‘আয়রন লেডি’কে হারিয়ে ডির‌্যাডোর অবসর

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : আমেরিকান মায়া ডির‌্যাডোর হাতের নখ ভাঙল। পুলের দেওয়ালের আঘাতে। হাঙ্গেরির ‘আয়রন লেডি’ কাতিনকা হসজু এতটাই ক্লান্ত যে বমি করে ফেললেন। এই দুই নারী সাঁতারু দাঁতে দাঁত চেপে লড়েছেন মেয়েদের ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে। শেষ পর্যন্ত রিও অলিম্পিকে নিজের প্রথম ব্যক্তিগত সোনা জিতলেন ডির‌্যাডো। তাও কানতিকাকে হারিয়ে! লৌহমানবী জিতেছেন এই ইভেন্টের রুপা।

সাঁতার ছাড়াও আরো খেলাই বাইরে আরো অনেক ইভেন্টের সাথে জড়িত ২৭ বছরের কাতিনকা। ব্যস্ততা অনেক। হাঙ্গেরির ইতিহাসের সেরা সাঁতারুর চোখ ছিল রিওতে তার চতুর্থ সোনা জিতে নেওয়ার দিকে। কিন্তু শেষ কয়েক মিটারের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৩ বছরের ডির‌্যাডো হারিয়েছেন তাকে। ডির‌্যাডোর টাইমিং ২ মিনিট ০৫.৯৯ সেকেন্ড। কাতিনকার ২ মিনিট ০৬.০৫ সেকেন্ড।

কানাডার হিলারি কাল্ডওয়েল ২ মিনিট ৭.৫৪ সেকেন্ডে জিতেছেন ব্রোঞ্জ। ডির‌্যাডো রিও থেকে জিতলেন তার চতুর্থ পদক। ৪x২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলেতে সোনা, কানিতকার পেছনে থেকে ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে রুপা ও ২০০ মিটার মিডলেতে ব্রোঞ্জ জিতেছেন। এটা তার প্রথম অলিম্পিক। এবং শেষও সম্ভবত। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ম্যানেজেমন্ট সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গ্র্যাজুয়েট ডির‌্যাডো।

ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং ফার্মে গেমসের পর নতুন ক্যারিয়ার শুরু করতে যাচ্ছেন। বিদায়ের বার্তা সোনা জিতেই দিয়ে দিলেন ডির‌্যাডো, “এটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার চেয়েও বেশি। আমি তিনটি ইভেন্টে পদক পেতে চেয়েছিলাম। পরে আমাকে রিলেতেও নেওয়া হলো। এটা আমার জীবনের সেরা সম্মান।” ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক, ২০০ ও ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলে জিতেছেন। রিওতে তিনবার জলে নেমে তিনবারই সোনা তুলে এনেছেন লৌহমানবী কাতিনকা। অথচ আগের তিন অলিম্পিকে একটিও সোনা জিততে পারেননি।

ব্যক্তিগত ইভেন্টে নারী হিসেবে এক অলিম্পিকে সর্বোচ্চ চারটি সোনা জয়ের রেকর্ডের হাতছানি ছিল সামনে। পারলেন না। কিন্তু হতাশ কি কাতিনকা? মোটেও না। তার মুখেই শুনুন, “তিনটি সোনা আগে জিতেছি। এটা ছিল বোনাস ইভেন্ট। এখানে এসেও তিনটি সোনা জেতার কল্পনা করতে পারিনি। আগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও চারটি পদক জিতিনি কখনো। তাই এখানে যা হলো তা অবিশ্বাস্য।”

Print Friendly, PDF & Email