উইকেট না হারিয়ে স্বচ্ছন্দেই প্রথম সেশন পার করলো টাইগাররা

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ককাইল জার্ভিসের করা দিনের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ধারণা করা হচ্ছিলো, হয়তো প্রথম সেশন থেকেই সাবলীল ব্যাটিংয়ে রানের গতি সচল রাখবেন অপরাজিত সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহীম ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু এ দুই ব্যাটসম্যানের মনে চলছিল ভিন্ন ভাবনা।

তাই তো সেশনের বাকি সময়টা খেললেন রয়ে-সয়ে, নিজেদের উইকেট বাঁচিয়ে রেখে সেশনে ত্রিশ ওভার ব্যাট করে বাংলাদেশ রান করেছে মাত্র ৬২। পাঁচ উইকেটে ৩৬৫ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে পুরো সেশনে কোনো উইকেট হারায়নি স্বাগতিকরা। প্রথম দিনে করা ১১১ রানের সাথে ২৪ রান যোগ করেছেন মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত রয়েছেন ৩৫ রান নিয়ে।

প্রথম দিন সকালের মতোই দ্বিতীয় দিনেও সকালের প্রথম ঘণ্টায় বেশ সুইং ও ম্যুভমেন্ট পাচ্ছিলেন জিম্বাবুয়ের বোলাররা। তাদেরকে পালটা চ্যালেঞ্জ না জানিয়ে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ দিয়েছেন ধৈর্য্য ও আত্মসংযমের পরীক্ষা। যে পরীক্ষায় লেটার মার্কসসহ উৎরে গেছেন দুজনই।

আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল হক জানিয়েছিলেন, উইকেটের চরিত্র ও গতিবিধি মাথায় রেখে ম্যাচের প্রথম ইনিংসটা গুরুত্বপূর্ণ। আর প্রথম ইনিংসে মোটামুটি বড় সংগ্রহ গড়তে প্রথম সেশনটা খেলতে হতো দেখেশুনে। সে কাজে পুরোপুরি সফল দুই ‘ভায়রা ভাই’ মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিক।

দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টায় মুশফিক ৩৬ বল খেলে করেন কেবল ৪ রান, মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে ৪৮ বলে ১৫ রান। ১৪ ওভার খেলে বাংলাদেশ করে ২২ রান। এ চিত্র খুব একটা বদলায়নি দ্বিতীয় ঘণ্টাতেও। এ সময় ১৬ ওভারে আসে ৪০ রান।

মুশফিকুর রহীমের ব্যাটিংয়ে স্পষ্ট ছিলো উইকেট আগলে রেখে অপর প্রান্তে থাকা মাহমুদউল্লাহকে সাহস যুগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। শেষ ৮ ইনিংসে সর্বসাকুল্যে মাত্র ৫৮ রান করা মাহমুদউল্লাহর জন্য এ টেস্টে রান করা কেবল দায়িত্বই নয়, হয়ে গেছে ফরজ কাজ। তাই একপ্রান্ত আগলে রেখে অধিনায়ককে নির্ভার রাখেন মুশফিক। যাতে নিজের সহজাত খেলাটা খেলতে পারেন মাহমুদউল্লাহ।

প্রথম সেশনে এখনো পর্যন্ত রানে ফেরার মিশনে বেশ এগিয়ে গেলেন মাহমুদউল্লাহ। ধৈর্য্যশীল ও দায়িত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ে সেশন শেষে তার রান ১০৪ বলে ৩৫। হাঁকিয়েছেন তিনটি চার। অন্যদিকে দিনের ২৫তম ওভারে আজকের প্রথম চার মারা মুশফিক ৩০৭ বল খেলে অপরাজিত রয়েছেন ১৩৫ রান করে। ষষ্ঠ উইকেট জুটির রান এখন ৬৬।

প্রথম দিনের প্রথম সেশনে মাত্র ৫৫ রান করার পরে দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ করেছিল ১৫১ রান। দ্বিতীয় দিনেও একই পরিকল্পনা নিয়েই যে ব্যাট করতে নেমেছেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ; তা বোঝা গিয়েছে সহজেই। এ দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন ৬৬ রানের জুটিকে আরও বড় করতে পারলে হয়তো দ্বিতীয় ইনিংসে আর ব্যাট করতে হবে না স্বাগতিকদের। ইনিংস ব্যবধানের জয় দিয়েই ভোলা যাবে সিলেট টেস্টে হারের ক্ষত।

Print Friendly, PDF & Email