ঘাড়ের ইনজুরি ও করণীয়

স্পোর্টস লাইফ ডেস্ক : একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের মাঝে ৭ জন তার জীবনের কোন না কোন সময় ঘাড়ের ব্যাথায় আক্রান্ত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যাথা সামান্য হলেও, অনেক ক্ষেত্রেই এই ব্যাথা মারাত্মক হতে পারে।

সাধারণত মেরুদণ্ডের সাথে সম্পর্কযুক্ত বিভিন্ন সমস্যার কারনে এই সমস্যা দেখা দেয়। সার্ভিক্যাল স্পনডাইলসিস বা ঘাড়ের হাড় ক্ষয় জনিত রোগ থেকেও এই সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও বারেত ব্যথা ও ওস্টিওফাইটস এবং ডিস্ক পলাপস্ বা দুটি হাড়ের মধ্যবর্তী স্থানের ডিস্ক সরে গেলে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। এসকল সমস্যা ছাড়াও,

* নার্ভ বা স্নায়ুচাপজনিত ব্যাথা,
* ঘাড়ের মাংসপেশী শক্ত হয়ে গেলে,
* অনেকক্ষন কম্পিউটারের সামনে কাজ করার সময় ঘাড়ের পজিশন ঠিক না থাকলে,
* খেলাধুলা করতে গিয়ে আঘাত পেলে,
* হেড ও নেক ইনজুরির কারণে
* মেরুদন্ড জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হলে, বা হাড় ভেঙ্গে অথবা ফেটে গেলে,
* মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুমের কারনে,
* ব্লক ভার্টিব্রা থাকলে বা দুটি হাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে কোন ডিস্ক না থাকলে বা ফিউজড় হয়ে গেলে ঘাড়ের ব্যাথা হয়।

লক্ষন
* ঘাড়ে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করা, হাত দিলে ব্যাথা বেড়ে যাওয়া,
* হাতের আঙ্গুল জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, হাতে ঝিনঝিন বা জ্বালাপোড়া করা, হাত অবশ ও ভারী লাগা
* ঘাড়ের কার্যক্ষমতা বা মুভমেন্ট কমে যাওয়া, মাঝে মাঝেই ঘাড়ের পেশী সংকুচিত হয়ে যাওয়া
* মাথা ব্যাথা হওয়া, বমি আসা,
* দীর্ঘসময় কম্পিউটারে কাজ করতে না পারা, অল্পতেই মাথা ধরা,
* হাতের শক্তি কমে যাওয়া, বেশিক্ষণ লেখালেখি বা কম্পিউটারে বসে কাজ করার সময় হাত ধরে আসা

পরামর্শ 
ঘাড় আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। তাই ঘাড়ের ব্যাথায় অবহেলা করা উচিত নয়। ঘাড়ে ব্যাথার সঠিক কারন নির্ণয় করে, অভিজ্ঞ ফিজিয়থেরাপিস্ট দ্বারা ঘাড়ের ব্যায়াম গ্রহন করতে হবে। যেহেতু হাড়ের ক্ষ্যের কারনে অনেক সময় ঘাড়ে ব্যাথা হয়, তাই পর্যাপ্ত পরিমান ক্যালসিয়াম গ্রহন করতে হবে। বর্তমান যুগে মানুষ আধুনিক যন্ত্রের উপর অনেক নির্ভরশীল।

তাই দৈনন্দিন কাজ-কর্ম কম্পিউটার, ল্যাপটপ চালানোর ক্ষেত্রে ঘাড় হতে টেবিল চেয়ার ও কম্পিউটার ঠিকমতো রাখা। ভারী জিনিস বহন করা যাবে না। দূর ভ্রমনের ক্ষেত্রে সারভাইক্যাল কলার ব্যবহার করতে হবে। সেই সাথে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। এভাবে চললে ঘাড়ের ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

Print Friendly, PDF & Email