খেলাধুলার জগতে বেশি ইনজুরি যেখানে

স্পোর্টস লাইফ ডেস্ক : জুডো খেলায় একজন খেলোয়াড়ের লক্ষ্য হচ্ছে: প্রতিদ্বন্দ্বীকে বাতাসে তুলে তারপর আবার তাকে তার পিঠের ওপর মাটিতে আছড়ে ফেলা।

অলিম্পিকে যতো খেলা আছে এই খেলাতেই আঘাত পাওয়া বা ইনজুরির হার সবচে বেশি। তারমধ্যে কোনো কোনো আঘাত খুবই গুরুতর।

যুক্তরাজ্যের জুডো দলের ফিজিওথেরাপিস্ট বেন অ্যাশওয়ার্থের সামনে এখন সবচে বড়ো চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অলিম্পিকের আগে জুডো খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে তৈরি রাখা। কেউ আহত হয়ে থাকলে তাকে সারিয়ে তোলা এবং ইনজুরি থেকে বাঁচিয়ে রাখার কৌশল শেখানো।

তিনি বলছেন, তারা চান না অলিম্পিকের আগে কেউ বড়ো ধরনের চোট পাক। কিন্তু এই প্রতিযোগিতার ঠিক আগেভাগে প্রশিক্ষণের পরিমাণ এতো বেড়ে যাবে এবং সেই সাথে বাড়বে ইনজুরির হারও।

জুডোতে ঝুঁকি

এই ইনজুরির সম্ভাব্যতা কমিয়ে আনার জন্যে আছে অনেক উপায়। প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের উপর আলাদা আলাদা গবেষণা করে এটা করা সম্ভব।

একজন জুডোকার বিশেষ দুর্বলতা ও শক্তি শনাক্ত করে সেগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রত্যেকের জন্যে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলছেন, কেলি এডওয়ার্ডসের জন্যে এখন দাওয়াই হলো ওর নিতম্বের শক্তি ও স্থিতি ধরে রাখা।

এজন্যে তাকে সপ্তাহের ছ’দিন ২০ মিনিট করে বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে। তারমধ্যে ১০ মিনিট ভারসাম্য রক্ষা, পাঁচ মিনিট তার নিজের জন্যে প্রতিরোধের কৌশল আয়ত্ত করা এবং তারপর বাকি ৫ মিনিট আইস হকি খেলা।

অলিম্পিকের আগে তাকে এই প্রশিক্ষণে বেশি মনোযোগ দিতে হচ্ছে। জুডোতে নানা রকমের ইনজুরির ঘটনা ঘটে। কিন্তু তারমধ্যে সবচে বেশি গুরুতর হাঁটুতে চোট পাওয়া। এই ইনজুরিটাও হয় বেশি

তিনি বলছেন, তাদের কোনো একজনের যদি বড়ো ধরনের ইনজুরি হয় তাহলে তা দ্রুত সারিয়ে তোলার বিশেষ কর্মসূচি আছে। প্রয়োজনে তাদের অপারেশনেরও ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা খেলায় টিকে থাকতে পারে।

অনেকেই একে বলছেন, খেলার আগেই আরেক খেলা যেখানে লড়তে হচ্ছে ইনজুরির বিরুদ্ধে।

ইনজুরি হাঁটুতে

জুডোতে নানা রকমের ইনজুরির ঘটনা ঘটে। কিন্তু তারমধ্যে সবচে বেশি গুরুতর হাঁটুতে চোট পাওয়া। এই ইনজুরিটাও হয় বেশি।

অন্যান্য ইনজুরির মধ্যে আছে পায়ের পাতার সামনের দিকে হাড় ভেঙে যাওয়া। অনেকে প্রতিপক্ষের আঘাতে জ্ঞানও হারিয়ে ফেলেন।

তবে যে ইনজুরির কারণে সবচে বেশি সময় ধরে ভুগতে হয় তা হলো হাঁটুর লিগামেন্ট ছিরে যাওয়া।

বেন অ্যাশওয়ার্থ বলছেন, তার কেরিয়ারে সবচে খারাপ ইনজুরি তিনি যা দেখেছেন তা হলো হাঁটুর একাধিক লিগামেন্টে ক্ষতি হওয়ার মতো ইনজুরি। তিনি জানান, এ ধরনের চোট পেলে একজন জুডোকাকে অন্তত এক বছর খেলার বাইরে থাকতে হয়।

তিনি বলছেন, ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে বেশি। প্রতিপক্ষকে আঘাত করার বা আঘাতের চেষ্টা করার সময়ই এই চোট পান তিনি। কারণ এসময় তারা শরীরের ওপর প্রচণ্ড ভার নিয়ে থাকেন এবং হাঁটু থেকে এই শক্তিটা অন্যের দিকে ছুঁড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে হাঁটুর লিগামেন্টের ওপর পড়ে তীব্র চাপ। এবং তখনই তা ছিঁড়ে যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

‘এটা সবচে স্পর্শকাতর ইনজুরি। এর ফলে একজন জুডোকাকে মাসের পর মাস মাঠের বাইরে বসে থাকতে হয়,’ বলেন তিনি।

জেমা হাওয়েল

যুক্তরাজ্যের অন্যতম একজন সেরা জুডোকা জেমা হাওয়েল। তার বয়স এখন ২০। বছর তিনেক আগে তিনি পোল্যান্ডে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় হাঁটুর লিগামেন্টে মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন এবং খেলা থেকে তিনি দূরে ছিলেন ৯ মাসেরও বেশি সময়।

এই ইনজুরির পর জেমাকে কীভাবে নড়তে চড়তে হবে সেটা শেখাতে হয়েছে নতুন করে কারণ অপারেশনের পর তার হাঁটু বরফের মতো জমে গিয়েছিলো।

এই ইনজুরি কাটিয়ে উঠতে তাকে বিশেষ কৌশল শেখাতে হয়েছে।

জেমা খুব শীঘ্রই এই কৌশল আয়ত্ত করে চোট থেকে সরে উঠতে পেরেছেন বলে তার চিকিৎসকরা বলছেন। শুধু তাই নয়, তারপর তিনি যথারীতি খেলায় ফিরে এসেছেন এবং সোনা জিতে নিয়েছেন।

তবে ফিজিওথেরাপিস্টরা বলছেন, শুধু যে খেলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে তা নয়, খেলার আগেও আরো অনেক কৌশল আছে যা আয়ত্ত করতে পারলে ইনজুরি এড়িয়ে চলা সহজ।

Print Friendly, PDF & Email