করোনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের যেসব সিরিজ বাতিল হয়ে গেল

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ককরোনায় সব কিছু পাল্টে দিয়েছে। বাইরে নয় দেশের ক্রিকেটও। ক্রিকটে নিয়ে নেই সেই রোমাঞ্চ।  একের পর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট হয়েছে স্থগিত। আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর সূচিতে তাকালে আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না। এখন জেনে নিন করোনার কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেটের কোন কোন সিরিজ স্থগিত হলো।

বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এক টেস্ট ও একটি ওয়ানডে খেলতে পাকিস্তানের বিমান ধরার কথা ছিল বাংলাদেশের। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে তখনো করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেনি। তবু ঝুঁকি নিয়ে বিদেশ সফর আয়োজন করতে চায়নি দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড। মার্চের মাঝামাঝি সময়েই আসে সিরিজ স্থগিতের ঘোষণা। পাকিস্তান সফর স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা মনোযোগ দেয় প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে। এক রাউন্ডের ছয় ম্যাচ খেলার পর প্রিমিয়ার লিগও বন্ধ করতে হয় ক্রিকেট বোর্ডকে।

বাংলাদেশের আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফর
মে মাসে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে লিগের তিনটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। আইরিশদের মাটিতে বাংলাদেশের টেস্টও খেলার কথা ছিল। কিন্তু আইরিশ বোর্ডের আর্থিক সমস্যার কারণে টেস্টের বদলে চারটি টি-টোয়েন্টি যোগ হয় সিরিজে। ভেন্যু সংকটের কারণে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলো ইংল্যান্ডে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সব আয়োজন ভেস্তে যায় করোনাভাইরাসের কারণে।

অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর
২০১৭ সালের পর আবার অস্ট্রেলিয়া আসবে বাংলাদেশে। খেলবে দুটি টেস্ট। ঘরের মাঠে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। নিজেদের কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ হারাবে অস্ট্রেলিয়াকে জুন মাসে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ এমন কতই না আশা ছিল দর্শকদের মনে। বিসিবি বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতি ম্যাচের সময়সূচিও ঘোষণা করেছিল। কিন্তু করোনার ঝুঁকিতে সিরিজ গেল জলে।

বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর
ঘরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্ট সিরিজ শেষ হতে না হতেই শ্রীলঙ্কায় উড়াল দেওয়া কথা মুমিনুলদের। জুলাই মাসে দ্বীপরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তিন টেস্ট খেলার কথা ছিল। করোনার কারণে সফরটি পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে নিয়ে যাওয়ার কথা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্থগিতই করতে হয় সিরিজটি। তবে স্থগিত হওয়া সিরিজটিই সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আয়োজনের চেষ্টা করছে দুই বোর্ড। শ্রীলঙ্কা সিরিজ দিয়েই হয়তো বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা বেশি।

নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর
আগস্টে বাংলাদেশে দুই টেস্ট খেলতে আসার কথা ছিল কেন উইলিয়ামসনের নিউজিল্যান্ড দলের। বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জন্য আদর্শ না। নিউজিল্যান্ডে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ক্রিকেটাররা ছিল গৃহবন্দী। স্থগিত হওয়াই ছিল সিরিজের ভাগ্য।

এশিয়া কাপ-বিশ্বকাপ
সেপ্টেম্বরে টি-টোয়েন্টির এশিয়া কাপ মাঠে গড়ানোর কথা। আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা এশিয়া কাপ সামনে রেখে অনুশীলনও শুরু করেছিল। প্রস্তুত ছিল পাকিস্তানও। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট ছিল গৃহবন্দী। শেষ পর্যন্ত এবারের এশিয়া কাপ পিছিয়ে যায় এক বছর।

অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় হওয়ার কথা ছিল বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি। অস্ট্রেলিয়ায় করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলেও সম্প্রতি দেশটির কিছু কিছু জায়গায় করোনার প্রকোপ আবার বাড়ছে। উপমহাদেশও এখনো করোনামুক্ত নয়। সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জায়গা হয় ২০২২ সালে। ২০২১ সালে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে, আগেই নির্ধারিত ছিল।

বাংলাদেশ দলের নিউজিল্যান্ড সফর
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য অক্টোবরেই নিউজিল্যান্ডে তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার কথা বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি খেলেই বিশ্বকাপে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। বিশ্বকাপ পিছিয়ে যাওয়ায় সিরিজও হচ্ছে না।

নারী বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব
চলতি জুলাই মাসে ২০২১ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব হওয়ার কথা ছিল। শ্রীলঙ্কার মাটিতে টুর্নামেন্টে খেলার কথা ছিল বাংলাদেশ নারী দলের। করোনার কারণে আইসিসির টুর্নামেন্টটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email