ক্রীড়াঙ্গনের অগ্রগতি ধরে রাখতে হবে, বললেন প্রধানমন্ত্রী

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কবঙ্গবন্ধু জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ গোল্ডকাপ ফুটবলে বরিশাল বিভাগ ২-১ গোলে চট্টগ্রাম বিভাগকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অন্য দিকে বঙ্গমাতা জাতীয় অনূর্ধ-১৭ গোল্ডকাপে খুলনা টাইব্রেকারে (৪-৩ গোলে) ঢাকাকে হারিয়ে শিরোপা  জিতেছে। শনিবার ফাইনাল শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তার আগে তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন এগিয়ে যাচ্ছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেয়েদের ফাইনাল উপভোগ করেছেন। এবছরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করতে যাচ্ছি ১৭ মার্চ থেকে। আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আমরা মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছি। তার জন্মশতবার্ষিকী আমরা ২০২০ সালে উদযাপন করবো। ২০২১ সাল পর্যন্ত উদযাপন করা হবে এই মুজিববর্ষ। এরপর ২০২১ সালেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা উদযাপন করবো।’

বঙ্গবন্ধু যে একজন ফুটবলার ছিলেন, সেটা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন তার সুযোগ্যা কন্যা, ‘আমরা ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। স্বাধীন জাতি হিসেবে সম্মান পেয়েছি। একটি রাষ্ট্র পেয়েছি। আমাদের পরিচয় পেয়েছি। ছোটবেলা থেকেই তিনি এ দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন। এবং ছা্ত্রজীবনে তিনিও একজন ফুটবলার ছিলেন। আমার দাদাও ফুটবল খেলতেন। আমার ভাইয়েরা ফুটবল খেলতো। আমার নাতি-পুতিরাও ফুটবল খেলে।’

মহান স্বাধীনতার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জাতির পিতার প্রতি আমার শ্রদ্ধা জানাই। শ্রদ্ধা জানাই ৩০ লক্ষ শহীদের প্রতি, যাদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। শ্রদ্ধা জানাই দুই লক্ষ মা-বোনের প্রতি। বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। এই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সবধরনের প্রতিযোগিতার উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে। বাঙালির প্রতিটি ছেলে-মেয়েকে আমরা গড়ে তুলবো। আজকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোল্ডকাপে বালক অনূর্ধ্ব-১৭ ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা গোল্ডকাপ অনূর্ধ্ব-১৭ তে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপসহ সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে শৈশব-কৈশোর থেকেই খেলাধুলার চর্চাটা জরুরি, ‘আমাদের শিশু-কিশোরেরা অত্যন্ত মেধাবী। সেই মেধা বিকাশে সুযোগ করে দিতে চাই সন্তানদের জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি থেকে আমাদের দূরে রেখে। শিশুদের ধীরে ধীরে তাদের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। লেখাপড়া শেখার পাশাপাশি ক্রীড়া-সংস্কৃতি চর্চা একান্ত অপরিহার্য়। আর এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের সুপ্ত মেধা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। তারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারে। এবং তাদের মন অত্যন্ত উদার হয়। সব থেকে বড় কথা হলো দেশের জন্য গৌরব নিয়ে আসা।’

ক্রীড়াক্ষেত্রে অগ্রগতি ধরে রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন শেখ হাসিনা, ‘আজকে ক্রীড়াক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি লাভ করেছি। এই অগ্রগতি আমাদের ধরে রাখতে হবে। স্বাধীনতার পর থেকে জাতির পিতা উদ্যোগ নিয়েছিলেনে ক্রীড়াক্ষেত্রটাকে আরও প্রসারিত করতে। এবং আমার ভাই শেখ কামাল, শেখ জামালসহ সবাই কিন্তু ক্রীড়ার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিল। আজকের আধুনিক ফুটবল এবং বিভিন্ন ক্লাবকে গড়ে তোলাসহ আবাহনী ক্লাব থেকে শুরু করে সবকিছু শেখ কামালের হাতে গড়া।’

খেলাধুলায় নানা সুযোগ সৃষ্টি করার কথা বলেছেন শেখ হাসিনা, ‘আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। খেলাধুলার জন্য আমি বিভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি। প্রত্যেক উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করে দি্চ্ছি। এটার অর্থ হলো সেখানে ১২ মাস খেলাধুলা চলতে পারবে। সেই সুযোগটি আমরা করে দি্চ্ছি।’

ভবিষ্যতে ফুটবলকে আরও বিস্তৃত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, ‘প্রাথমিক থেকে আজকে আমরা জাতীয় পর্যায়ে অ-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্ট করতে পেরেছি। পাশাপাশি আন্ত:কলেজ প্রতিযোগিতা এবং আন্তবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করছি। তাহলে সুবিধা হবে ছোট থেকে যারা খেলছে, তাদের খেলার সুযোগ হবে। এবং খেলাধুলার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের চরিত্র গঠন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ও মেধা বিকাশের সুযোগ পাবে। আজকের ছেলেমেয়েরা আগামীদিনের পৃথিবীতেও স্থান করে নিতে পারবে।’

Print Friendly, PDF & Email