এই গোলরক্ষকের কারণে করিম বেনজিমা ৩৮ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন। ৩৮ মিনিটে মার্সেলোর দূরপাল্লার শট স্বাগতিকদের রক্ষণ ফাঁকি দেয়, বেনজিমা একা আরেওলাকে পেলেও ব্যর্থ হন। পিএসজি গোলরক্ষক বাঁ পা বাড়িয়ে দিয়ে বলের গতিপথ পাল্টে দেন।দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি নতুন উদ্যোমে খেলা শুরু করে। ৫০ মিনিটে কাভানির বাঁ পায়ের শট ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে চলে যায় মাঠের বাইরে। পরের মিনিটেই স্বাগতিক দর্শকদের নিস্তব্ধ করে দেন রোনালদো। ৫১ মিনিটে দানি আলভেস পায়ে বল রাখতে পারেননি। আসেনসিও বল দেন ভাসকেসকে, তার বিপজ্জনক ক্রস থেকে ব্যাকপোস্টের সামনে দাঁড়ানো রোনালদো শক্তিশালী হেডে জালে জড়ান।

এই গোলেই চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৯ ম্যাচে গোল করলেন রোনালদো। ২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রুড ফন নিস্টলরয় একই কৃতিত্ব গড়েছিলেন। ডাচ ফুটবলারের গোল ছিল ১২টি, আর পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর ১৪টি।

পিছিয়ে পড়া পিএসজি ৬৬ মিনিটে হয়ে যায় ১০ জনের। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়ায় মাঠ ছাড়তে হয় মার্কো ভেরাত্তিকে। একজন কম নিয়ে খেললেও ৫ মিনিট পরই আশা জাগানিয়া গোল পায় স্বাগতিকরা। ৭১ মিনিটে পাস্তোরের হেড রিয়ালের ডিফেন্ডার রুখে দিলেও ফিরতি শটটি কাভানির গায়ে লেগে জালে জড়ায়। তার দুই মিনিট আগে মার্সেলোর ক্রসে আসেনসিওর ভলি গোলপোস্টে লাগলে রিয়ালের ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি।

অবশ্য ৮০ মিনিটে রিয়াল পিএসজির শেষ আশাও ভেস্তে দিয়েছে আরেকবার এগিয়ে গিয়ে। কাসেমিরোর ক্রস র‌্যাবিওট বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হন, রোনালদো আলতো ছোঁয়ায় ফিরতি পাস দেন তাকে। এবার ঠিক লক্ষ্যভেদ করেন কাসেমিরো। ৮২ মিনিটে রোনালদোর শট পোস্টে লাগলে প্রথম লেগের মতো ৩-১ গোলে জিততে পারেনি রিয়াল।

রিয়ালের সঙ্গে একই দিন কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিভারপুল। এনফিল্ডে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগ তারা গোলশূন্য ড্র করেছে পোর্তোর সঙ্গে। প্রথম লেগ ৫-০ গোলে জেতায় এই ড্র কোনও বাধা তৈরি করেনি তাদের সামনে। দুই লেগে ৫-০ গোলের অগ্রগামিতায় ২০০৯ সালের পর প্রথমবার শেষ আটের টিকিট কাটলো ইংলিশ ক্লাবটি।

Print Friendly, PDF & Email