এই মেসির মধ্যে নেতা হওয়ার গুণ নেই : মারাডোনা

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কএকটি নিখোঁজ সংবাদ। একটি নিখোঁজ সংবাদ। লিওনেল মেসি নামের একজন ফুটবলার, সর্বকালের সেরা হওয়ার দাবিদার, ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী; ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচে হারিয়ে গেছে। তার পরনে ছিল আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা ১০ নম্বর জার্সি। যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি… না, এমন নিখোঁজ সংবাদ এখনো প্রকাশিত হয়নি। হলেই–বা দোষের কী!

গত ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দলকে তিনিই ডুবিয়েছেন। ওই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করার সুযোগ হাতছাড়ার খেসারত আর্জেন্টিনাকে হয়তো আরও বড় করে দিতে হবে। এখনো একটি ম্যাচ বাকি। এমনও হতে পারে, প্রথম ম্যাচের সেই পেনাল্টি মিস করার ব্যর্থতাই আর্জেন্টিনাকে একটুর জন্য তুলে দিতে পারল না দ্বিতীয় রাউন্ডে।

মেসির সামনে সুযোগ ছিল ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার। সুযোগ ছিল সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার। সুযোগ ছিল ভিআইপি গ্যালারিতে বসে থাকা ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে এই বার্তা দেওয়ার, হ্যাঁ, আমিই আপনার যোগ্য উত্তরসূরি। আর এমন ম্যাচে মেসি তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে ম্যাচটাই খেললেন। একটি মুহূর্তের জন্য মেসিকে আলাদা করে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ম্যাচে মেসি খেলেছেন, এমন মুহূর্তের ছবি তোলার মতো যথেষ্ট সুযোগই আলোকচিত্রীরা পাননি।

তবে একটি ছবি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। সেটিও ম্যাচের শুরুতে। জাতীয় সংগীতের জন্য সতীর্থদের সঙ্গে সার বেঁধে দাঁড়ানো মেসিকে দেখা গেল, রাজ্যের চাপ তখনই ভর করে বসেছে। এই চাপ মেসি নিতে পারছেন না কিছুতেই। এক হাত দিয়ে কপাল টিপলেন। যেন তীব্র যন্ত্রণা সেখানে। দুশ্চিন্তার পাহাড় বোঝা চাপ মেসি নিতে পারছেন না। অথচ খেলা শুরুর বাঁশি বাজার তখনো মিনিট কয় বাকি!

ম্যাচের আগেই যে খেলোয়াড় এভাবে ভেঙে পড়েন, ম্যাচে সিংহসাহস নিয়ে সামনে থেকে তিনি নেতৃত্ব দেবেন কী করে? প্রথমার্ধে মেসি কেবল হাঁটলেন। বল পায়ে গেল হাতে গোনা কয়েকবার। মেসির কাছে পাসই গেল মাত্র দুবার। ৪৫ মিনিটে মেসিকে তাঁর সতীর্থরা মাত্র দুবার পাস দিয়েছেন, এই পরিসংখ্যান তাঁর প্রায় ৬০০ ম্যাচের ক্যারিয়ারে আগে কখনো হয়নি, তা লিখেই দেওয়া যায়।

শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের হার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। এই ম্যাচের পর আবারও প্রশ্ন উঠে গেছে, মেসি কি আসলেই চাপ নিতে পারেন না? এই মেসি একাই বাছাইপর্বে হ্যাটট্রিক করে দলকে টেনে তুলে এনেছেন চূড়ান্ত আসরে; এই স্মৃতিও এখন মনে হচ্ছে কত কাল আগের! সেই স্মৃতি ভুলিয়ে দেওয়ার দায়ও তো কেবল মেসির।

বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে তাঁর প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হ্যাটট্রিক করে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ ড্র করালেন। পরের ম্যাচে একমাত্র গোলটিও করলেন একটা সুযোগ পেয়েই।

আর মেসি ৯০ মিনিটে একবারও প্রতিপক্ষের বক্সে হুমকি হয়ে উঠতে পারলেন না। দ্বিতীয়ার্ধে একটা সুযোগ পেয়েছিলেন জটলার ভেতরে। বাঁ পায়ে কিকও নিয়েছিলেন পড়ে থাকা গোলরক্ষকের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে। কিন্তু ক্লাব–সতীর্থ ইভান রাকিতিচ স্লাইডিং ট্যাকলে সেই বল ক্লিয়ার করেছেন। ক্ষণিকের এই ছবিটা ছাড়া পুরো ম্যাচে মেসি কোথায়?

ম্যারাডোনা ঠিকই বলেছেন। এই মেসির মধ্যে নেতা হওয়ার গুণ নেই। অথচ আর্জেন্টিনার মতো একটা খোঁড়া দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একজন নেতা। অধিনায়ক নন; নেতা। যিনি মাঝারি সারির খেলোয়াড়দের ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনতে উদ্দীপিত করবেন। এখন তো দেখা যাচ্ছে, মেসিরই উজ্জীবনামন্ত্র সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন!

ম্যাচ এখনো একটা বাকি আছে। নাইজেরিয়া-আইসল্যান্ড ম্যাচের ফলের পর বোঝা যাবে, শেষ ম্যাচে কী সমীকরণের সামনে দাঁড়াবে আর্জেন্টিনা। শেষ ম্যাচ জিততেই হবে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। যে নাইজেরিয়া কিছুদিন আগে প্রস্তুতি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে অপমানিত করেছে। তাদের বিপক্ষে জিতলেও সেখানে গোল ব্যবধানের প্রশ্ন আসবে। প্রশ্ন আসবে, শেষ ম্যাচ ক্রোয়েশিয়া আইসল্যান্ডকে হারাতে পারে কি না, তা নিয়েও।

এত এত সমীকরণ মেলানোর পর মেসি কি পারবেন পরের রাউন্ডে যেতে? এ মুহূর্তে প্রশ্নটির একমাত্র উত্তর মনে হচ্ছে ‘না’।

Print Friendly, PDF & Email