করোনা নিয়ে আমার খুব ভয় লাগছে : সানিয়া

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ককরোনার জেরে স্থগিত হয়েছে গিয়েছে টেনিসের সব টুর্নামেন্ট। সারা বিশ্বে এখনও পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ হাজারে। আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লক্ষ।

আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে এই মারণ ভাইরাস। যেসময় ইন্ডিয়ান ওয়েলস বাতিল হয়ে গেল, আমি মনে করি, সেইসময় সকলেই বেশ অবাক হয়েছিলাম। বেশ চিন্তিতও হয়ে পড়েছিলাম। ঠিক আছে, আর এটাই এখন বাস্তব। সত্যি বলতে এখন বেশ ভয় লাগছে ব্যাপারটায়। করোনা প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য ভারতের টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার।

দুবাই থেকে হায়দরাবাদে ফেরার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছেন সানিয়া। তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফেরার অভিজ্ঞতা বেশ তিক্ত। বাড়ি ফেরার একদিন আগেই লস অ্যাঞ্জেলস থেকে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু উড়ানে বসার পর পাঁচ মিনিট পরই ইঞ্জিনে ত্রটি ধরা পড়ে, আমি আর আমার বাবা (ইমরান মির্জা) বিমান থেকে নেমে যাই। আমাদের বিমান বাতিল হয়ে যায়। পরের দিন আমরা ফের উড়ান ধরি।

দেশে ফেরার পরই বাড়িতে স্বেচ্ছাবন্দির সিদ্ধান্ত নিই আমরা। এছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল না আমার ও বাবার। হায়দরাবাদে বিমান ল্যান্ড হওয়ার পর স্ক্রিনিং হয় দুজনের। স্বাভাবিক যে নিয়মগুলো ছিল সেগুলি সব করা হয়। তারপর ট্রাভেল হিস্ট্রি, বিস্তারিত তথ্য এসব দিয়ে কিছু ফর্ম পূরণ করতে হয়। বাড়ি ফেরার পথেই আমরা হোম আইসোলেশনের সিদ্ধান্ত নিই। মনে করি, এটা সব ব্যক্তিরই করা উচিত। আর এটি করতে পেরে আমি নিজেই গর্বিত।

বিদেশ থেকে ফিরে এসে অনেকেই হোম কোয়ারানচিনে থাকছেন না। ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই মারণ ভাইরাস। এ প্রসঙ্গে বেশ ক্ষুব্ধ সানিয়া। তবে তিনি এও মনে করে সকলেরই নিজের কাজের থেকে একটু ব্রেক নেওয়া দরকার। আর সেই সময়টা আসলে এখনই। ছেলের যত্নের পাশাপাশি বাড়িতে বসেই নেটফ্লিক্সে সিনেমা দেখার মজা নিচ্ছেন তিনি।

পরিবারের সঙ্গে চুটিয়ে সময় কাটাচ্ছেন ঠিকই। পাশাপাশি টেনিস থেকে বিরত থাকছেন না সানিয়া। প্রতিদিন ফিটনেসের দিকে নজর রেখে ট্রেনিং চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘরের মধ্যেই রয়েছে টেনিস কোর্ট। সেখানেই নিজের জগতে ডুবে থাকেন তিনি।

সবশেষে অলিম্পিক নিয়েও তিনি চিন্তিত। করোনার জেরে এক বছর পিছিয়ে গিয়েছে অলিম্পিক। আর সেটা যে হব তার আগাম একটা বার্তা ছিলই। আর এই সিদ্ধান্ত হয়তো আরও ভালো পারফর্ম করার অন্যতম উপায় হয়ে গেল। সুরক্ষিত পরিবেশে আমরা সবাই নিজের নিজের প্রতিভা প্রকাশ করতে পারব। আর সেটাই হবে সবচেয়ে ভালো সময়। আষা করি সামনে বছর খুব ভালো কাটবে।

করোনা প্রসঙ্গে নিজের তো বটেই দেশবাসীর ন্যও তিনি বেশ চিন্তিত। তাই এই বাজে সময় যাতে তাডাতাড়ি মিটে যা, সেই প্রার্থনাই তিনি করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email