একই সিরিজে শচীনকে ৩বার আউট করা বোলার এখন এসির মিস্ত্রি!!

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কভারতে সিরিজ খেলতে এসে একবার দিল্লির চিড়িয়াখানায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। চিড়িয়াখানায় হাতি দেখাশোনার কাজে যুক্ত এক ব্যক্তি চিনতে পেরেছিলেন তাঁকে। জানিয়েছিলেন আমার ছেলে একজন বাঁ-হাতি স্পিনার, আপনিই ওর আইডল। দিল্লি চিড়িয়াখানার ওই ঘটনা কোনওদিন হয়তো ভুলবেন না জিম্বাবোয়ের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি রেইমন্ড প্রাইস। ১৪ বছরের দীর্ঘ ক্রিকেট কেরিয়ারে ঝুলিতে ৮০টি টেস্ট উইকেট। কেরিয়ারের সায়াহ্নে একবার সচিন তেন্ডুলকরের নেতৃত্বে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে খেলার সুযোগ হয়েছিল।

কেকেআরের বিরুদ্ধে ২০১১ মাত্র একটাই আইপিএল ম্যাচ খেলেছিলেন। পরে কিছুটা আক্ষেপের সুরেই জানিয়েছিলেন আর একটা ম্যাচে সুযোগ পেলে নিজেকে প্রমাণ করে দিতাম। এহেন জিম্বাবোয়ে বাঁ-হাতি স্পিনার ক্রিকেটজগতে সমীহ আদায় করে নিয়েছিলেন ২০০২ ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে এসে। নাগপুর টেস্টে দুই ইনিংসেই প্রাইসের শিকার হয়েছিলেন মাস্টার-ব্লাস্টার। এরপর ওই সিরিজেই দিল্লি টেস্টে প্রথম ইনিংসে সচিনকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়েছিলেন প্রাইস। খোদ তেন্ডুলকর মুগ্ধ ছিলেন প্রাইসের বোলিংয়ে।

ক্রিকেটবিশ্বের সমীহ আদায় করে নেওয়া সেই জিম্বাবোয়ে স্পিনার এখন একজন এয়ার কন্ডিশন মেকানিক। মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি মেশিন সারাই করে বেড়ান একই সিরিজে তিনবার সচিনকে আউট করা জিম্বাবোয়ের প্রাক্তন বাঁ-হাতি স্পিনার। ২০১৩ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর হারারেতে একটি খেলাধূলার সরঞ্জাম বিক্রির দকান খুলেছিলেন প্রাইস। কিন্তু শুধুমাত্র সেই দোকান প্রাইসের অন্ন সংস্থান করে উঠতে পারেনি। তাই পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে এসি সারাইয়ের কাজে নেমে পড়া।

১৯৯৯ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেকের পর ২২টি আন্তর্জাতিক টেস্টে ৮০টি উইকেট রয়েছে প্রাইসের নামের পাশে। এক ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন পাঁচবার। জিম্বাবোয়ের জার্সি গায়ে ১০২টি ওয়ান-ডে ম্যাচে প্রাইসের ঝুলিতে রয়েছে ১০০টি উইকেট। উল্লেখ্য, ২০০২ দেশের মাটিতে প্রাইসের বোলিংয়ে সচিন তেন্ডুলকর এতোটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে ন’বছর বাদে আইপিএলে তাঁকে দলে নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেননি ভারতীয় ক্রিকেটের মহীরুহ। যদিও একটিমাত্র ম্যাচেই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ হয়েছিল চল্লিশোর্ধ্ব প্রাক্তন স্পিনারের। 

Print Friendly, PDF & Email