এই কুস্তিগির স্ত্রী এবং ছেলেকে খুন করে আত্মঘাতী হন।

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকটা বছর। ডব্লিউডব্লিউই সুপারস্টার ক্রিস বেনোয়া পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গিয়েছেন বহুদূরে। শুধু তিনিই নন, তাঁর সঙ্গেই স্ত্রী ও পুত্রও তারাদের দেশে চলে গিয়েছেন।

শোনা যায়, বেনোয়া তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে খুন করে নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন। আর তাঁর মৃত্যু এতটাই আলোড়ন তৈরি করে যে ডব্লিউডব্লিউই-র নিয়মনীতিও পরিবর্তিত হয় পরবর্তীকালে। কুস্তিজগতে বেনোয়ার সুনাম রয়েছে। তিনি লড়াকু, সাহসী।

বাঘা বাঘা কুস্তিগিরও তাঁর সঙ্গে লড়তে ভয় পেতেন। এ হেন চল্লিশ বছর বয়সি বেনোয়া কেন যে সন্তান ও স্ত্রীকে খুন করে নিজে আত্মঘাতী হলেন, তা এখনও রহস্যই থেকে গিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পিছনের কারণ খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছিল পুলিশ। বিশেষ কিছু বেরিয়ে আসেনি।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২৪ জুন, ২০০৭-এ। স্ত্রীকে খুন করে পুলের জলে ফেলে রাখেন বেনোয়া। পরেরদিন সকালে ছেলেকেও বীভৎস ভাবে খুন করেন তিনি। তার পরে নিজেই নিজেকে শেষ করে দেন। পুলিশ এসে ভাল করে খতিয়ে দেখে মৃতদেহগুলো। এবং তার পরে সিদ্ধান্তে আসে বেনোয়ার মস্তিষ্ক-বিভ্রম হয়েছিল। কাউকেই তিনি চিনতে পারতেন না। স্ত্রী এবং সন্তানকে নিকেশ করার সময়ে তিনি হয়তো তাঁদের কাউকেই চিনতে পারেননি।

ডব্লিউডব্লিউই-র দুনিয়ায় বেনোয়ার ‘ক্রিপলার ক্রস—ফেস’-এর মোকাবিলা কেউ করতে পারতেন না। পুলিশ জানিয়েছে বেনোয়া তাঁর বিখ্যাত এবং কুখ্যাত ‘ক্রিপলার ক্রস—ফেস’ মুভের মাধ্যমে খুন করেছেন ছেলেকে।

পুলিশি তদন্তে এটাও বেরিয়ে এসেছে যে বেনোয়ার হৃৎপিম্ড স্বাভাবিক মানুষের থেকে তিনগুণ বেশি বড় ছিল। আর বেশিদিন তিনি বাঁচতেনও না। আবার অনেকেই বলেছেন বেনোয়ার শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা খুব বেশি হয়ে গিয়েছিল। কারণ তিনি বহুল পরিমাণে ড্রাগ নিতেন।

মৃত্যুর দিনকয়েক আগে তিনি বারবার করে নেট খুঁজে দেখেন, খুব সহজে মানুষের ঘাড় কীভাবে ভেঙে দেওয়া যায়। অনেকেই বলে থাকেন, সব কিছু জেনেবুঝেই বেনোয়া তাঁর ছেলে ও স্ত্রীকে খুন করে তথ্য লোপাট করার জন্য নিজেই আত্মঘাতী হয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email